• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

আবরারকে সবচেয়ে বেশি পেটায় অনিক আরেক অভিযুক্ত মুয়াজ গ্রেফতার

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ১৩ অক্টোবর ২০১৯

image

জ্ঞান থাকা পর্যন্ত বুয়েট ছাত্র আবরার আহমেদকে পেটানোর নির্দেশ দেন ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার। অনিক একাই একনাগারে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে পিটিয়েছে আবরার আহমেদকে। তার পিটুনির পরই আবরার আহমেদ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান। গতকাল ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে আবরার আহমেদকে পিটিয়ে মারার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন অনিক সরকার। মহানগর হাকিম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম অনিক সরকারের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে অনিক সরকারকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ নিয়ে আবরার হত্যায় ৩ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে শুক্রবার জিয়ন এবং বৃহস্পতিবার ইফতি মোশারফ সকাল জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে আবরার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোয়াজ আহমেদকে গতকাল গ্রেফতার করেছে ডিবি। এর আগে গত শুক্রবার ভোরে সিলেট থেকে গ্রেফতার হওয়া মামলার এজাহারনামী ৮ নম্বর আসামি মাজেদুলকে ১০ দিনের রিমান্ড হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড

মঞ্জুর করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরের পর অনিক সরকারকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপর স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ার পর ম্যাজিস্টেট আতিকুল ইসলামের আদালতে তাকে নিয়ে যাওয়া যায়। পরে সে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আবরার আহমেদকে কিভাবে মারপিট করা হয়েছে, কখন সে মারা গেছে, মারা যাওয়ার পর কার কি ভূমিকা ছিল এসব বিস্তারিত বর্ণনা দেন। ম্যাজিস্ট্রেট সব কিছু লিপিবদ্ধ করে। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, রিমান্ড হেফাজতে থাকা অবস্থায় আবরার আহমেদ ১৬১ ধারায় পুলিশের কাছে সবকিছু বর্ণনা করে। পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিই ১৬৪ ধারায় আদালতে বর্ণনা দিয়েছেন। পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় অনিক সরকার বলেছেন, ৬ অক্টোবর অনিক সরকার বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ফিরে। তারও ৪ থেকে ৫ দিন আগে তারা তথ্য পায় আবরার একজন সক্রিয় শিবির কর্মী। সিদ্ধান্ত নেয় আবরারকে তারা শায়েস্তা করবে। কিন্তু আবরার আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ে না থাকায় তারা আবরারের ফেরার অপেক্ষায় ছিল। এর মধ্যে তারা আবরার আহমেদের রুমমেট মিজান এবং অমিত শাহার কাছ থেকে আবরার সম্পর্কে কিছু তথ্য পায়। মিজান এবং অমিত সরকারই তাদেরকে জানিয়েছে আবরার আহমেদ শিবির করে। সে সব সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী নানা পোস্ট দেয়। ৬ অক্টোবর আবরার রুমে ফেরার পর আবারের রুমমেট মিজানের কাছ থেকে নিশ্চিত হয় আবরার রুমে আছে। তখন সেসহ অন্যরা ২০১১ নম্বর রুমে এসে জড়ো হয়। সেখানে আবরারকে মারার জন্য ক্রিকেট স্ট্যাম্পসহ অন্য সব সরঞ্জাম নিয়ে আসা হয়। লাঠি, রশি সব কিছুই জোগার করা হয়। এর আগে ৪ অক্টোবর বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবিন শেরেবাংলা হল ছাত্রলীগের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে একটি নির্দেশনা দেন। ম্যানেঞ্জারে রবিনের নির্দেশনা ছিল আবরার