• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ রবিউস সানি ১৪৪১

অন্যের নামে আইডি খুলে জঙ্গিবাদের প্রচারণা

নোয়াখালীর সুধারাম থেকে আসামি গ্রেফতার

সংবাদ :
  • বাকী বিল্লাহ

| ঢাকা , সোমবার, ০৭ অক্টোবর ২০১৯

জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণে একের পর এক অভিযানে উগ্র জঙ্গিরা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ছে। এখন তারা নতুন নতুন কৌশলে বিচ্ছিন্নভাবে জঙ্গিবাদের প্রচারণা চালাচ্ছে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের সাইবার ইউনিটের ওয়েবসাইট অ্যান্ড ই-মেইল ক্রাইম টিম সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং করতে গিয়ে এক ভয়াবহ তথ্য উদ্ঘাটন করে। আবু উসামা রহমানী নামের এক ফেসবুক আইডিতে লেখা রয়েছে মাজার বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া মুসলিমদের ওপর ফরজ। এমন নানা ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য, ভিডিও এবং প্রশিক্ষণসহ উগ্রবাদী তথ্য লেখা রয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তারা সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিংয়ের সময় বিষয়টি জেনে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ফেসবুক আইডির ব্যবহারকারী ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে বিকৃত করে উপস্থাপন করছে। উগ্র মতাদর্শে বিশ্বাসী অভিযুক্ত আরমান হোসেন সহযোগীদের পোস্ট লাইক/শেয়ার করছেন। এ বিষয়ে অনুসন্ধানপূর্বক দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দেয়।

এর প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৩ জুলাই ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের অফিশিয়াল ই-মেইল থেকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আবু উসামা রহমানী নামক ফেসবুক আইডিটি ২০১৮ সালের ২৮ মে তৈরি করা হয়েছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আইডির লগ হিস্ট্রিসহ সব তথ্য জানিয়ে দেয়।

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধানে জানা যায়, আইডিটি ব্যবহারকারীর অবস্থান নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানা এলাকা। ডিসি সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ, কাউন্টার টেরোজিম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট, ডিএমপি ঢাকা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে সাইবার ওয়েবসাইট অ্যান্ড ই-মেইল ক্রাইম টিমের ইনচার্জ সহকারী পুলিশ কমিশনার সাইদ নাসিরুল্লাহর নেতৃত্বে একটি টিম ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই সকালে সুধারাম গিয়ে অনুসন্ধান করে। সুধারাম থানা পুলিশের সহায়তায় ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই রাতে পশ্চিম বদরীপুর এলাকার সোনাপুর গ্রামে আবদুর রব চেয়ারম্যানের বাড়ির একটি টিনের ঘরে অভিযান চালিয়ে আসামি আরমান হোসেনকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবু উসামা রহমানী নামক ফেসবুক আইডিটি ও উগ্রবাদী লেখাগুলো তার নিজের বলে স্বীকার করেছে। প্রয়াত আবদুর রব চেয়ারম্যানের শ্যালক আতিক উল্ল্যাহ মামুনের অজ্ঞাতসারে সিমটি ব্যবহার করে নিজের পরিচয় গোপন করে উগ্রবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ, লেখা, পোস্ট শেয়ার করার জন্য সে আবু উসামা রহমানী নামক ফেসবুক আইডি তৈরি করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উন্মুক্ত তরবারি নামক ফেসবুক আইডির মাধ্যমে সে উগ্রবাদী ফেসবুক গ্রুপে মুসলিম বাহিনীর ৩৫ জন, আমরা মুসলিম এর ১০ জন, ইসলামী আলোচনার ৮৮ জনের সঙ্গে মেসেঞ্জারে সংযুক্ত এবং ফেসবুক আইডি তাওহীদের ডাক, হিন্দুস্থানের সৈনিক, বিন রাফিক আরমানের মাধ্যমে বিভিন্ন জঙ্গি ও উগ্রবাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে স্বীকার করে।

তার স্বীকারোক্তি ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আরমান হোসেনের হেফাজত থেকে মোবাইল ফোনের সিম, মেমোরি কার্ডসহ অন্য আলামত জব্দ করা হয়।

অভিযুক্ত আরমান স্বীকার করে তার আধ্যাত্মিক গুরু মুফতি মুহাম্মদ জসীমুদ্দীন রাহমানী। সে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল-ইসলামের টিমের সদস্য বলে। তার হেফাজত থেকে উদ্ধারকৃত মেমোরি কার্ডে জসীমুদ্দীন রাহমানীর লেখা উন্মুক্ত তরবারি, দীন কায়েমের সঠিক পথ, কিতাবুল ইমান, কিতাবুল তাওহিদসহ আরও অনেক উগ্রবাদী বই পিডিএফ ফরমেটে আছে বলে প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে।

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল-ইসলাম টিমের সদস্য অভিযুক্ত আরমান হোসেন সামাজিকভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি, হত্যার হুমকি দেয়ার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে জননিরাপত্তা বিপন্ন ও জনসাধারণে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে এসব পোস্ট ফেসবুকে আপলোড করত। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। শীঘ্রই মামলার চার্জশিট দেয়া হবে।