• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০, ১৬ জিলহজ ১৪৪১, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু ২৪

আক্রান্ত ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে

৭ দিনে বাড়ল ১০ হাজার

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শনিবার, ২৩ মে ২০২০

image

দেশে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এখন ভয়াবহ হারে বাড়ছে। করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রাণহানি হয়েছে। মারা গেছেন ২৪ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৩২ জন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত হিসেবে ৩ জন শনাক্ত হন। আক্রান্তের সংখ্যা প্রথম ১০ হাজারে পৌঁছাতে সময় লাগে ৫৮ দিন। ৪ মে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১০,১৪৩ জনে। পরের ১০ হাজার বাড়তে সময় লাগে ১১ দিন। ১৫ মে দাঁড়ায় ২০,০৬৫ জনে। তৃতীয় ১০ হাজার বাড়তে সময় লাগে মাত্র ৭ দিন। গতকাল ২২ মে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০,২০৫ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১,৬৯৪ জন। নতুন করে সুস্থ হ?য়েছেন ৫৮৮ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হলেন ৬ হাজার ১৯০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৯ হাজার ৭২৭টি। এ পর্যন্ত (২ মাস ১৪ দিনে) দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৪১টি। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, আশঙ্কা সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে রয়েছে নানা অব্যবস্থাপনা। তারা সংক্রমণ ও প্রাণহানি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন ঈদের ছুটিতে যেভাবে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে, মানুষ যেভাবে গ্রামে ছুটছেন নির্বিঘ্নে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াত করছেন এতে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে বেশিদিন সময় লাগবে না।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। তারা এবারে ঈদের ছুটিতে সবাইকে যার যার ঘরে থেকে ঈদ উদযাপনের আহবান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, মহামারী করোনা থেকে বাঁচতে হলে ঘরে থাকতে হবে। সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে। অযথা ঘোরাফেরা করা যাবে না। জরুরি প্রয়োজনে কাউকে যদি ঘর থেকে বের হতে হয় অবশ্যই বাইরে থাকাকালীন পুরো সময় মুখে মাস্ক পড়ে থাকতে হবে। অনেকেই বাইরে চলাফেরা করছেন কোন রকম স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার ছাড়াই। মাস্ক ব্যবহার করছেন না। অথবা মাস্ক মুখে থাকলেও সেটি যথানিয়মে ব্যবহার করছেন না। হাতে গ্লাভস ব্যবহার করছেন না। রাস্তাঘাটে ধুমপান করছেন। চায়ের দোকান বা নিত্যপণ্যের দোকানে ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বুলেটিনে বলা হয়- নতুন করে যে ২৪ জন মারা গেছে এর মধ্যে ১৩ জন ঢাকা বিভাগের, ৯জন চট্টগ্রাম বিভাগের, একজন বরিশাল বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের। বয়সের দিক থেকে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী পাঁচজন, ত্রিশোর্ধ্ব তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব দুজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব পাঁচজন, ষাটোর্ধ্ব ছয়জন, সত্তরোর্ধ্ব দুজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছর বয়সী একজন রয়েছেন। ২৪ জনের মধ্যে ১৫ জন মারা গেছেন হাসপাতালে, আটজন বাসায় এবং একজন হাসপাতালে আনার পথে মারা যান।

বুলেটিনে বলা হয়, শনাক্ত রোগীর সংখ্যার বিবেচনায় সুস্থতার হার ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশ, মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ২২৫ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন চার হাজার ৬০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৬২ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ২৮ জন। সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা আছে ১৩ হাজার ২৮৪টি। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায়ে সাত হাজার ২৫০টি এবং ঢাকার বাইরে আছে ছয় হাজার ৩৪টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা আছে ৩৯৯টি এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০৬টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে দুই হাজার ৫৬০ জনকে। এ পর্যন্ত কেয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে দুই লাখ ৫৮ হাজার ৯৪ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ১৯ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড়া পেয়েছেন দুই লাখ তিন হাজার ১৭১ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৫৪ হাজার ৯২৩ জন। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য ৬২৬টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেয়া যাবে ৩১ হাজার ৮৪০ জনকে।

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেছেন, যে যেখানে আছেন, সেখানেই অবস্থান করুন। শহর থেকে গ্রামের দিকে যাবেন না। যে প্রিয় আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য আপনি শহর ছেড়ে গ্রামে যেতে চাচ্ছেন, আপনার কারণে সেই প্রিয়জন যেন ঝুঁকিতে না পড়ে। তিনি বলেন, করোনার কারণে যে যুদ্ধাবস্থা চলছে, তার বিরুদ্ধে সবাইকে যুদ্ধের মানসিকতা রাখতে হবে। লড়াইয়ের মানসিকতা রাখতে হবে।

ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনসাধারণ তথা আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আপনাদের মনে রাখতে হবে, আপনাদের জন্য কাজ করতে গিয়ে অনেক চিকিৎসক, নার্স বা ফার্মাসিস্ট, টেকনোলজিস্ট, গাড়িচালক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী অসুস্থ হয়েছেন; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনের সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ অনেকেই অসুস্থ হয়েছেন এবং অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। অনুগ্রহ করে আপনারা সহযোগিতা করুন।