• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০১৯, ৪ মাঘ ১৪২৫, ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

আহমদ শফীর বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া

প্রতিবাদ বিক্ষোভ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রবিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৯

মেয়েদের স্কুলে না পাঠানো নিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফির বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে সারাদেশ থেকে।

গত শুক্রবার চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফি বলেন, আপনাদের মেয়েদের স্কুল-কলেজে দেবেন না। বেশি হলে ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যন্ত পড়াতে পারবেন। বিয়ে দিলে স্বামীর টাকা পয়সা হিসাব করতে হবে। চিঠি লিখতে হবে স্বামীর কাছে। আর বেশি যদি পড়ান, পত্রপত্রিকায় দেখছেন আপনারা, মেয়েকে ক্লাস এইট, নাইন, টেন, এমএ, বিএ পর্যন্ত পড়ালে ওই মেয়ে আপনার মেয়ে থাকবে না। অন্য কেহ নিয়ে যাবে। পত্রপত্রিকায় এ রকম ঘটনা আছে কিনা? ওয়াদা করেন। বেশি পড়ালে মেয়ে আপনাদের থাকবে না। টানাটানি করে নিয়ে যাবে আরেকজন পুরুষ।

আহমদ শফির বক্তব্যের ফলে দেশের বিভিন্ন মহল থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। শাহ আহমেদ শফির বক্তব্য সম্পর্কে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি মাহফুজা খানম বলেন, আহমদ শফি প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে ওয়াদা করিয়েছেন যাতে তারা তাদের মেয়েদের শিক্ষত না করে তোলে। এর মাধ্যমে তিনি শুধু ওই পরিবারগুলোকে নয় পুরো দেশের মেরুদন্ড ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করেছেন, পুরো নারী সমাজকে অপমান করেছেন। তাকে এই অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা সবাই আন্দোলন করব। পাশাপাশি আমি আশা করছি এই বিষয়ে সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বক্তব্য দেয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আআমস আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, আহমদ শফির বক্তব্য শিক্ষাবিরোধী, প্রগতীবিরোধী, সংবিধানবিরোধী এমনকি ধর্মবিরোধী। কারণ আমাদের ধর্ম প্রত্যেক মানুষের অধিকার রক্ষা এবং জ্ঞান অর্জনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে আমাদের মাঝে এমন কিছু মানুষ সবসময় থাকে যারা সবসময় সমাজকে পশ্চাদমুখী করতে ষড়যন্ত্র করে। এদের এমন দায়িত্বহীন মন্তব্য অতীতের মতো সবসময় প্রত্যাখান হবে। তবে আমি আশা করব ভবিষ্যতে যেন কেউ এই ধরনের দায়িত্বহীন মন্তব্য না করেন।

মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, নারীদের নিয়ে আহমদ শফি এর আগেও অনেক অশ্লীল এবং অশ্রাব্য মন্তব্য করেছেন। তার এবারের মন্তব্য আমাদের শাষণতন্ত্রের বিরোধী। তিনি আমাদের ১০০ বছর পিছিয়ে নিয়ে যেতে নারীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে। অথচ আমাদের বর্তমান উন্নয়নে নারী শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় তিনি এই ধরনের মন্তব্য করার সাহস কোথা থেকে পাচ্ছে। আর আমরা শিক্ষা ব্যতীত কোন ধরনের নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলছি।

এদিকে এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, যিনি এই মন্তব্যটা করেছেন, তিনি তার ব্যক্তিগত মতামত দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের শিক্ষানীতি প্রণয়ন বা শিক্ষা, পরিচালনা বা শিক্ষা খাতে কোন নির্বাহী দায়িত্বে নেই। যেহেতু যেকোন নাগরিকেরই বাক্?স্বাধীনতা আছে, তার মনের ভাবনা প্রকাশ করার অধিকার আছে। তিনিও দেশের নাগরিক হিসেবে তার নিজের একটা বিশ্লেষণ দিয়েছেন। সেটা আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমি সম্মানের সঙ্গে বলব, আমরা সবাই যারা বাকস্বাধীনতার চর্চা করছি, আমরা যেন এই বিষয়টা মাথায় রাখি যে সংবিধান অনুসারে আমাদের সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

