• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩০ মহররম ১৪৪২, ০২ আশ্বিন ১৪২৭

এসএমই ফাউন্ডেশনের গোলটেবিল আলোচনা

উদ্যোক্তাদের পণ্য রপ্তানিতে ১০ চ্যালেঞ্জ ও ৪ সুপারিশ বিশেষজ্ঞদের

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২০

গতকাল ৮ম জাতীয় এসএমই পণ্যমেলার দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের কাছে দেশের এসএমই খাত সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরতে একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় উদ্যোক্তাদের পণ্য রপ্তানিতে ১০ চ্যালেঞ্জ ও ৪টি সুপারিশ উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম।

নারী উদ্যোক্তাদের রপ্তানিমুখী ব্যবসার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, আত্মবিশ্বাসের অভাব ও স্বাভাবিক চলাফেরা করতে না পারা, উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্যের অভাব, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করতে না পারা, রপ্তানি বিপণন সম্পর্কে অপর্যাপ্ত ধারণা, কারিগরি জ্ঞানের অভাব, রপ্তানিযোগ্য পণ্যের অভাব, মূলধন সংকট, পণ্যের গুণগত মানের অভাব, রপ্তানি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং পরিবহন ও আবাসন সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশের নারী উদ্যোক্তাদের। এসব সমস্যা সমাধানে আইনি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সহায়তা, রপ্তানি বাণিজ্য সম্পর্কে প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো ও বিপণন সহায়তা এবং বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার-কর্মশালা ও সংলাপ আয়োজনের সুপারিশ করেছেন তারা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম ও তথ্য কমিশনার সুরাইয়া বেগম। বুধবার থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘৮ম জাতীয় এসএমই পণ্যমেলা-২০২০’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসএমই ফাউন্ডেশন এ মেলার আয়োজন করেছে। এবারের মেলায় সারাদেশ থেকে ২৯৬টি এসএমই উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। তারা ৩০৯টি স্টলে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করবেন। উদ্যোক্তাদের মধ্যে ১৯৫ জন নারী উদ্যোক্তা এবং ১০১ জন পুরুষ উদ্যোক্তা রয়েছেন। অর্থাৎ মেলায় ৬৬ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করবেন। মেলায় দেশে উৎপাদিত পাটজাত পণ্য, খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, আইটি পণ্য, প্লাস্টিক ও সিনথেটিক পণ্য, হস্তশিল্প, ডিজাইন ও ফ্যাশনওয়্যারসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের স্বদেশী পণ্য প্রদর্শিত ও বিক্রয় হবে। বরাবরের মতোই এই মেলার বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে, কোন বিদেশি পণ্য এ মেলায় প্রদর্শন কিংবা বিক্রয় করা হয় না।

এবারের মেলা পাশাপাশি অন্য বিষয়েও আয়োজন করা হয়েছে। দেশীয় পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের পাশাপাশি এ মেলায় ক্রেতা এবং বিক্রেতা মিটিং বুথ, রক্তদান কর্মসূচি, মিডিয়া সেন্টারসহ অনলাইন পণ্য মার্কেটিং বিষয়ক স্টল থাকবে। এছাড়া সরকারি সংস্থা বিসিক, বিএসইসি, বিসিআইসি, বিটাক এবং বিএসটিআই-এর পাশাপাশি মেলার স্পন্সর ব্র্যাক ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের স্টল রয়েছে। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে দেশের এসএমই উদ্যোক্তাদের অবদান ও অংশগ্রহণকে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন কর্তৃক পুরুষ ও নারী ক্যাটাগরিতে ‘জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০২০’ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২জন নারী এবং ৩জন পুরুষ উদ্যোক্তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রত্যেক বিজয়ী উদ্যোক্তাকে পুরস্কার হিসেবে এক লাখ টাকা, ট্রফি ও সার্টিফিকেট দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ৭টি জাতীয় এসএমই মেলায় ১৬ কোটি ৯৩ লাখ ১৪ হাজার টাকা পণ্য বিক্রি এবং ৩০ কোটি ১২ লাখ ১৩ হাজার টাকা পণ্যের আদেশ পেয়েছেন উদ্যোক্তারা। এছাড়া শুধু ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের ২৩টি জেলার আঞ্চলিক মেলায় প্রায় ৯ কোটি ১৬ লক্ষ টাকার পণ্য বিক্রয় এবং প্রায় ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার বিভিন্ন পণ্যের অর্ডার পাওয়া যায়। চলতি অর্থবছরে এসএমই ফাউন্ডেশন ৮ বিভাগের ৩১টি জেলা শহর যেমন : পঞ্চগড়, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, শেরপুর, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ভোলা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া, চাঁদপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় সাত দিনব্যাপী আঞ্চলিক এসএমই পণ্যমেলা আয়োজন করছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন উদ্যোক্তা এসএমই ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ, বাজার সংযোগ, পরামর্শ সেবা প্রভৃতি কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়ে উপকৃত হচ্ছেন। এসব মেলায় গড়ে ৬৫ শতাংশ নারী এবং ৩৫ শতাংশ পুরুষ উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেছেন। আগামী অর্থবছরে অবশিষ্ট ৩২টি জেলায় আঞ্চলিক এসএমই পণ্যমেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশনের।