• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০

ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত : নিহত ৫০ আহত ১৭

৮ কিউ ৪০০ মডেলের উড়োজাহাজে ৬৭ যাত্রী ও ৪ জন ক্রু ছিলেন

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ২০১৮

image

বিধ্বস্ত বিমানে উদ্ধার তৎপরতা

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা ফ্লাইট বিএস-২১১ এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আহত যাত্রীদের মধ্যে ১৭ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। জরুরি যোগাযোগের জন্য একটি হটলাইন খুলেছে নেপাল দূতাবাস। গতকাল নেপালের স্থানীয় সময় ২টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৩টা ৫ মিনিট) বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবতরণ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ৮ কিউ ৪০০ মডেলের ওই উড়োজাহাজে ৭১ জন আরোহীর মধ্যে ৬৭ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রু ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের ৩২ জন, নেপালের ৩৩ জন, চীনের একজন ও মালদ্বীপের একজন যাত্রী ছিলেন বলে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। যাত্রীদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ, ২৭ জন নারী ও দুইজন শিশু ছিলেন। নেপালের যাত্রীদের মধ্যে ১৩ জন সিলেটের জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। দুর্ঘটনায় তারা সবাই নিহত হয়েছেন। এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা শেষে গতকাল এই বিমানে নেপালে তাদের নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পরে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪ ঘণ্টা বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়। বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেছেন এবং আহতের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তারা। এছাড়া শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গতকাল দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে বিমানটি নেপালের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বিমানটি নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারালে উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। এরপর বিমানবন্দরের কাছেই একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। ঘটনার পর পরই ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও নেপাল সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহত যাত্রীদের মধ্যে ১৭ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে নেপালে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলন এয়ারলাইন্স জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) কামরুল ইসলাম জানান, বিমান বিধ্বস্তের এই ঘটনাকে প্রাথমিকভাবে নিছক ‘দুর্ঘটনা’ বলেই ধরে নেয়া হচ্ছে। তবে তাদের দুই কর্মকর্তা কাঠমান্ডু পৌঁছানোর পর আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন। বিমানটি ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানের মডেল- কিউ ৮ বলে তিনি জানিয়েছেন। স্বজনদের ইমার্জেন্সির জন্য ০১৭৭৭-৭৭৭৭৬৬ নম্বরে কল দিতে বলা হয়েছে ইউএস-বাংলার পক্ষ থেকে। ইউএস-বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ বলেন, আটজন মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হয়েছি। তাদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি এখনও। আহতদের নেপালের চারটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

জেনারেল ম্যানেজার কামরুল ইসলাম আরও জানান, ‘ঢাকা থেকে ক্যাপ্টেন লুৎফরসহ দুজন কাঠমান্ডুতে যাচ্ছেন। তারা পৌঁছানোর পরই আমরা বিস্তারিত জানতে পারব। নেপাল সিভিল এভিয়েশন উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কী কারণে এই ঘটনা ঘটল জানতে চাইলে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘তিন বছরে ৩৬ হাজার ফ্লাইট আমরা পরিচালনা করেছি। এর আগে এমন কখনো হয়নি। ফলে আমরা এটা একটা দুর্ঘটনা বলেই মনে করছি।’

ইউএস-বাংলা কার্যালয়ে উপস্থিত এসএম আবুল কামাল আজাদ নামে একজন জানান, তার বোন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রধান নাজিয়া আফরিন চৌধুরী ও একই সংস্থার উম্মে সালমা অফিসের কাজে তিনদিনের জন্য নেপাল যাচ্ছিলেন। তাদের অবস্থা জানা যায়নি। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক কাজী ইকবাল করিমের দুইজন আত্মীয় সেই ফ্লাইটে ছিলেন। একজন তার খালাতো বোন ও তার স্বামী।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা নেপালে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। উদ্ধার কাজ সম্পন্ন হলে আহত ও নিহতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত নেপালে একটি টিম পাঠাতে। আমরা নিজেরাও এখন নিশ্চিত হতে পারেনি কী হয়েছিল। আমাদের স্টেশন ম্যানেজারও দেশে রয়েছে। বিস্তারিত জেনে আমরা জানাতে পারব।’

নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ডিজি সঞ্জিব গওতমের বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ মডেলের ওই উড়োজাহাজ ত্রিভুবনে নামার কথা ছিল রানওয়ের দক্ষিণ দিক দিয়ে। কিন্তু সেটি নামার চেষ্টা করে উত্তর দিক দিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, পাইলট কোন ধরনের কারিগরি জটিলতায় পড়েছিলেন। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুরের বরাত দিয়ে নেপালের ইংরেজি দৈনিক দি হিমালয়ান জানায়, উড়োজাহাজটি থেকে ২৫ জনকে উদ্ধার করে কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে আটজনকে সেখানে মৃত ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশের কোন উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটে ১৯৮৪ সালে। ওই বছর ৫ আগস্ট বাংলাদেশ বিমানের একটি ফকার এফ-২৭ বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে ঢাকা বিমানবন্দরের কাছে বিধ্বস্ত হলে ৪৯ জন নিহত হয়েছিল।

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে ভুল নির্দেশনা দেয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ইউএস-বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ। অন্যদিকে নেপাল বিমান কর্তৃপক্ষের ডিরেক্টর জেনারেল সঞ্জয় গৌতম জানান, মাটিতে ল্যান্ড করার সময় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ইমরান আসিফ বলে, এয়ার ট্রাফিক টাওয়ার আমাদের পাইলটকে ভুল দিকনির্দেশনা দিয়েছিল। এজন্য আমাদের পাইলট বুঝতে পারেনি কোথায় বিমান অবতরণ করাতে হবে।

সঞ্জয় গৌতম বলেন, মাটিতে ল্যান্ড করার সময় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়াতেই এই দুর্ঘটনা হয়েছে। বিমানটি এয়ারপোর্টের দক্ষিণ দিকে অবতরণের কথা থাকলেও উত্তর দিকে অবতরণ করে। একারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ইউএস বাংলা বিমানের যাত্রীদের তালিকা যাদের মাঝে ৩২ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালী, ১ জন চীনা এবং ১ জন মালদ্বীপের নাগরিক রয়েছে।

রিজানা আবদুল্লাহ, আহমেদ ফয়সাল, শাহরীন আহম্মেদ, ইয়াকুব আলী, আলীফুজ্জামান, আলমুন নাহার এ্যানি, বিলকিস আরা, শীলা বাগীনি, বেগম হুরুন্নাহার বিলকিস বানু, আলজিনা বরাল, চারু বরাল, আকতারা বেগম, আলজীনা বরাল, চারু বরাল, আকতারা বেগম, শাহীন বেপারী, সোবিনদ্রা সিং বোহরা, বশন্ত বোহরা, সামিরা বায়ানজানকারা, প্রবীণ চিত্রকর, নাজিয়া আফরীন চৌধুরী, সজনা দিভ কোটা, প্রিন্স ঢামি, গয়নী কুমারী গুরুং, রেজওয়ানুল হক, রাকিবুল হাসান, মেহেদী হাসান, ইমরানা কবীর হাশি, কবীর হুসেইন, দিনেশ হুমাগেইন, সানজিদা হক, হাসান ইমাম, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, শ্রেয়া ঝা, পূর্ণীমা লোহানী, মিলি মহারাজন, নিগা মহারাজন, সঞ্জয় মহারাজন, ঝাং মিং, আখি মনি, মিনহাজ বিন নাসির, কেশব পান্ডে, প্রশন্ন পান্ডে, বিনদ রাজ পৌদলে, হারি সরকার পৌদলে, সঞ্জয় পৌদলে, এফএইচ প্রিয়ক, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মতিউর রহমান, মাহমুদুর রহমা, আশীশ রঞ্জীত, তাহীরা তানভীন শাশী রেজা, পিয়াশ রায়, শেখ রশীদ রুবায়েত, কৃষ্ণ কুমার শাহানী, উম্মে সালমা, আশনা শাকায়া, সানাম শাকায়া, আনজীলা শ্রেষ্ঠা, শারুনা শ্রেষ্ঠা, সাইয়েদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা, হারি প্রশাদ সুবেদি, দয়ারাম টামরাকার, বাল কৃষ্ণা থাপার, শুয়েতা থাপার, কিশোর ত্রিপাঠি, আবাদেশা কুমার যাদব, আনিরুদ্ধ জামান, মো. নুরুজ্জামান, মো. রফিকুজ্জামান।

বিমান দুর্ঘটনায় তদন্তে নেপাল যাচ্ছে ৩ সদস্যের দল

বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা তদন্তে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) তিন সদস্যের একটি দল নেপাল যাবে। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর নেপালের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফ্লাইট চালু হলেই তদন্ত দল ঢাকা থেকে রওনা দেবে।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান। তিনি বলেন, তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট এখন বন্ধ। ফ্লাইট চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত দল যাবে। নাইম হাসান আরও জানান, নেপাল সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এ দুর্ঘটনায় কতজন মারা গেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোন তথ্য দেননি নাইম হাসান। তবে জানিয়েছেন, উড়োজাহাজটিতে ৭১ জন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে যাত্রী ছিলেন ৬৭ এবং ক্রু ছিলেন চারজন।

