• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪১

নতুন সদস্য সংগ্রহে

অনলাইনে লোভনীয় প্যাকেজ ছাড়ছে জঙ্গিরা

ঢাকা পিস টক অনুষ্ঠানের সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে ইন্টারনেটে লোভনীয় প্যাকেজ ছাড়ছে জঙ্গিরা। যাতে তরুণ-তরুণীরা এসব দেখে জঙ্গিবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। গতকাল ‘ঢাকা পিস টক’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদের যারা সংগ্রহকারী, উদ্বুদ্ধকারী, তারা ইন্টারনেটে লোভনীয় ও আকর্ষণীয় প্যাকেজ দিচ্ছে। যারা মানসিকভাবে দুর্বল ও যাদের দেশপ্রেম নেই, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ নেই, মতাদর্শিক জায়গায় ধারণা নেই, সহনশিলতা নেই, জীবনের বাস্তবতা যারা মেনে নিতে না পেরে শর্টকাট পথ খুঁজছে, তারাই উগ্রবাদী হচ্ছে। এখন যেসব জঙ্গিরা গ্রেফতার হচ্ছে, তারা কেউ কেউ আগে থেকেই জড়িত ছিল, আবার কেউ কেউ নতুন করে র‌্যাডিকালাইজড হয়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, হোলি আর্টিজান হামলার পর জঙ্গিবাদবিরোধী কাজ বেশি হচ্ছে, যা আগে খুব একটা ছিল না। আমাদের এটা আরও বাড়াতে হবে। আমাদের একটি জঙ্গিবাদবিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরির কাজ করতে হবে। ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণরাই উগ্রবাদে জড়িত হচ্ছে। তিনি বলেন, সহিংস উগ্রবাদ বা এর ঘনীভূত রূপ সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো একটি দীর্ঘমেয়াদি জটিল কাজ। কোন সুনির্দিষ্ট বাহিনী, সংস্থা ও ব্যক্তির পক্ষে তা দমন সম্ভব না। যদি মতাদর্শিক সহিংসতা মোকাবিলা করতে হয়, তাহলে এর প্রকৃতি বুঝতে হবে। চিহ্নিত করতে হবে এর চালকগুলোকে। ওপর থেকে চাপিয়ে দিয়ে কিছু হবে না। যদি কোন পরিকল্পনা তৈরি করা হয়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ভুক্তভোগীদেরও তাতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ‘ঢাকা পিস টক’ সে রকমরই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন অ্যাপ্রোচ তৈরির উদ্যোগ। ইউএসএআইডের ‘অবিরোধ : রোড টু টলারেন্স প্রোগ্রামের’ সহায়তায় এটি বাস্তবায়ন করবে অলাভজনক প্রাতিষ্ঠানিক সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিসার্ফ)। এর সার্বিক সহায়ক হবে সিটিটিসি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং সিসার্ফের নির্বাহী পরিচালক শবনম আজিম বলেন, সহিংস উগ্রবাদ বা এর ঘনীভূত রূপ সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো একটি দীর্ঘমেয়াদি জটিল কাজ কোন সুনির্দিষ্ট বাহিনী, সংস্থা ও ব্যক্তির পক্ষেও সম্ভব না। এজন্য সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে। তরুণরাই বেশি সহিংস উগ্রবাদে ঝুঁকে। আর ক্ষতি পুরো জাতির। কোন শিক্ষার্থী যাতে উগ্রবাদে না জড়ায়, সেজন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দরকার পরিবারভিত্তিক মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা। এরপর সামাজিক পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে উগ্রবাদ ও মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। এক্ষেত্রে সিসার্ফ সচেতনতামূলক কাজটিই করতে চায়। যে কাজগুলো মানুষকে জঙ্গিবাদে নিয়ে যায়, সিসার্ফ ‘ঢাকা পিস টক’ এর মাধ্যমে সেগুলো শনাক্ত করবে ও সমাধানের পথ দেখাবে। শবনম আজিম বলেন, শুধু যে ধর্মীয় উন্মাদনার কারণে সহিংস উগ্রবাদের ঘটনা ঘটছে, তা কিন্তু নয়। নানা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য ও মূল্যবোধ এ রকম নানান বিষয় এর সঙ্গে জড়িত। কী কারণে আমাদের তরুণেরা সহিংস উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে, তা নিয়ে অনুসন্ধান ও গবেষণাই আমাদের লক্ষ্য।