উপমন্ত্রী বলেন, আমরা যেন বৈষম্যমূলক মন্তব্য না করি, এটা আমি সবার কাছে আহ্বান জানাব। যেহেতু তিনি কোন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অবস্থানে নেই, তিনি তার ব্যক্তিগত অভিমত দিয়েছেন। কিন্তু তিনি অভিমত দিলেই সেটা রাষ্ট্রীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্ত বা প্রতিফলিত হবে, সেটা চিন্তা করার অবকাশ নেই। সমাজে এ রকম অনেকেই অনেক ধরনের অভিমত দেন।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নওফেল বলেন, সমালোচনাটা তো আমরা নিজেরাই এনেছিলাম যে পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িকীকরণ বা বিভাজন সৃষ্টি করা, কোমলমতিদের মানসিকতায় যদি আমরা এটা দিয়ে দিই, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে গিয়ে সমাজের স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে। আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠন করতে আমাদের বাধ্য করেছে। আমরা অবশ্যই ইসলামের অনুশাসন মেনে চলব, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের অনুশাসন মেনে চলবেন। অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ কারিকুলাম অত্যন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার মানোন্নয়নও খুবই প্রয়োজন। এতে সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে না। পড়াশোনা যদি সাম্প্রদায়িকীকরণ করা হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যৎ নয়, নিকট ভবিষ্যতেও আমাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে পড়বে।

মাওলানা শফির বক্তব্যের বিরোধিতা করে ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মাওলানা মেজবাউর রহমান চৌধুরী বলেন, আল্লামা শফি যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা ইসলামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইসলাম নারীদের শিক্ষিত করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে। বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। শিক্ষিত না হলে তারা সাবলম্বী হতে পারবেন না। তাই নারীদের অবশ্যই শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদ জামাতের ইমাম ও জামিয়াতুল ওলামা’র চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসুদ বলেন, ইসলামে যেখানে শিক্ষাকে ফরজ করা হয়েছে সেখানে এ বক্তব্য ইসলামের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এ বক্তব্যের মাধ্যমে জাতি বিভ্রান্ত হবে। নারীরা শিক্ষিত হলে জাতি শিক্ষিত হবে। দেশ এগিয়ে যাবে।

আহম্মদ শফির বক্তব্য নারী শিক্ষাবিরোধী

হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহম্মদ শফির নারী শিক্ষাবিরোধী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আহম্মদ শফিকে অবিলম্বে তার বক্তব্য প্রত্যাহার ও জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন। গতকাল রাজধানীর টেনিস ফেডারেশনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সংগঠনের সভাপতি জিয়া উদ্দিন তারেক আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন- সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য পঙ্কজ ভট্টাচার্য, অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, অ্যাডভোকেট এসএমএ সবুর, অ্যাডভোকেট অশোক সরকার, জয়ন্তী রায়, অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য একে আজাদ, অ্যাডভোকেট পারভেজ হাসেম, কাজী সালমা সুলতানা, অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল আমিন, জাহাঙ্গীর আলম ফজলু প্রমুখ।

আল্লামা শাহ আহম্মদ শফির সমালোচনা করে ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা যখন কওমি জননী হয়ে যায়, তখন তাকে শফিদের অনেক আবদারই সহ্য করতে হয়। আর যার কারণেই আমাদের মেয়েরা ৫ম শ্রেণীর বেশি পড়তে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন হেফাজত ইসলামের আমির। বাংলাদেশে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনও কেন জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ হয়নি তা নিয়ে দেশের প্রতিটি জেলায় জেলায় একসাথে সবাইকে কথা বলা উচিত।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, নির্বাচনে সবকিছু স্বাভাবিক মনে করা হলেও নির্বাচনী ব্যবস্থার ত্রুটি বিচ্যুতির ঊর্ধেŸ যে এখনও উঠতে পারেনি তা অতী উৎসাহীদের কার্যকলাপে প্রমাণিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোটকেন্দ্র দখলের প্রচেষ্টা, ভোটারদের ভয়ভীতি ঘটনা ঘটেছে, তথাপি বড় ধরনের বিজয়ীদের পক্ষে বড় দায়িত্ব পড়েছে। দেশকে স্থিতিশীল রাখা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সংখ্যালঘু আদিবাসীদের নিরাপত্তা বিধান, শ্রমিক কৃষকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ব্যবস্থাকে সাম্প্রদায়িকতামুক্ত করা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ নিয়ে দেশকে অগ্রসর করা। আমরা সকলের জন্য সমান সুযোগের নিশ্চয়তা বিধানে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ আশা করবো।

সভাপতির বক্তব্যে জিয়াউদ্দিন তারেক আলী বলেন, দেশে লুটেরা শ্রেণীর দুর্বৃত্তায়নের ফলশ্রুতিতে বিগত সময়ে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার, ব্যাংকিং খাতে অনিয়মের ফলশ্রুতিতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে, যুব সমাজ মাদক ও সন্ত্রাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, মাফিয়া বেষ্টিত অর্থনীতির হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে নবনির্বাচিত সরকার দ্রুততম সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা আশা করি। সেই সাথে আমারা নবনির্বাচিত সকাররের সফলতা কামনা করছি।

বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন আল্লামা শফী

প্রতিনিধি, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : হাটহাজারী মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে মেয়েদের স্কুল-কলেজে না পাঠানোর ব্যাপারে দেয়া বক্তব্যের একটি খন্ডাংশ বিভিন্ন মিডিয়ায় ভুলভাবে উপস্থাপন করায় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফি।

শনিবার সন্ধ্যায় হেফাজত আমিরের পক্ষে হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসার মুখপত্র মাসিক মুইনুল ইসলাম এর নির্বাহী সম্পাদক সরওয়ার কামাল গণমাধ্যমে এ ব্যাপারে একটি লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

লিখিত বক্তব্যে হেফাজত আমির বলেন, আমি মূলত বলতে চেয়েছি ইসলামের মৌলিক বিধান পর্দার লঙ্ঘন হয়, এমন প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের পড়াশুনা করানো উচিৎ হবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এখানে শিক্ষা থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনাসহ যাবতীয় সব কিছুই রয়েছে। ইসলামে নারীদের শিক্ষার বিষয় উৎসাহিত করা হয়েছে এবং সবাই অবগত যে, উম্মুল মুমিনিন হজরত মা আয়েশা (রা.) ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস। তিনি শিক্ষাগ্রহণ না করলে উম্মত অনেক হাদিস থেকে মাহরুম হয়ে যেত।

তবে এর পাশাপাশি ইসলামের একটি মৌলিক বিধান হচ্ছে পর্দা। নারীদের পর্দার বিষয় ইসলামে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। আমি আমার বক্তব্যে বলতে চেয়েছি, শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে যেন পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা না হয়। কারণ আমাদের দেশের বেশিরভাগ সাধারণ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সহশিক্ষা দেয়া হয়, অর্থাৎ ছেলেমেয়ে একই সঙ্গে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। এতে করে পর্দার লঙ্ঘন হয়। আমি মূলত এই সহ-শিক্ষা গ্রহণেই মানুষকে সতর্ক করতে চেয়েছি।

আমি জানতে পেরেছি যে, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমাকে নারী বিদ্বেষী ও নারী শিক্ষা বিদ্বেষী বলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে। আমি হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আপনারা জানেন যে হাইয়ার অধীনে হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার সনদ গ্রহণ করে থাকেন। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান প্রদান করেছেন। এতে করে আমাদের দেশের লাখো মাদরাসা ছাত্র ও ছাত্রীরা দাওয়ারে হাদিস পাস করে মাস্টার্সের সমমান অর্জন করছেন।

যে সম্মিলিত বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়ে হাজার হাজার নারী রাষ্ট্র স্বীকৃত উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত বলে পরিগণিত হচ্ছে, সেই বোর্ডের প্রধান হয়ে আমি কিভাবে নারী শিক্ষার বিরোধী হলাম তা বোধগম্য নয়।