শিবির করে, তাকে ধরতে হবে। এরপর মেসেঞ্জার গ্রুপে সাড়া দেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা। আবরার তখন বাড়িতে থাকায় তিনি বলেন, ‘ওকে বাড়ি থেকে ফিরতে দেন। ৬ অক্টোবর রাত আটটার কিছু পর আবরারকে ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে আসার সময় আবরারের দুটি মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপও সঙ্গে আনা হয়। অমিত সাহার বুয়েট ছাত্রলীগের উপদফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ একটি মোবাইল ফোন এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম ওরফে তানভীর আরেকটি মোবাইল ফোন চেক করেন। একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মুনতাসির আল জেমি আবরারের কাছ থেকে তার ল্যাপটপের পাসওয়ার্ড নিয়ে খুলে চেক করেন। আবরারের ডিভাইসগুলো তারা যখন চেক করছিলেন, তখন মেহেদী হাসান এবং বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম ওরফে জিয়ন (নেভাল আর্কিটেকচার মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র) কক্ষে আসেন। মেহেদী তাদের বুয়েটে কারা কারা শিবির করে তা আবরারের কাছ থেকে বের করার জন্য নির্দেশ দেন। এ সময় মেহেদী বেশ কয়েকটি চড় মারেন আবরারকে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সামসুল আরেফিন ওরফে রাফাত স্টাম্প এনে তার হাতে দেন। আবরারের কাছ থেকে কথা বের করার জন্য স্টাম্প দিয়ে চার-পাঁচটি আঘাত করেন ইফতি। এর পর সে একাধারে আবারের হাটু থেকে শুরু করে সবখানে সমানে পিটিয়ে যান। আবার দু’দফায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার পাশাপাশি অন্যরাও আবরাকে পিটাতে থাকে। অনিক সরকার জানিয়েছেন, পারপিটে আবরার এক পর্যায়ে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েন। তখন সে ইফতি মোশাররফ সকাল, জিয়ন, জেমিসহ অন্যদের নির্দেশ দেন জ্ঞান থাকা পর্যন্ত আবরারকে পিটানোর জন্য। এরপর দফায় দফায় আবরারকে পাটানো হয়। আবরার যখন বমি করেন এবং এক পর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েন তখন তাকে ২০০৫ নম্বর রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে পরিষ্কার করা হয়। আবরারের রুম থেকে পোশাক এনে তাকে নতুন পোশাক পড়ানো হয়। শরীরে মলম লাগানো হয়। এরপর আবরারকে নিচে নামানো হয়। যখন বুঝতে পারেন আবরার মারা গেছে তখন তারা লাশ গুমের চেষ্টা করেন। অন্যরা যখন আবারের কি হয়েছে জানতে চায় তখন তারা বলেন আবারের কিছুই হয়নি। বুয়েট শেরেবাংলা হলের ১৩তম ব্যাচের ছাত্র মেহেদী হাসান, মুনতাসির ফুয়াদ, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশারফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মোফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মাজেদুল ইসলাম, মুজাহিদুল ইসলাম তানভির আহমেদ, হোসেন মো. তোহা, মো. জিসান, মো. আকাশ, মো. শামিম বিল্লাহ, মো. সাদাত, মো. তানীম, মো. মোরশেদ, মো. মুয়াজ, জেমী সবাই ছুটোছটি করেন লাশ কী করবেন।

১৮ নম্বর অভিযুক্ত মুয়াজ গ্রেফতার

আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১৮ নম্বর আসামি আরেক অভিযুক্ত মুয়াজকে (২০) গ্রেফতার করেছে ডিবি। গতকাল বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৪নং সেক্টর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে এজাহার নামীয় ১৯ আসামির মধ্যে ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এজাহারে নাম মুয়াজ হলেও তার পুরো নাম মোয়াজ আবু হুরায়রা (২০)। তিনি বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ওসমানপুরের পিরপুর গ্রামে। মোয়াজের বাবার নাম মাশরুর-উজ-জামান। এ নিয়ে আবরার হত্যায় গ্রেফতারের সংখ্যা ১৯।

