• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ৪ জিলকদ ১৪৩৯

রংপুর ও টাঙ্গাইলে

৩ শিশু ধর্ষণের শিকার

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

image

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড দাবি করে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন -সংবাদ

রংপুর ও টাঙ্গাইলে পৃথক ঘটনায় গারোসহ ৩ শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। প্রতিনিধিরা এ খবর জানান।

রংপুর জেলা বার্তা পরিবেশক জানায়, রংপুরে দুটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাদের গুরুতর অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন। পুলিশ ও স্বজনরা জানিয়েছে রংপুর সদর উপজেলার কিলমারী মমিনপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের কন্যা দ্বিতীয় শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী (১২) তার নানার বাসায় থাকত। শিশুটির বাবা-মা ঢাকায় গার্মেন্টে কাজ করে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পাশাপাশি মমিনপুর সর্দারপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে নয়ন শিশুটিকে বৈশাখী মেলা দেখানোর কথা বলে তার নানার বাসা থেকে নিয়ে যায়। এরপর নয়ন তার খালার বাসায় নিয়ে গিয়ে সেখানে রাতভর শিশুটিকে ধর্ষণ করে। শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রোববার সকালে ধর্ষক নয়ন শিশুটিকে তার নানার বাসায় রেখে যায়। এরপর থেকে প্রচন্ড রক্তক্ষরণে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গতকাল দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী ধর্ষক নয়নকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে ধর্ষককে বিকেলে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি বাবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এলাকাবাসী কর্র্তৃক ধর্ষক নয়নকে আটক করার কথা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অন্য ঘটনাটি ঘটেছে ১১ এপ্রিল রাতে মিঠাপুকুর উপজেলার তিলকপাড়া চেংমারী গ্রামে। স্বজনরা জানায়, স্থানীয় শুকুরেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তাদের বাসায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় একই গ্রামের মোতালেব মিয়ার ছেলে রুমেল তার দুই সহযোগীসহ গভীর রাতে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে ৩ বখাটে গণধর্ষণ করে। গুরুতর অবস্থায় জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে ধর্ষক রুমেল ও তার দলবল নিয়ে এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ কিংবা মামলা না করার হুমকি দেয়। সে আপস মীমাংসা করার জন্য চাপ দিতে থাকে। এভাবে ৫ দিন অসুস্থ শিশুটি বাড়িতে থাকা অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি ঘটলে সোমবার দুপুরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১২ নম্বর গাইনি ওয়ার্ডে গিয়ে চিকিৎসাধীন দুই শিশু ও তার স্বজনদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ঘটনা জানার পর পুলিশ এখন পর্যন্ত তাদের দেখতে আসেনি। উল্টো ধর্ষকরা বিভিন্নভাবে তাদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করছে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সারাহ ফারমিন জানান, দুই শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ায় তাদের প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। তাদের দুজনকেই রক্ত দেয়ার জন্য স্বজনদের জানানো হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ওসি মোজাম্মেল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না এবং কেউ তার কাছে অভিযোগ করেননি বলে দাবি করেন। তবে এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান।

টাঙ্গাইল জেলা বার্তা পরিবেশক, জানান টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চলের থানারবাইদ গারো পল্লীতে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী এক শিশু (১১) ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার স্থানীয় মাতাব্বরদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তারা ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে পারেনি। অবশেষে স্থানীয় একাধিক গারো তরুণদের সংগঠনের নেতাকর্মীরা ধর্ষককে ধরে থানায় সোপর্দ করেছে।

সোমবার ধর্ষিতার মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে। এছাড়া মধুপুর থানা পুলিশ ধর্ষককে আদালতে প্রেরণ করেছে।

জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ বিভিন্ন গারো সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা মধুপুর থানায় এসে ধর্ষককে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। পুলিশ ধর্ষককে হেফাজতে নিয়ে ধর্ষিতা শিশুর মায়ের দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে।

বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) এর কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য শ্যামল মানখিন, মধুপুর শাখার সভাপতি বিজয় হাজং, সাধারণ সম্পাদক মিলন দফো, গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন (জিএসএফ) মধুপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ নকরেক, সহ-সভাপতি ইভা মানখিন, সিমসাকবো আচিক মিচিক সংগঠন সভাপতি মুনমুন নকরেকসহ চিংআ যুব সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, মধুপুর উপজেলার থানারবাইদ গ্রামের রূপেন মৃ এর ছেলে প্রশান রেমা (২৮) একই এলাকার বাসিন্দা চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী ১১ বছরের তার নিজ শ্যালিকাকে গত ২ এপ্রিল ধর্ষণ করে। ঘটনার পর ধর্ষক প্রশান রেমা শিশুকে কাউকে কিছু না বলার জন্য মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

এ ঘটনা গত দুইদিন আগে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে এলাকার মাতব্বররা মীমাংসার কথা বলে সময় ক্ষেপণ করতে থাকেন। এলাকার গারো তরুণ সংগঠণের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, স্থানীয় মাতাব্বররা এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার না করায় তারা নির্যাতিত অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান। স্থানীয় মানবাধিকার ও বিভিন্ন গারো সংগঠনগুলো রবিবার রাতে ধর্ষক প্রশান রেমাকে ধরে মধুপুর থানায় নিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ ধর্ষককে হেফাজতে নেয়।

এ বিষয়ে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।