• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

রামপাল প্রসঙ্গে

ইউনেস্কোর বক্তব্যের অপব্যাখ্যা ও দ্বৈতনীতি গ্রহণযোগ্য নয়

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭

রামপাল ইস্যুতে সরকার ইউনেস্কোর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে অভিযোগ করে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতারা বলেছেন, ইউনেস্কোর আপত্তিকে গুরুত্ব না দিয়ে সরকার যে দ্বৈতনীতি অবলম্বন করেছে; তা কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে রক্ষায় রামপাল কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সুন্দরবন সংলগ্ন যে কোন প্রকল্প থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আবারও আহ্বান জানান নেতারা। গতকাল রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ‘সুন্দরবন ও রামপাল তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা ও করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়। এ সময় সুন্দরবন রক্ষায় পাঁচদফা দাবি উত্থাপন করে কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক অ্যাড. সুলতানা কামাল। কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আবদুল মতিনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম, বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন)-এর গ্লোবাল সমন্বয়কারী অর্থনীতিবিদ ড. নজরুল ইসলাম, জাতীয় কমিটির কোর গ্রুপ সদস্য শরীফ জামিল, ঢাবির উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল আজিজ, বাপার সহ-সভাপতি স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন প্রমুখ। এসময় জাকির হোসেন, শামসুল হুদাসহ সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাড. সুলতানা কামাল বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো ‘মেমোরি অফ দি ওর্য়াল্ড, হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেটি অবশ্যই জাতি হিসেবে আমাদের জন্য গর্বের এবং বড় প্রাপ্তি। কিন্তু সুন্দরবন রক্ষায় রামপাল প্রসঙ্গে ইউনেস্কোর যে আপত্তি সেটিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। যেহেতু দুটিই ইউনেস্কোর স্বীকৃত তথ্য। তাই এক্ষেত্রে দ্বৈতনীতি কাম্য নয়। তিনি জানান, রামপাল বিষয়ে সরকারকে বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তভিত্তিক গবেষণা প্রতিবেদন পাঠানোর চার মাস পরও কোন জবাব পাওয়া যায়নি। কালক্ষেপণ না করে রামপাল প্রকল্প বাতিল ঘোষণা ও সুন্দরবন রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ড. নজরুল ইসলাম বলেন, রামপাল প্রকল্প নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও খুবই উদ্বিগ্ন। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নিশ্চিত সুন্দরবন ধ্বংস হবে। তিনি বলেন, ভারত, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে সরে আসছে। তাই দেশ, পরিবেশ ও জনস্বার্থে রামপাল প্রকল্প বিষয়ে অনমনীয়তা থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, শুরু থেকেই রামপাল প্রকল্প বিষয়ে সরকার জনগণকে ভুল তথ্য দিচ্ছে, এমনকি ইউনেস্কোর সিদ্ধান্তকেও তারা ভুলভাবে প্রচার করেছে, যা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, আমরা চাই সরকার বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করবেন। এতে দেশবাসী অবশ্যই সঠিক তথ্যটি জানবে। তিনি বলেন, ইউনেস্কো, আর্ন্তজাতিক সংস্থা ও দেশের জনগণের বিরোধিতা সত্ত্বেও রামপাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটা বর্তমান সরকারের জন্য একটি নিন্দনীয় উদাহরণ হিসেবে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

শরীফ জামিল দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে বলেন এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে এটি অর্থনৈতিক, পরিবেশ-প্রকৃতি, মানবাধিকার সবকিছুর জন্যই হুমকি। তাই এতকিছু অগ্রাহ্য করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের কাছে জনগণ কখনই আশা করে না।

ডা. মো. আবদুল মতিন বলেন, আমরা আশা করছি সরকার উন্মুক্ত আলোচনার জন্য যে প্রস্তাব দিয়েছে, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ৫ দফা দাবি : অবিলম্বে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ বন্ধ করা; সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি কর্তৃক সরকারের কাছে জমাকৃত ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিবেদন এবং ইউনেস্কোর বিশ^ ঐতিহ্য কমিটির জুলাই’১৭ সভার সুপারিশের ভিত্তিতে বন রক্ষায় সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ; উক্ত ১৩টি গবেষণাপত্র বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোন বিজ্ঞানসম্মত দ্বিমত থাকলে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে তা প্রকাশ এবং সে বিষয়ে সরকার ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি, উভয় পক্ষের নিকট গ্রহণযোগ্য দিন ও সময়ে উন্মুক্ত আলোচনার জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ; সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী বা অভ্যন্তরের নির্মাণাধীন ও পরিকল্পিত ৩২০টি ও সকল সরকারি-বেসরকারি প্রকল্প ও স্থাপনা অপসারণ, নির্মাণাধীন প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ, বরাদ্দকৃত সব প্লট অবিলম্বে বাতিলকরণ; এবং সুন্দরবনের ওপর সব অনিয়ম অত্যাচার অবিলম্বে বন্ধ করে বন বিভাগের জনবল বৃদ্ধি ও তাদের কাজের পরিধি, একাগ্রতা, সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ।