• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০, ১৪ সফর ১৪৪২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৭

বিশ্লেষণ

আক্রান্তে তরুণ-যুবকরা বেশি মৃত্যুহার বেশি ষাটোর্ধ্বদের

সংবাদ :
  • রাকিব উদ্দিন

| ঢাকা , বুধবার, ২০ মে ২০২০

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে বয়স্ক নাগরিকরা বেশি আক্রান্ত হলেও বাংলাদেশে তরুণ ও যুবকরা বেশি সংক্রমিত হচ্ছে। তবে মৃত্যু বেশি হচ্ছে বয়স্কদের। অবাধে চলাফেরা, ধূমপান, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বা দূরত্ব না মানা, পুষ্টিহীনতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণেই বাংলাদেশে তরুণ ও যুবকরা করোনায় বেশি সংক্রমিত হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এছাড়াও বাংলাদেশে নারীদের তুলনায় পুরুষ বেশি করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘বাংলাদেশের তরুণ ও যুবকরা স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে খুব বেশি সচেতন নয়। এই সংখ্যা বেশি ঢাকায়। এই শ্রেণীর মানুষ চলাফেরা করে, নিয়ম মানতে চায় না। ঘরেও থাকতে চায় না। এরা সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণ ও দূরত্বের নির্দেশনা খুব বেশি অনুসরণ করছে না, এজন্য এরা বেশি করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। অন্যদেরও সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলছে। তরুণ ও যুবকদের বেপরোয়া চলাফেরার কারণে এদের পরিবারও করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন, করোনা ভীতিতেও ভুগছেন।’

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে গতকাল পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছে ২৫ হাজার ১২১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৭০ জনের। মোট সংক্রমণের ৩ শতাংশের বয়স শূন্য থেকে ১০ বছর, ৮ শতাংশের বয়স ১১-২০ বছর, ২৬ শতাংশের বয়স ২১-৩০ বছর, ২৪ শতাংশের বয়স ৩১-৪০ বছর, ১৮ শতাংশের বয়স ৪১-৫০ বছর, ১৩ শতাংশের বয়স ৫১-৬০ এবং ৮ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে।

দেশের করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২ শতাংশের বয়স ০-১০ বছর, ৩ শতাংশের বয়স ২১-৩০ বছর, ৭ শতাংশের বয়স ৩১-৪০ বছর, ১৯ শতাংশের বয়স ৪১-৫০ বছর, ২৭ শতাংশের বয়স ৫১-৬০ বছর এবং ৪২ শতাংশের বয়স ৬০ এর ঊর্ধ্বে।

এ বিষয়ে আইইডিসিআরের পরামর্শক ও রোগতত্ত্ববিদ ডা. মুশতাক হোসেন সংবাদকে বলেছেন, ‘আসলে যেকোন বয়সের মানুষই করোনায় আক্রান্ত হতে পারে। যারা বেশি বাইরে ঘোরাফেরা করবে, মানুষের সংস্পর্শে যাবে, তারাই বেশি আক্রান্ত হবে। বাংলাদেশে তরুণ ও যুবকরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, কারণ এরা ঘুরে বেড়াচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে তরুণরা বেশি আক্রান্ত হলেও করোনায় মৃত্যুর হার বেশি বয়স্কদের। বিশেষ করে ৬০ বছর বা এর বেশি বয়সের মানুষের মৃত্যুর হার বেশি।’

দেশভেদে মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির অবস্থা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভিন্নরকম হয় মন্তব্য করে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘ইউরোপ-আমেরিকায় বয়স্ক মানুষের বেশি মৃত্যু হচ্ছে, কারণ ওইসব দেশের বয়স্ক মানুষ চাকরি থেকে অবসরে গিয়ে বেশি বেশি ভ্রমণ করেন। এতে বেশি বেশি মানুষের সংর্স্পশ হয়। এজন্য দেশগুলোতে বয়স্ক নাগরিকরা বেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ শিশু ও তরুণ। শূন্য থেকে ২৫ বছর বয়সী জনগোষ্ঠী ৬০ শতাংশ। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা মাত্র ৬ শতাংশ এবং বাকি ৩৪ শতাংশ অন্য বয়সের মানুষ।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ২০১৬ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৪৯ শতাংশের বয়স ২৪ বছর বা তার নিচে। বয়স্ক বা ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ৭ শতাংশ।

এদিকে বাংলাদেশে করোনায় নারীদের চেয়ে পুরুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আইইডিসিআরের হিসাবে, গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬৮ শতাংশ এবং নারী ৩২ শতাংশ। মোট আক্রান্তদের প্রায়ই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা, যাদের একটি বড় অংশ যুবক ও তরুণ।

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের একজন করোনা চিকিৎসক সংবাদকে বলেছেন, ‘দেশের করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর সাধারণ ছুটি বা লকডাউনের মধ্যে নারীরা বাসা থেকে খুব একটা বেড় হয়নি। পুরুষরাই প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাছাড়া দেশের তরুণ ও যুবকদের একটি বড় অংশই এবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এদের সংর্স্পশের কারণে ঘরে থেকেও নারীরা আক্রান্ত হচ্ছেন।’

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশে তরুণরা বেশি আক্রান্ত হবেন, এটাই স্বাভাবিক। ঢাকার তরুণ ও যুবকদের একটি বড় অংশ অবাধে চলাফেরা করতে চায়, নিয়ম মানতে চায় না। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নানা পদক্ষেপ নিয়েও রাজধানীর তরুণ ও যুবকদের সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধ অনুসরণ করাতে পারেনি।