• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

দেশে করোনা পরিস্থিতি

আক্রান্ত ১০ হাজার ছাড়িয়েছে

২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৬৮৮ : মৃত্যু ৫ জন

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২০

image

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ মাসের মধ্যে ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬৮৮ জন শনাক্তের মধ্য দিয়ে ৫৭ দিনে শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৪৫ জন। অন্যদিকে, নতুন করে ৫ জনের মৃত্যুসহ মোট মারা গেছেন ১৮২ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জোরালো পদক্ষেপ না থাকায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের এবং মৃতের সংখ্যা।

প্রতিদিন বিপুল সংখ্যায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। শুরুতে রাজধানীতেই শনাক্ত ও আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও তা ছড়িয়ে পড়ে জেলা পর্যায়ে। করোনাভাইরাসে প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার প্রায় ২ মাসের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ১৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আর প্রাণ গেছে প্রায় পৌনে ২শ’ ব্যক্তির। আক্রান্ত ও মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণ মানুষ ছাড়াও পুলিশ, সাংবাদিক, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ রয়েছে। এছাড়াও আক্রান্তের মধ্যে সংসদ সদস্য, পুলিশ, সাংবাদিক, আনসার, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা- কর্মী, চিকিৎসক, নার্স রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে ৮ মার্চ প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ৩৭ দিনের মাথায় শনাক্তের সংখ্যা ১০০০ ছাড়ায় ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে। একদিন পর ১৫ এপ্রিল শনাক্তের সংখ্যা ১২৩১ জনে দাঁড়ায়। ৩ দিন পর ১৮ এপ্রিল শনাক্ত হয় ২ হাজার ১৪৪ জন। ২০ এপ্রিল শনাক্তের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারের কাছাকাছি যায়। শনাক্ত হয় ২ হাজার ৯৪৮ জন। ২১ এপ্রিল এক লাফে শনাক্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৮২ জনে পৌঁছে। ২৩ এপ্রিল শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৮৬ জনে। ২৫ এপ্রিল শনাক্তের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারে গিয়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৯৯৮ জন। ২৬ এপ্রিল ১ মাস ১৮ দিনের মাথায় শনাক্তের সংখ্যা পৌঁছে ৫ হাজার ৪১৬ জনে। ২৭ এপ্রিল মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজারের কাছাকাছি। ৫ হাজার ৯১৩ জন। ২৮ এপ্রিল মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ হাজার ৪৬২ জনে। ২৯ এপ্রিল মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ হাজার ১০৩ জনে। ১ মে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজারে গিয়ে পৌঁছে। ২ মে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ৯৯০ জনে গিয়ে পৌঁছে। ৩ মে মোট শনাক্তের সংখ্যা সাড়ে ৯ হাজার হলেও গতকাল (রোববার দুপুর থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত) ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্ত ৬৮৮ জন হয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা ১০ হাজার ১৪৩ জনে পৌঁছে।

করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব না মেনে অবাধে ঘোরাফেরা, বাজারঘাটে যাওয়া, পাড়ামহল্লায় আড্ডা দেয়া এবং হোম কোয়ারেন্টিন না মেনে চলাকে দায়ী করছেন চিকিৎসকরা। গত ২৫ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সাধারণ ছুটিতে জনসাধারণকে পুরোপুরি বাসায় থাকার নির্দেশনা দিয়ে সরকারি-বেসরকারি সবধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে এরমধ্যে ওষুধের দোকান, নিত্যপণ্যের দোকান শর্তসাপেক্ষে খোলা রাখার অনুমোদন দেয়া হয়। সবকিছু বন্ধ করে দেয়ার পরও মানুষের অবাধ চলাফেরা, রোগের তথ্য গোপন রেখে বাইরে চলাফেরাসহ নানা কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। ১ মাস ১৮ দিন লকডাউন থাকা সত্ত্বেও এতো রোগী আক্রান্ত হওয়া উদ্বেগের বিষয়। যদি লকডাউন শিথিল করা হতো তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতো।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, ৮ মে করোনায় প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষায় প্রথমে স্বল্প পরিমাণ মানুষের মধ্যে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়। শুরুতে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশ ছিল ইতালিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বাংলাদেশি প্রবাসী। তাদের সংস্পর্শে থাকা স্বজনরা ধীরে ধীরে আক্রান্ত হতে শুরু করে। এরপর ২৫ মার্চ সরকারি-বেসরকারি সবধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ছুটিকালীন সবাইকে নিজ নিজ বাসায় হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়। সবধরনের গণপরিবহনও বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর আন্তর্জাতিক রুটেও সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে রাখা হয়। ছুটিকালীন সময় বিভিন্ন গার্মেন্ট শ্রমিক, নিম্ন আয়ের মানুষ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবীরা ঢাকা ছাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে হঠাৎ গার্মেন্টস খোলার খবরে চাকরি হারানোর ভয়ে শ্রমিকদের ঢল নামে ঢাকার দিকে। একসঙ্গে শ্রমিকরা ঢাকায় আসতে শুরু করার পর থেকেই করোনা সংক্রমণ বেড়ে যেতে শুরু করে। অর্থাৎ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় এবং বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, সামাজিক দূরত্ব কার্যকর করতে না পারাসহ বিভিন্ন ব্যর্থতার কারণে করোনা সংক্রমণ পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

গত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি

মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত প্রাণ হারালেন ১৮২ জন। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৬৮৮ জন। নতুন করে সর্বোচ্চ শনাক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে করোনায় মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০ হাজার ১৪৩ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন আরও ১৪৭ জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন এক হাজার ২১০ জন।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয় হাজার ৩১৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ছয় হাজার ২৬০টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ৮৭ হাজার ৬৯৪টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ৬৮৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটি গতকালের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ১৪৩ জন। এদের মধ্যে মারা গেছেন আরও পাঁচজন। এ নিয়ে মারা গেছেন ১৮২ জন। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ১৪৭ জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ২১০ জন।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তারা সবাই পুরুষ। তিনজন ঢাকার, একজন সিলেট ও একজন ময়মনসিংহের বাসিন্দা। তিনজন ষাটোর্ধ্ব, একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং একজন ত্রিশোর্ধ্ব। গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১৪৭ জন সুস্থ হয়েছেন, তাদের মধ্যে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের ১৩ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ১১ জন, ঢাকা মহানগর হাসপাতালের সাতজন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের ১৩ জন, মিরপুর লালকুঠি হাসপাতালের চারজন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৪ জন রয়েছেন। এছাড়া ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালের ১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাত জন, রাজশাহী বিভাগের তিন জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ১৭ জন, রংপুর বিভাগের চার জন এবং সিএমএইচের ১৪ জন রয়েছেন।

বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৯০ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন এক হাজার ৬৩৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৯১ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ছাড়া পেয়েছেন এক হাজার ১৭৩ জন। রাজধানীসহ সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে নয় হাজার ৬৩৮টি। তন্মধ্যে রাজধানী ঢাকায় রয়েছে তিন হাজার ৯৪৪টি এবং রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে রয়েছে পাঁচ হাজার ৬৯৪টি। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে দুই হাজার ৭৪২ জনকে এবং এ পর্যন্ত নেয়া হয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ৩৩৪ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়া পেয়েছেন ২৮ হাজার ৫৪৮ জন। এ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন এক লাখ ৫৩ হাজার ৪০১ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৪১ হাজার ৯৩৩ জন।