আমি আবারও বলছি যে, আমি বা আমরা নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে নই, তবে নারীর জন্য নিরাপদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয় আমরা আগেও সতর্ক করেছি, এখনও করছি। আমরা চাই নারীরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হোক, তবে সেটা অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশে থেকে এবং ইসলামের মৌলিক বিধানকে লঙ্ঘন না করে। শিক্ষা গ্রহণ অবশ্যই জরুরি, তবে সেটা গ্রহণের জন্য আমরা আমাদের কন্যাদের অনিরাপদ পরিবেশে পাঠাতে পারি না।

আমরা যেমন নিরাপদ পরিবেশে রেখে নারীদের সর্বোচ্চ শিক্ষায় (দাওরায়ে হাদিস সমমান মাস্টার্স) শিক্ষিত করে যাচ্ছি, আপনারাও সেভাবে নিরাপদ ব্যবস্থা করে শিক্ষা দান করুন। আমরা উৎসাহিত করব আপনাদের।

আমরা চাই এ দেশের নারীরা শিক্ষিত হোক, কারণ মা শিক্ষিত হলেও সন্তান সঠিক শিক্ষা পাবে। নারীদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য পরিবেশ তৈরি করুন। যেখানে পরিচালক থেকে শুরু করে কর্মকর্তারা সবাই নারী থাকবেন। সে ধরনের শিক্ষা দানের ব্যবস্থা থাকলে আমরা তাতে উৎসাহিত করব ইনশা আল্লাহ।

উল্লেখ্য গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের আল-জামিআতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার ১১৮তম বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলনে ওই মাদ্রাসার পরিচালক ও হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, আপনাদের মেয়েরা স্কুল-কলেজে দিবেন না। বেশি থেকে বেশি ক্লাস ফোর-ফাইভ পর্যন্ত পড়াতে পারবেন। আর বেশি যদি পড়ান পত্র-পত্রিকায় দেখতেছেন আপনারা। ওই মাইয়া (মেয়ে) ক্লাস এইট, নাইন, টেন, এমএ, বিএ পর্যন্ত পড়ালে কিছুদিন পর আপনার মেয়ে থাকবে না। তাই আপনারা আমার সঙ্গে ওয়াদা করেন। বেশি পড়ালে আপনার মেয়েকে টানাটানি করে অন্য পুরুষ নিয়ে যাবে। আমার এ ওয়াজটা মনে রাখবেন।

হেফাজত আমিরের বক্তব্য একান্ত নিজস্ব : নওফেল

চট্টগ্রাম ব্যুরো : মেয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে না পড়ানোর বিষয় নিয়ে হেফাজত ইসলামের আমিরের বক্তব্যে মুখ খুললেন নবগঠিত মন্ত্রিসভার শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেন, এটা একান্তই তার (আহম্মদ শফি) নিজস্ব মতামত। তিনি শিক্ষানীতি প্রণয়ন বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো নির্বাহী দায়িত্বে নেই। এর সঙ্গে রাষ্ট্রনীতির সামঞ্জস্য নেই। এরকম অনেকে অনেক রকমের অভিমত প্রকাশ করে থাকেন। গতকাল সকালে নগরীর চশমা হিলের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

গত শুক্রবার হাটহাজারীর দারুল উলুম মাদ্রাসার মাঠে ১১৮তম বার্ষিক মাহফিলে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্যের এক পর্যায়ে হেফাজতের আমির আল্লামা আহম্মদ শফি মেয়েদের স্কুলে-কলেজে না পাঠানোর জন্য আহ্বান জানান। আর পাঠালেও ফোর-ফাইভে পর্যন্ত পড়ানোর কথা বলেন। বক্তব্যটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পরে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়। এ বিষয়ে নওফেলের মনোযোগ আর্কষণ করেন সাংবাদিকরা।

নওফেল বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িক কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার জন্য সরকার সতর্ক রয়েছে। অতীতে যারা এই কাজের সাথে জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দেশের নাগরিক হিসেবে বাকস্বাধীনতা প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু দেখতে হবে সরকার তার বাস্তব প্রতিফলনের ক্ষেত্রে এসব বিষয়গুলো ফুটে উঠছে কিনা। সেক্ষেত্রে আমরা কারো প্রতি বৈষম্য, অন্যায় করছি কিনা তাও ভেবে দেখতে হবে।

সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান এমএ ছালাম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার, সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমউদ্দিন শ্যামল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।