• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ রজব সানি ১৪৪১

আবরার হত্যার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হতে পারে আইনমন্ত্রী

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে হওয়ার কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা জানান তিনি। এ সময় নুসরাত রাফী হত্যাকাণ্ডের মতো আবরারের বিচারও দ্রুত শেষ করার কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘দ্রুত বিচার আইন, ২০০০’ এ বিচার করার জন্য আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করব। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আবেদন আসতে হয়। ঐটা আসলেই আমরা দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে এ মামলার বিচার করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব।

দ্রুত বিচারের সময়সীমা নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনে কিন্তু বলা আছে একটা সময় দিতে হবে, সেই সময়ের ওপর দিয়ে কিন্তু আমরা যেতে পারব না। সেই বাধ্যবাধকতা আছে। দ্রুত বিচারে যদি বিচার করা হয় তাহলে প্রথম সময়সীমা হচ্ছে ৯০ দিন। তারপরের সময় ৩০ দিন। মোট ১২০ দিনের মধ্যে যদি বিচার সম্পন্ন করতে না পারে তাহলে তৃতীয়বারের জন্য ১৫ দিনের সময় আছে। এই ১৩৫ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে হবে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার যথা শিগগির করা আমার দায়িত্ব। হত্যাকাণ্ডের বিচারও দ্রুত করা হয়েছে। সব আইনি বাধ্যবাধকতা শেষ করে আমরা ফাহাদ হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করবো।

বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, যখন এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে তখনই বলেছিলাম- তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র যখন আদালতে দাখিল করা হবে তখন থেকে দায়িত্ব হবে প্রসিকিউশন টিমের। তখন বলেছিলাম, আমি একটা প্রসিকিউশন টিম প্রস্তুত রাখব। এই মামলাটি যখনই বিচারিক আদালতে পৌঁছে তখনই যেন তারা বিচার কাজ শুরু করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ঠিক সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমি প্রসিকিউশন টিম প্রস্তুত রেখেছি। অভিযোগপত্র চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে দাখিল করার পরে কিছু ফর্মালিটিজ আছে যেমন- যদি পলাতক আসামি থাকে তাহলে তাকে হাজির হওয়ার জন্য আদেশ দিতে হয়। যদি হাজির না হয় তাহলে পলাতক থাকা অবস্থায় বিচার করা যায় সেজন্য একটি গেজেট নোটিফিকেশন করতে হয়। এসব ফর্মালেটিজ যত শীঘ্রই সম্ভব আমরা সম্পন্ন করবো এবং সোমবারের মধ্যে প্রসিকিউশন টিমকে বলব দায়িত্ব নিতে। তারা যেন এই ফর্মালিটিগুলো শীঘ্রই সম্পন্ন করে।

আনিসুল বলেন, ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচার আমরা চাই। কিন্তু ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচার তার পরিবারকে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আর যেটা চাই, এই বিচারের মাধ্যমে অন্ততপক্ষে একটা বার্তা জনগণের কাছে যাক যে এরকম হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক, অপরাধীরা সাজা পাক। যে কারণেই হোক না কেন এটা হত্যাকাণ্ড। এরকম হত্যাকাণ্ড ঘটানো উচিত নয়। সমাজ এটাকে মেনে নেবে না, আমরা এটাকে মেনে নেব না। এটার উচিত বিচার হতে হবে, শুধু উচিত বিচার এ কারণে না যে একটা হত্যাকাণ্ড হয়ে গেছে। এটার মতো আর কোনদিন যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।

পলাতকদের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতের বেঁধে দেয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি তারা আত্মসমর্পণ না করে তাহলে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার করার জন্য প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে অর্থাৎ খবরের কাগজে দিতে হবে। খবরের কাগজে দেয়ার পরেও তারা না আসলে আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন যে পলাতক অবস্থায় বিচার করতে হবে।