• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

ছাত্রীকে যৌন হয়রানি

আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বরখাস্ত

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ

| ঢাকা , সোমবার, ০৮ এপ্রিল ২০১৯

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ছাত্রী যৌন হয়রানিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি বৈঠকে বসে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক মো. আক্কাস আলীকে বিভাগীয় প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এছাড়া এ ঘটনার তদন্তে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে এ তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

ওই শিক্ষকের অধীনে থিসিস করতে থাকা ওই বিভাগের দু’ছাত্রী গত মাসে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

ওই শিক্ষকের বহিষ্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে। পরে তারা ওই শিক্ষকের কুশপুত্তলিকায় আগুন দিয়ে তার প্রত্যাহার দাবি করতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি বৈঠকে বসে ওই শিক্ষককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। তারপর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ভরসার জায়গা। পিতা-মাতা আমাদের ভরসা করে এখানে পড়াতে পাঠিয়েছেন। শিক্ষকরা আমাদের কাছে পিতা-মাতার সমতুল্য। আমরা যদি এখানে এসে হয়রানি হই। এটি সবচেয়ে লজ্জা ও কলঙ্কজনক। আমাদের বড় দু’আপু শিক্ষকের যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। তারা এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এ কারণে আমরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছি। আমরা বিচার চাই। আপুদের সঙ্গে যে অন্যায়টা করা হয়েছে, তা যেন আমাদের সঙ্গে না হয়। প্রধানমন্ত্রী নারী উন্নয়নের কথাই বলছেন। এখানে এসে যদি এভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়, তা হলে আমাদের উন্নয়ন কিভাবে হবে। আমি নারীর নিরাপত্তা চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্রী তাম্মানা ও প্রীয়ন্তি বলেন, কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান মো. আক্কাস আলী স্যার ঘৃণ্য ও জঘন্য অপরাধ করেছেন। আমরা তার স্থায়ী বহিষ্কার চাই। তিনি যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিতে না পারেন। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতে না পারেন। অস্থায়ী বহিষ্কার করলে হবে না। তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করার জন্য ভিসি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ৩য় বর্ষের ছাত্র রাফাজ সামনাম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ করতে হবে। এখানে আমাদের বোনরা পড়াশোনা করতে আসেন। তাদের নিরাপত্তা দিতে হবে। এ আন্দোলনে আমাদের ৬টি দাবি আছে, তার সবগুলো পূরণ করতে হবে। যারা সার্টিফিকেট আটকে রেখে এ ধরনের জঘন্য ঘটনা ঘটায় তাদের প্রতিহত করতে হবে। আমরা নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই। এটাই আমাদের একমাত্র দাবি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. নূর উদ্দিন বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাকে সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ছাত্রী যৌন হয়রানির ঘটনায় বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. আবদুর রহিম খানকে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। আগামী ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে এ কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রত্যাহার করে নেয়ার পর শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয় বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই কর্মকর্তা।