• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩০ মহররম ১৪৪২, ০২ আশ্বিন ১৪২৭

অপর্যাপ্ত জনবল দিয়েই শুরু হলো নারায়ণগঞ্জে করোনা পরীক্ষা

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২০

নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে উদ্বোধন করা হয়েছে বহুল আকাক্সিক্ষত পিসিআর ল্যাবের কার্যক্রম। গতকাল দুপুরে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে শুরু হয়েছে সরকারিভাবে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা। তবে করোনা পরীক্ষা ও রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত জনবল সংকট রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে জেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য প্রথম দাবি জানায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব। পরীক্ষাগারের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেয় সামাজিক, রাজনৈতিক ৪৬টি সংগঠন। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও একই দাবি জানান। সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জেলা প্রশাসনের কনফারেন্সে ল্যাব স্থাপনের বিষয়টি উঠে আসলে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিভাগকে নারায়ণগঞ্জে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের নির্দেশনা দেন। ১৯ এপ্রিল থেকে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব স্থাপন কাজ শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল ল্যাবটির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। ফলে এখন থেকে জেলায় করোনা চিকিৎসার পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। ২৪ ঘণ্টায় পাওয়া যাবে ফলাফল। একদিনে সর্বোচ্চ ৯০টি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে এই ল্যাবে। দক্ষ লোকবল পাওয়া গেলে এই নমুনা পরীক্ষার পরিমাণ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

উদ্বোধন শেষে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বলেই আমরা এই পিসিআর ল্যাব স্থাপন করতে পেরেছি। আমরা দৈনিক ৯০টা নমুনা টেস্ট করতে পারবো। জনবল বাড়লে আরও করতে পারবো।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সামসুদ্দোহা সঞ্চয় জানান, এই ল্যাবের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট দেয়া সম্ভব হবে। তবে জনবল সংকটের কারণে প্রতিদিন পিসিআর মেশিনটি একবার ব্যবহার করে ৯০টি নমুনাই পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। তবে জনবল বাড়লে মেশিনের প্রতি ব্যবহারে দ্বিগুণ ফলাফল পাওয়া যাবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ল্যাবটি পরিচালনার জন্য একজন ভাইরালজিস্ট এবং দুইজন টেকনেশিয়ান রয়েছে। যদিও দুইজন ভাইরালজিস্ট এবং দশজন টেকনেশিয়ানের দেয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের ৬ চিকিৎসক, ৯ নার্সসহ অর্ধশত স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত আছেন। অপর্যাপ্ত জনবল নিয়েই সেবা দিয়ে যাচ্ছে হাসপাতালটি। বর্তমানে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬৭ জন কোভিড পজেটিভ রোগী। তবে আইসিইউ ইউনিট এখনও সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়নি। জনবল সংকটের বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে আবেদন করেছি। তবে তারা এখনো কিছু বলেনি। বিষয়টা হচ্ছে জনস্বাস্থ্য বিভাগের কাছেও টেকনেশিয়ান নেই। তারাই-বা কোথা থেকে দিবেন। মুহূর্তের মধ্যে তো আর টেকনেশিয়ান, নার্স তৈরি করা যায় না। বর্তমান জনবল নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে।’