• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪ মহররম ১৪৪২, ০৫ আশ্বিন ১৪২৭

আম্ফানের তাণ্ডবে সর্বত্র ক্ষতের চিহ্ন

যশোরেই প্রাণহানি ১২ জনসহ ২৪

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শনিবার, ২৩ মে ২০২০

অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, রংপুরসহ সারাদেশে। এ তাণ্ডবে গাছ চাপা, ঘর ভেঙে ও দেয়াল চাপায় ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এরমধ্যে যশোরে ১২ জন, রংপুরে ২, পিরোজপুরে ৩, পটুয়াখালীতে ২, চাঁদপুরে ১, সিরাজগঞ্জে ১, চুয়াডাঙ্গায় ২, রাজশাহীতে ১ জন রয়েছেন।

যশোর অফিস জানায়, অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান যশোরে ব্যাপাক তাণ্ডব চালিয়েছে। যশোরে গাছ চাপা, ঘর ভেঙে ও দেয়াল চাপায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ তে দাঁড়িয়েছে। গত বুধবার রাতে যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় বিপুল পরিমাণ গাছপালা ভেঙে ও ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ের পর যোগাযোগ ব্যবস্থা মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় হতাহতের তথ্য প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের কাছে দেরিতে এসে পৌঁছায়। গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন ৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। গতকাল বাকি ৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে চৌগাছায় গাছচাপা পড়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন, চৌগাছা পৌরসভার হুদো চৌগাছা এলাকার ওয়াজেদ হোসেনের স্ত্রী চায়না বেগম (৪৫) ও মেয়ে রাবেয়া খাতুন (১৩)। ঝড়ে ঘরের উপর গাছ ভেঙে পড়লে এ দু’জন নিহত হন। আহত হন চায়না বেগমের ছেলে আলামিন (২২)। ঝড়ের সময় তারা ঘরে ছিলেন। এছাড়া গাছচাপা পড়ে শার্শা উপজেলার মালোপাড়ার সুশীল বিশ্বাসের ছেলে গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস, গোগা পশ্চিমপাড়ার শাহজাহানের স্ত্রী ময়না খাতুন (৪০) ও বাগআঁচড়া জামতলা এলাকার আবদুল গফুর পলাশের ছেলে মুক্তার আলী (৬৫) এবং বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট বুদোপাড়া এলাকার সাত্তার মোল্লার স্ত্রী ডলি খাতুন (৪৫) নিহত হয়েছেন।

আর বাঘারপাড়ার নিহত গৃহবধূ নামাজ পড়ার পর কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন। ঝড়ে একটি আমগাছের ডাল টিনের ঘরের চালার উপর ভেঙে পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। শার্শায় নিহতদের মধ্যে মুক্তার আলী ও গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস নিজেদের ঘরের মধ্যেই গাছ ভেঙে পড়লে মারা যান। আর ময়না খাতুন স্বামীর সঙ্গে এক ঘর থেকে আরেক ঘরে যাওয়ার সময় গাছ পড়ে মারা যান। তবে স্বামী বেঁচে যান। যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ এই ৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশের বিশেষ শাখার রিপোর্ট অনুযায়ী মণিরামপুর উপজেলায় আরও ৫ জন ও শার্শায় আরও একজনের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া গেছে। তারা হলেন, মণিরামপুর উপজেলার পারখাজুরা গ্রামের খোকন দাস (৭০), তার স্ত্রী বিজন দাস (৬০), একই এলাকার ওয়াজেদ আলী (৫০), তার ছেলে ইসা (১৫) এবং আছিয়া বেগম (৭০)। এছাড়া শার্শা উপজেলার মহিপুড়া গ্রামের মিজানুর রহমান (৬০) নামে আরও একজনের মৃত্যু সংবাদ দিয়েছে পুলিশ। ডিস্ট্রিক্ট ইন্টেলিজেন্স অফিসার (ডিআইও-১) এম মসিউর রহমান সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে মণিরামপুরে মৃত্যুর তথ্য জেলা প্রশাসনের কাছে এখনও পৌঁছায়নি। রাতে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক মো. শফিউল আরিফ জানান, মণিরামপুরে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। এমনকি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। গতকাল সকালে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক জানান, মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল মণিরামপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ শরিফী জানান, মণিরামপুরের মশ্মিমনগর ইউনিয়নে গাছচাপা ও ঘর ভেঙে ৫ জন নিহত হয়েছেন। আর শার্শা উপজেলার মহিপুড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মণ্ডল জানান, গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

রংপুর থেকে নিজস্ব বার্তা পরিবেশক জানান, রংপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রচণ্ড ঝড়ে শত শত গাছপালা উপড়ে গেছে, কয়েকশ কাঁচাবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। ঘর চাপা পড়ে এক নারী ও এক ১০ বছরের শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন, গত বুধবার রাত ১টা থেকে ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। বেলা ১১টা পর্যন্ত ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তবে গতকাল সকালে বৃষ্টি হলেও আর ঝড় হয়নি।

এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ায় রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে গেছে। বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া পীরগাছা গঙ্গাচড়া উপজেলায় কয়েক শতাধিক গাছপালা উপড়ে গেছে সেই সাঙ্গে কাঁচাঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। ঝড়ে বদরগঞ্জে আকলিমা নামে এক গৃহবধূ ও মিঠাপুকুরে নয়ন নামে ১০ বছরের শিশু গাছচাপা পড়ে নিহত হয়েছে। ঝড়ের কারণে দু’দিন পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। গতকাল সেনাবাহিনীর সদস্যরা কাউনিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় আমফানে ৪ হাজার ৬৩৫টি মাছের ঘের ভেসে গেছে। এতে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা মৎস্য অধিদফতর। বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক এ তথ্য জানিয়েছেন।

বাগেরহাট জেলায় ৭৮ হাজার ১০০টি মাছের ঘের আছে। সদর উপজেলা, রামপাল, মোংলা, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা ও কচুয়া উপজেলার চাষিরা সব থেকে বেশি ক্ষতিপ্রস্ত হয়েছে।’