৫ দিনের রিমান্ডে মাজেদুল

এদিকে শুক্রবার গ্রেফতার হওয়া আবরার হত্যা মামলার আসামি মাজেদুরকে গতকাল আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়। মাজেদুল বুয়েটের এমএমই বিভাগের ১৭ ব্যাচের ছাত্র এবং হত্যা মামলার ৮ নম্বর আসামি। গত শুক্রবার ভোরে সীমান্ত এলাকা থেকে মাজেদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। আবরার হত্যায় মাজেদুল সরাসরি সম্পৃক্ত। আবরারকে পিটানো এবং মৃত্যুর পর লাশ গুমের চেষ্টার সঙ্গে নানাভাবে জড়িত মাজেদুল ইসলাম।

স্বীকারোক্তিতে ইফতি মোশাররফ সকাল যা বলেছেন

আবরার আহম্মেদ ফাহাদকে কিভাবে কারা নির্দেশে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে তার বর্ণনা দিয়েছেন হত্যা মামলার আসামি ইফতি মোশাররফ সকাল। বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সমাজসেবাবিষয়ক উপসম্পাদক ইফতি মোশাররফ ওরফে সকাল আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বলেন, তার কক্ষেই ৬ অক্টোবর রাতে শিবিরকর্মী সন্দেহে পেটানো হয় ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে। মারপিটে অংশ নেন সে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মহানগর হাকিম খন্দকার ইয়াসির আহসান চৌধুরীর কাছে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালতে ইফতি বলেছেন, ৪ অক্টোবর বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবিন শেরেবাংলা হল ছাত্রলীগের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে একটি নির্দেশনা দেন। ম্যানেঞ্জারে রবিনের নির্দেশনা ছিল আবরার শিবির করে, তাকে ধরতে হবে। এরপর মেসেঞ্জার গ্রুপে সাড়া দেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা। আবরার তখন বাড়িতে থাকায় তিনি ইফতিকে বলেন, ‘ওকে বাড়ি থেকে ফিরতে দেন। ইফতি আদালতে বলেন, ৬ অক্টোবর রাত আটটার কিছু পর আবরারকে ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে আসা হয়। আবরারের দুটি মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপও সঙ্গে আনা হয়। তার রুমমেট বুয়েট ছাত্রলীগের উপদফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ একটি মোবাইল ফোন এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম ওরফে তানভীর আরেকটি মোবাইল ফোন চেক করেন। একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মুনতাসির আল জেমি আবরারের কাছ থেকে তার ল্যাপটপের পাসওয়ার্ড নিয়ে খুলে চেক করেন। আবরারের ডিভাইসগুলো তারা যখন চেক করছিলেন, তখন মেহেদী হাসান এবং বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম ওরফে জিয়ন (নেভাল আর্কিটেকচার মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র) কক্ষে আসেন। মেহেদী তাদের বুয়েটে কারা কারা শিবির করে তা আবরারের কাছ থেকে বের করার জন্য নির্দেশ দেন। এ সময় মেহেদী বেশ কয়েকটি চড় মারেন আবরারকে। ওই কক্ষে তখন ক্রিকেটের কোন স্ট্যাম্প ছিল না। বাইরে থেকে তখন কেউ একজন স্ট্যাম্প নিয়ে আসেন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সামসুল আরেফিন ওরফে রাফাত স্ট্যাম্প এনে তার হাতে দেন। আবরারের কাছ থেকে কথা বের করার জন্য স্টাম্প দিয়ে চার-পাঁচটি আঘাত করেন ইফতি। এতে স্টাম্পটি ভেঙে যায়। বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র) স্টাম্প দিয়ে আবরারের হাঁটু, পা, পায়ের তালু ও বাহুতে মারতে থাকেন। এতে আবরার উল্টাপাল্টা কিছু নাম বলতে শুরু করেন। তখন মেফতাহুল আবরারকে চড় মারেন এবং স্ট্যাম্প দিয়ে হাঁটুতে মারেন। এ সময় মেহেদী মুঠোফোনে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ক্যানটিনে খেতে যান। মিনিট বিশেক পর ফিরে এসে দেখেন, আবরার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি মেঝেতে শুয়ে আছেন। তিনি তখন আবরারকে ধমক দিয়ে উঠে দাঁড় করান। কয়েকটি চড় মারেন। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মুজাহিদুর রহমান তখন কক্ষে থাকা স্কিপিং রোপ দিয়ে আবরারকে মারেন। ইফতি আবার স্ট্যাম্প দিয়ে আবরারের হাঁটু ও পায়ে আঘাত করেন। তাবাখখারুল তখন চড়-থাপ্পড় মারেন। রাত ১১টার দিকে অনিক সরকার আবার কক্ষে আসেন। হঠাৎ অনিক স্ট্যাম্প দিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে এলোপাতাড়ি শতাধিক আঘাত করেন। অনিক খুবই অনিয়ন্ত্রিতভাবে আবরারকে মারতে থাকেন। তার মারা দেখে সবাই ভয় পেয়ে যান। আনুমানিক রাত ১২টার পর অনিক আবরারকে মারা থামিয়ে কক্ষের বাইরে যান। তখন আবরার অসুস্থ হয়ে পড়ে ছিলেন। তিনি জানান, তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। তখন আবরারের মাথার নিচে দুটি বালিশ দেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরই আবরার বমি করেন। মুঠোফোনে বিষয়টি অনিককে জানানো হলে তিনি আবরারকে গোসল করিয়ে হাতে-পায়ে মলম লাগিয়ে দিতে বলেন। এ সময় আবরার দ্বিতীয়বার বমি করেন। তখন আবরারের কক্ষ থেকে তার কাপড়-চোপড় নিয়ে আসা হয়। তখন মেহেদী আবরারকে দেখে বলেন, ‘ও নাটক করছে’। এরপর আবরারকে ২০০৫ নম্বর কক্ষে নিয়ে শুইয়ে দেয়া হয়। এ সময় অমিত খুদে বার্তা পাঠালে তিনি সব কিছু জানতে চান এবং আবরারকে আরও মেরে আরও তথ্য বের করতে বলেন। আবরারের অবস্থা খুব খারাপ জানালে অমিত তাকে হল থেকে বের করে দিতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পর মেহেদী ও অনিক ২০০৫ নম্বর কক্ষে আসেন। আবরারকে দেখে তারা বলেন, ‘ও ঠিক আছে।’ এরপর তারা চলে যান। এ সময় আবরার আবার বমি করেন। মেহেদী তখন আবরারকে পুলিশের হাতে দেয়ার জন্য নিচে নামাতে বলেন। ১৭ ব্যাচের ছেলেরা আবরারকে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হলে তোশকসহ আবরারকে ধরে দোতলা ও নিচতলার সিঁড়িতে নামিয়ে রাখেন। তখন আবরার বলছিলেন যে তার খুব খারাপ লাগছে। সাধারণ সম্পাদক রাসেল তখন নিচে নেমে হলের প্রধান ফটকে পুলিশের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় মুনতাসির দৌড়ে এসে বলেন, আবরারের হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছে। ইফতি তাকে মালিশ করতে বলেন। ইসমাইল ও মনির তখন অ্যাম্বুলেন্সে ফোন দেন। অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি হওয়ায় তামিম বাইক নিয়ে বুয়েট মেডিকেলের চিকিৎসক নিয়ে আসেন। চিকিৎসক আসার পরপরই অ্যাম্বুলেন্স আসে। চিকিৎসক সিঁড়িতে আবরারকে দেখে বলেন, ‘ও মারা গেছে।’ পরে ইফতি একটি কক্ষে গিয়ে শুয়ে থাকেন। সেখান থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

উল্লেখ, গত ৬ অক্টোবর বুয়েট ছাত্র আবরার আহমেদ ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে। এরতার লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনার পর সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যালোচনা করে আবরার আহমেদের বাবা বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ গতকাল পর্যন্ত মামলার এজাহারনামী ১৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এজাহারের বাইরে গ্রেফতার করা হয় ৪ জনকে যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে ৩ জন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।