• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জৈষ্ঠ্য ১৪২৫, ১৪ রমজান ১৪৪০

অল্পের জন্য রক্ষা পেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

সংবাদ :
  • সংবাদ স্পোর্টস ডেস্ক

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

image

হোটেলে ফেরার আগে তামিম-সৌম্যরা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন ৪৯ জন। পুরো বিশ্ব কাঁদছে নিহতদের জন্য। বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি হতে পারতো আরও ভয়াবহ। কেননা, ক্রাইস্টচার্চের হেগলে ওভাল স্টেডিয়ামে আজ তৃতীয় টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অবস্থান করছিল ওই শহরেই। আর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাস্থল ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদেই শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন টাইগাররা। টিম বাস মসজিদ থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে পৌঁছতেই শুরু হয়ে যায় হামলা। মূলত ম্যাচের আগের দিন স্ট্যান্ড ইন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের প্রেস কনফারেন্স নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দশ মিনিট দেরিতে শেষ হওয়াতেই বেঁচে যায় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম দলের সদস্যরা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট বলেছেন, আমরা আর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে পৌঁছলেই আমাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি হতে পারত।

তিনি জানিয়েছেন, দলের সবাই টিম হোটেলে নিরাপদ ও সুস্থ আছে এবং শনিবারই দেশে ফিরবে। তিনি বলেন, বাসের মধ্যে দলের প্রতিটি সদস্য কাঁদছিলেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বাসের মধ্যে ১৭ জন ছিলাম। ম্যানেজার হিসেবে দলের প্রতিটি সদস্যকে নিরাপদে পৌঁছানোটা ছিল আমার দায়িত্ব। হামলার সময় মনে হয়েছে আমরা বোধ হয় কোন সিনেমার গোলাগুলির দৃশ্যের মধ্যে পড়ে গেছি।

খালেদ মাসুদ বিবিসির সঙ্গে কথা বলার আগেই বেশ কয়েকজন টাইগার ক্রিকেটার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলার ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান।

টাইগারদের ওপেনিং ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল টুইট করেন, পুরো দল হামলাকারীর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম লেখেন, দল অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। আমরা এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না।

ইএসপিএনক্রিকইনফোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইশাম বিবিসিকে জানান যে, তিনি গুলির সময় দলের সঙ্গেই ছিলেন।

তিনি বলেন, আমি দলকে অনুশীলনের পার্কিং এলাকা থেকে বেরিয়ে যেতে দেখি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তামিম ইকবাল আমাকে ফোন করে সাহায্য চান। তামিম বলতে থাকেন, আমাদের বাঁচান, কেউ একজন গুলি করছে। প্রথমে আমি তামিমের কথায় পাত্তা দেইনি। কিন্তু তামিমের কণ্ঠ ভারী হয়ে যেতে থাকে এবং তিনি বারবার সাহায্যের আকুতি জানান। তখন আমি দৌড়ে ঘটনাস্থলে যাই। প্রায় পুরো রাস্তাই দৌড়ে পাড়ি দিচ্ছিলাম, কিন্তু কেউ একজন আমাকে গাড়িতে লিফট দিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়।

ইশাম বলেন, মাত্র একশ গজ দূর থেকে আমি টিম বাস দেখে ওইদিকে দৌড় লাগাই। প্রথমে ভেবেছিলাম, টিম বাসের কাছে গিয়ে ঘটনা জানার চেষ্টা করব। এ সময়ে সরাসরি গুলির ঘটনা দেখতে পাই। একটি লাশ দেখি এবং একজনকে কাঁধে গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় আমার পাশ দিয়ে দৌড়ে যেতে দেখি। ততক্ষণে খেলোয়াড়রা বাস থেকে নেমে আমার দিকেই দৌড়ে আসছিল এবং আমাকে সেখান থেকে চলে আসতে বলছিল। আমরা নিরাপত্তার কথা ভেবে দৌড়ে হেগলে পার্কে চলে আসি এবং সেখানে এক ঘণ্টা অবস্থান করি।

ক্রিকইনফোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি বলেন, বাসে আটকা পড়ে ১৫ মিনিটের মধ্যে দেখা ভয়ংকর ও মর্মান্তিক ঘটনায় খেলোয়াড়রা আতঙ্কের মধ্যে ছিল ও কাঁদছিল। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ দেশ হওয়ার কারণে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ দলের জন্য বাড়তি কোন নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না।

এদিকে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের (এএনজেড) প্রধান নির্বাহী ডেভিড হোয়াইট শনিবারের নির্ধারিত বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টেস্ট বাতিলের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করেই আমরা একমত হই যে, সময়টা ক্রিকেটের জন্য উপযুক্ত নয়। দুটি দলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বাগতিক হিসেবে সফরকারী দলের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের। আমাদের কাছে দেশটা নিরাপদ স্বর্গের মতই। আমি নিশ্চিত যে এই ঘটনার পর নিউজিল্যান্ড নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে ভাববে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলও (আইসিসি) ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। বিবিসি।