• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৯ আশ্বিন ১৪২৬, ২৪ মহররম ১৪৪১

আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের আস্তানা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়

সংবাদ :
  • আকাশ চৌধুরী

| ঢাকা , বুধবার, ০৭ মার্চ ২০১৮

image

সিলেট : জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে শাবিপ্রবিতে বিক্ষোভ র‌্যালি -সংবাদ

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের ঘাঁটি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিপূর্বে পাঁচ ছাত্র জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে জেল খেটে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের তথ্যানুযায়ী, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষার্থী উল্লেখিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ১০ হাজারের ওপরে ছাত্রসংখ্যা এবং অভিযুক্ত ছাত্রের সংখ্যা ১১ জন। তবুও এ বিষয়টি চরম উদ্বেগজনক।

গত শনিবার ক্যাম্পাসে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টার পর জঙ্গিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আর এরই মধ্যে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই আনসারুল্লাহ বাংলাটিম সদস্য থাকার বিষয়টি। যদিও হামলাকারী ধৃত যুবক ফয়জুর নিজেকে এখনও কোন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য বলে স্বীকার করেনি। এমনকি পূর্বে এ ধরনের ঘটনায় জঙ্গি সংগঠনগুলো নিজেদের দায় স্বীকার করত। তবে জাফর ইকবালের ক্ষেত্রে সেটি লক্ষ্য করা যায়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, আনসারুল্লাহ বাংলাটিম ভালো মেধাবী শিক্ষার্থীদের বেছে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে। মূলত ২০১৬ সালের দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ জঙ্গি সদস্যদের তথ্য পায় পুলিশ।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের তথ্যানুযায়ী অভিযুক্ত ১১ জনের মধ্যে চারজন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), দুজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের ছাত্র। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, ইংরেজি ও গণিত বিভাগের ছাত্রও রয়েছে।

এরমধ্যে বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায়সহ কয়েকজন ব্লগার হত্যার আসামি শাবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মোজাম্মেল হোসাইনকে গত বছরের ১৮ নভেম্বর ঢাকা থেকে থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই বিভাগের আশফাকুর রহমান ওরফে অয়নকে একই বছরের ২ মে ঢাকা থেকে এবং ৬ আগস্ট গণিতের ইব্রাহীম ইবনে মোল্লা ওরফে মোশাররফকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এরআগে ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই আইপিইর ছাত্র আবদুল আজিজ, ২ আগস্ট একই বিভাগের ছাত্র ইফফাত আহমেদ চৌধুরী এবং ২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট সিএসইর শিক্ষার্থী সাদমান আবেদীন ওরফে নিলয়কে শাবি থেকে পুলিশ গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে মোজাম্মেল ছাড়া বাকি পাঁচজনই বছরখানেক জেল খাটার পর জামিনে মুক্তি পায়। ফলে জাফর ইকবালের ওপর হামলায় এদের কোন যুগসূত্র রয়েছে কি-না তাও উড়িয়ে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের সূত্র জানায়, গত বছরের ৬ মার্চ প্রিজন ভ্যান থেকে মুফতি হান্নানকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ যে ক’জনকে গ্রেফতার করেছিল তাদের একজন জুনায়েদ। জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, আনসারুল্লাহর প্রধান সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের প্রতিবেশী সে।

জুনায়েদ জানান, তিনি জিয়াউল হকের প্রতিবেশী। পরে জুনায়েদের বাসায়ও তার যাওয়া-আসার প্রমাণ পায় পুলিশ। জুনায়েদের এক বন্ধু শাবি ছাত্র সায়মনের মাধ্যমে সে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমে যোগ দেয়। তবে আনসারুল্লাহর প্রধান বরখাস্তকৃত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের যোগাযোগ কিভাবে তা এখনও উদঘাটিত হয়নি।