• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ২০ শাওয়াল ১৪৪০

অনেক চ্যালেঞ্জ আর প্রত্যাশার বাজেট আজ

সংবাদ :
  • রোকন মাহমুদ

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

image

  • সম্ভাব্য বাজেটের আকার ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা
  • নতুন অর্থমন্ত্রীর প্রথম আর দেশের ৪৮তম বাজেট

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা অর্থনীতির একটি শক্তি ছিল। সেই শক্তিতে চিড় ধরছে, দেখা দিচ্ছে দুর্বলতা। গত ১০ বছরের মধ্যে সামষ্টিক অর্থনীতি সবচেয়ে চাপের মুখে রয়েছে। অর্থনীতিকে এই চাপ থেকে বের করে আনাই এখন সরকারে প্রধান দায়িত্ব। এছাড়া চলমান মেগা প্রকল্পগুলোতে অর্থ যোগান, বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরি করা, কৃষি প্রধান অর্থনীতি থেকে শিল্পপ্রধান অর্থনীতিতে রূপান্তরসহ রয়েছে আরও বেশ কিছু চাপ। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করাও বড় একটি চ্যালেঞ্জ। কেননা এখনও আমাদের কর জিডিপির রেশিও খুবই কম। এর বাইরে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের তাগিদ তো রয়েছেই। সবমিলিয়ে উন্নয়ন ও অর্থনীতিকে গতিময় রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখেই আজ নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জীবনের প্রথম জাতীয় বাজেট দিতে যাচ্ছেন। জাতীয় সংসদে আজ বিকেল ৩টায় এই বাজেট উপস্থাপন করবেন। স্পিকার শিরীন শারমিনের সভাপতিত্বে এই বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের ২০তম আর দেশের ৪৮তম বাজেট। এবারের বাজেটের শিরোনাম দেয়া হয়েছে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’।

বাজেট সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলছেন, এবারের বাজেট হবে একটি স্মার্ট বাজেট। এতে বক্তব্য গতানুগতিক বিশাল আকারের হবে না। বক্তব্য হবে সংক্ষিপ্ত ও টু-দি পয়েন্ট। তাই বলে বাজেটের আকার ছোট হবে না। বরং যেকোন সময়ের তুলনায় এটি হবে রেকর্ড বাজেট। সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে থাকবে নতুন নতুন উদ্যোগ। আগামী বাজেটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী পালনের প্রতিফলন থাকবে। তবে বেশি মনোযোগ থাকবে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে। গ্রামকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হবে যেখানে ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থাকবে।

এবার আকর্ষণীয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে মহান জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করা হবে। বাজেট বক্তৃতার বর্ধিত সংস্করণ, মূল বাজেট বক্তৃতাসহ অন্যান্য সব ডকুমেন্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ জাতীয় সংসদ হতে সরবরাহ করা হবে। বাজেটকে আরও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট www.mof.gov.bd-এ বাজেটের সব তথ্যাদি ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যেকোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাঠ ও ডাউনলোড করতে পারবেন/পারবে এবং দেশ বা বিদেশ থেকে উক্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফিডব্যাক ফরম পূরণ করে বাজেট সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশ প্রেরণ করা যাবে। প্রাপ্ত সব মতামত ও সুপারিশ বিবেচনা করা হবে। জাতীয় সংসদ কর্তৃক বাজেট অনুমোদনের সময় ও পরে তা কার্যকর করা হবে। এছাড়া আরও যেসব ওয়েবসাইটে বাজেট সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে তা হলো- www.bangladesh.gov.bd,www.nbr-bd.org,

www.plancomm.gov.bd, www.imed.gov.bd, www.bdpressinform.portal.gov.bd, www.pmo.gov.bd। বাজেট উপস্থাপনের পরদিন অর্থাৎ আগামীকাল বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের কার্নিভাল হলে বাজেটোত্তর সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যয়ের বণ্টনের জন্য আয়ের বৃদ্ধি দরকার। এখন দেখার বিষয় এটি কতটা পারেন নতুন অর্থমন্ত্রী। অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জগুলো তিনি কতটা মোকাবিলা করতে পারেন। কেননা প্রত্যেক অর্থমন্ত্রীই বাজেটের আকার ও রাজস্বের লক্ষ্য বাড়িয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি।

বাজেটের আকার : প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। যা জিডিপির ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। আসন্ন বাজেটে ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ছে ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। সে হিসেবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার থেকে নতুন বাজেট ১২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

জিডিপি আকার : আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হচ্ছে ২৮ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি বাজেটের তুলনায় ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বেশি। চলতি অর্থবছরে জিডিপির আকার ধরা হয় ২৫ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। আর জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জিডিপি ৭.৮ শতাংশ ধরা হলেও ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতির চাপ ৫.৫ শতাংশে আটকে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এডিপি আকার : আগামী অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা খরচের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। সেই তুলনায় নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার বাড়ছে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। নতুন এডিপিতে মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৫৬৪টি। গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পরিবহন খাতে।

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য : ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১৩ দশমিক ১ শতাংশের সমান। চলতি অর্থবছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। সে হিসেবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। যেখানে কর রাজস্ব ৩ লাখ ৪০ হাজার ১শ কোটি, করবহির্ভূত রাজস্ব ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭শ ১০ কোটি টাকা। আসছে বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত করের পরিমাণ ধরা হচ্ছে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত করের পরিমাণ ধরা হচ্ছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এছাড়া বৈদেশিক অনুদান ধরা হচ্ছে ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা।