নাইম হাসান জানান, নিয়ম অনুসারে এ ঘটনার তদন্ত করবে নেপাল সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশের তদন্ত দলটি নেপালের সঙ্গে কাজ করবে।

এর আগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ বলেন, কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। আমরা ঢাকা থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। বিস্তারিত জানার চেষ্টায় আছি আমরা।

নেপালের কাঠমান্ডুতে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স নেপালের সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে। তবে বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছেন।

বেঁচে আছেন পাইলট আবিদ

নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটির প্রধান বৈমানিক আবিদ সুলতান বেঁচে আছেন বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি। তবে উড়োজাহাজটির আরেক বৈমানিক পৃথুলা রশিদ মারা গেছেন বলে কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দেয়া তথ্যে জানা গেছে। ৬৭ যাত্রীসহ ৭১ জন আরোহী নিয়ে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় গতকাল দুপুরে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলার ড্যাশ উড়োজাহাজটি। হতাহত অনেককে কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে আটজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। ওই আটজনের মধ্যে বৈমানিক পৃথুলা রশিদের নাম রয়েছে। তিনি উড়োজাহাজটিতে ফার্স্ট অফিসার হিসেবে কাজ করতেন।

পৃথুলার ফেইসবুক পাতা থেকে জানা গেছে, তিনি ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যুক্ত। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা পৃথুলা উড্ডয়নের ডিগ্রি নিয়েছেন আরিরাং এভিয়েশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে।

ইউএস বাংলার ফার্স্ট অফিসার রিজওয়ান আহমেদ খান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজটিতে ক্যাপ্টেন ছিলেন আবিদ সুলতান। ফার্স্ট অফিসার পৃথুলা ছাড়াও ক্রু হিসেবে ছিলেন নাবিলা ও খাজা হোসেন। কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দেয়া মৃতের তালিকায় ক্রু খাজা হোসেনের নাম রয়েছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মার্কেটিং সাপোর্ট ও জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় আহতরা নেপালের কেএমসি, ওহম, নরভিম হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বৈমানিক আবিদ সুলতান বেঁচে আছেন বলে বলে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আসিফ ইমরান সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সাংবাদিকদের জানান।

তিনি বলেন, আবিদ সুলতান জীবিত আছেন। এই খবর শোনার আগ পর্যন্ত আবিদের স্বজনরা উৎকণ্ঠায় ছিলেন। তার পরিবারের ঘনিষ্ঠজন সাংবাদিক সুমাইয়া জামান বিকালে বলেছিলেন, আমরা এখনো কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাচ্ছি না। কেউ বলছেন, তিনি বেঁচে আছেন, কেউ বলছেন তিনি নেই। আমরা ভীষণ উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি।

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এক যাত্রীর প্রতিক্রিয়া

ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের রানওয়ের ওপর পৌঁছানোর পর বিমানটি কাঁপতে শুরু করে বলে জানিয়েছে ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া নেপালি নাগরিক বাশান্তা বহোরা। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে স্বাভাবিকভাবেই বিমানটি উড্ডয়ন করে নেপালে পৌঁছায় কিন্তু রানওয়েতে পৌঁছানোর পরেই অস্বাভাবিকভাবে কাঁপতে শুরু করে। পরবর্তীতে হঠাৎ ঝাঁকুনি দেয় এবং বিস্ফোরণের শব্দ হয়। আমি জানালার পাশে বশে ছিলাম তাই জানালার কাচ ভেঙে বের হতে পেরেছি। ভাগ্যবান বলেই এই ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছি। বহোরা জানান, তিনিসহ ১৬ জন নেপালের বিভিন্ন ট্রাভেল সংস্থার হয়ে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন।

বহোরা আরও বলেন, ‘উড়োজাহাজটি থেকে বেরিয়ে আসার পর আমি আর কিছু মনে করতে পারি না। কেউ একজন আমাকে সিনামঙ্গল হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে আমার বন্ধুরা নরভিক হাসপাতালে নিয়ে আসেন।’ তিনি জানান, তার মাথায় ও পায়ে আঘাত লেগেছে। ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গেছেন। কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ওই যাত্রী এখন স্থানীয় থাপাথালিভিত্তিক নরভিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।