• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮, ১ আষাঢ় জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৯ রমজান ১৪৩৯

মিরপুরে বস্তিতে

আগুনে পুড়ল চার সহস্রাধিক ঘর

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ২০১৮

image

রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনে ইলিয়াস মোল্লা বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে চার হাজারের বেশি ঘর। গতকাল ভোর ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট সাড়ে তিন ঘণ্টা চেষ্টা করে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে ফায়ার সার্ভিস থেকে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশনস) মেজর শাকিল নেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে ওই বস্তিতে ৮ হাজারের মতো ঘর ছিল। আগুনে তার ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশই পুড়ে গেছে। প্রায় ৭০ বিঘা জমির ওপর ওই বস্তিতে ঢোকার রাস্তাগুলো সংকীর্ণ হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে অসুবিধা হয়। এছাড়া কাছাকাছি পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। সাংবাদিকদের প্রশ্নে শাকিল নেওয়াজ বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে কারো নিহত হওয়ার খবর তারা পাননি। তবে আহত একজন নারীকে ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তিনি আরও বলেন অগ্নিকা-ের কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করবে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন সাংবাদিকদের জানান, প্রায় চার হাজার ঘর পুড়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, ইলিয়াস মোল্লা বস্তিতে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসবাস। এদের অধিকাংশই নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। বস্তিতে বসবাসকারীদের একটি বড় অংশ কাজ করেন মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায়। বাকিরা রিকশা চালকসহ বিভিন্ন পেশায় কাজ করতেন। বস্তির উত্তর অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত শুরু হয়। আগুন লাগার পর বাতাসে তা দ্রুত দক্ষিণ অংশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন যখন লাগে তখন বস্তিবাসীরা ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ আগুন দেখে অনেকেই কোন মালামাল না নিয়েই ঘর থেকে বের হয়ে পড়েন। আগুনের লেলিহান শিখায় অনেক দূর থেকেও দেখা গেছে। পুড়ে যাওয়া বস্তির বাসিন্দা পোশাক শ্রমিক রাফিয়া বেগম জানান, সারা জীবনের রোজগারের পুজি এক মুহূর্তে চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত শাহিদা বেগম জানান, ‘আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই গার্মেন্টে চাকরি করি। গত আট বছর ধরে এই বস্তিতে থাকি। বাড়িতে ঘর বানানোর জন্য দুজনে অনেক কষ্ট করে ৯০ হাজার টাকা জমাইয়া ঘরে রাখছিলাম। আমার গলার চেইন, কানের ঝুমকা, আংটিসহ সব মিলাইয়া প্রায় আড়াই লাখ টাকার জিনিস ছিল। আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী মোল্লা ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, যারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহয়তা দেয়া হবে।