পরিচালন ব্যয় : আসছে বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে তিন লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয় ধরা হচ্ছে দুই লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এরই মধ্যে এডিপি অনুমোদন করা হয়েছে।

ঘাটতি : বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের থেকে ২০ হাজার ৮৭ কোটি টাকা বেশি। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের ঘাটতি ছিল এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উৎস থেকে নিট ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা ঋণ নেয়া হতে পারে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এর পরিমাণ ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা। এছাড়া অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নিট ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা নেয়া হবে। চলতি অর্থবছরে এর পরিমাণ ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা (চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এর পরিমাণ ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা) এবং সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা (চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এর পরিমাণ ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা) নেয়া হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য খাত থেকে নেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে তিন হাজার কোটি টাকা। এটি চলতি অর্থবছরে একই পরিমাণ রয়েছে।

বাড়ছে ভর্তুকি : আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও ঋণ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে। এসব খাতে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বরাদ্দ ছিল ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ বরাদ্দ ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা বেড়ে হচ্ছে ৫০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। যা পদ্মা সেতুর মোট ব্যয়ের প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি থাকছে ৩২ হাজার ১০০ কোটি টাকা, প্রণোদনা ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, নগদ ঋণ সহায়তা থাকছে ৫ হাজার কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়লেও প্রণোদনা ও নগদ ঋণে বরাদ্দ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বাড়ছে না করমুক্ত আয়ের সীমা : পেশাজীবী-ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সব মহলের দাবির পরও আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তি-শ্রেণীর করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হচ্ছে না। অর্থাৎ আগামী অর্থবছরেও আড়াই লাখ টাকা বেশি বার্ষিক আয় হলে আয়কর দিতে হবে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পর থেকে ব্যক্তি-শ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হয়নি, আড়াই লাখ টাকাই রয়েছে। এর আগে প্রায় প্রতিবছরই এই সীমা বাড়ানো হয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২ লাখ এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

রেমিট্যান্স প্রেরণে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা : প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দেয়া হবে। প্রবাসীরা বছরে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাবেন তার ওপর ২ শতাংশ হারে এ সুবিধা দেয়া হবে। এজন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে এ বিষয়ে ঘোষণা থাকছে।

ভ্যাট আইন কার্যকর : আগামী ১ জুলাই থেকে বহুল আলোচিত ভ্যাট আইন কার্যকর করা হবে। এটি কার্যকর হলে আগামী বছর রাজস্ব আয়ে গতি আসবে। এজন্য ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে পুরনো আইনের আদলেই নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইন হচ্ছে। পুরনো আইনের সাতটি হারের পরিবর্তে নতুন আইনে সব মিলিয়ে পাঁচটি ভ্যাট হার হচ্ছে। এই হারগুলো হলো-পণ্য বা সেবা আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ, উৎপাদনে ১০ শতাংশ, পাইকারি পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ, খুচরায় ৫ শতাংশ এবং পণ্য বা সেবায় ট্যারিফ মূল্যে ২ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ হবে। এছাড়া ১ হাজার ৯৮৩টি পণ্যে মূসক অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে।

রপ্তানিতে সহায়তা : রূপকল্প বাস্তবায়নে ২০২১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় করতে চায় সরকার। এজন্য রপ্তানিতে উৎসাহী করতে উদ্যোক্তাদের আগামী ১ জুলাই থেকে রপ্তানিকৃত সব পণ্যে ১ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হবে। বর্তমান ৪৫টি পণ্য রপ্তানির ওপর নগদ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

মেগা প্রকল্পে বাড়ছে বরাদ্দ : উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটে বড় অবকাঠামো প্রকল্পে হাত খুলে অর্থ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে নতুন করে বরাদ্দ পাচ্ছে ৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে ৪০০ কোটি টাকা, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্পে এক হাজার ৩৫০ কোটি টাকা, গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পে (বিআরটিএ) ৪৫৬ কোটি টাকা, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের (লাইন-৬) ৭ হাজার ২১২ কোটি টাকা, ঢাকা শহরের সাবওয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো) নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা প্রকল্পে প্রায় ৮২ কোটি টাকা, ‘সাপোর্ট টু ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি’ প্রকল্পে ১ হাজার ৩৮ কোটি টাকা, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (লাইন-১) প্রকল্পে ১৬৮ কোটি টাকা, তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ৬০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংকিং খাত, পুঁজিবাজার, সঞ্চয়পত্রে সংস্কারের প্রস্তাব করা হলেও প্রতিবারই কিছু পরিবর্তন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও কিছু পরিবর্তন করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো উদ্যোগ থাকবে বেকারদের জন্য ঋণ তহবিল (স্ট্যাট আপ ফান্ড)। এ তহবিল থেকে স্বল্পসুদে সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন বেকাররা। কৃষকের জন্য ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে চালু করা হবে শস্যবীমা। নতুন উদ্যোগের মধ্যে থাকছে প্রবাসীদের জন্য বীমা সুবিধা। সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসন্ন বাজেটে উপকারভোগীর সংখ্যা ১৩ লাখ বাড়িয়ে ৮৭ লাখে উন্নীত করা হবে। আসছে বাজেটে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ২ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হচ্ছে। দেশের দরিদ্র ১৫ হাজার ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোক ও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সুবিধা দ্বিগুণ করা হচ্ছে। বরাদ্দ বাড়ানো হবে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে। এছাড়া বাজেটে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী পালনের প্রতিফলন থাকবে।