• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ মহররম ১৪৪২, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭

দেশের করোনা পরিস্থিতি

২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ৬৬৫, মৃত্যু ২

কমেছে মৃত্যুহার

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২০

image

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী সংক্রমণ করোনাভাইরাসে গত প্রায় দুই মাসের রেকর্ড ভঙ্গ করে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬৬৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। নতুন করে আক্রান্তসহ এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৪৫৫ জন। এদিকে ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৩১টি ল্যাবে এখন করোনাভাইরাস পরীক্ষা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ হাজার ২১৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগের কিছু মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৬৮টি। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৮১ হাজার ৪৩৪টি। নতুন যাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাদের মধ্যে আরও ৬৬৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন নয় হাজার ৪৫৫ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও দু’জন। তাদের মধ্যে একজন শিশু, যার বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। অন্যজনের বয়স ৬০ বছরের বেশি। তাদের একজনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে, অন্যজনের রংপুরে।

বুলেটিনে বলা হয়, নীতিমালা পরিবর্তনের ফলে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ‘কোভিড-১৯ রোগীদের সুস্থতা বিষয়ে ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট কমিটি আছে, তারা নতুন একটি গাইডলাইন করেছে। আমরা রোগীদের কিভাবে সুস্থ বলতে পারব, তারা কীভাবে হাসপাতাল ত্যাগ করতে পারবে।’ সে হিসেবে দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন । স্বাস্থ্য অধিদফতরের আগে গত শনিবার পর্যন্ত হাসপাতালে থাকা রোগীদের মধ্যে মোট ১৭৭ জনের সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার তথ্য দিয়েছিল।

নাসিমা সুলতানা বলেন, ঢাকা মহানগরীর হাসপাতালগুলো থেকে এ পর্যন্ত ৬২৪ জন ছাড়া পেয়েছেন। মহানগরীর বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্য হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২৭২ জন। চট্টগ্রাম বিভাগের হাসপাতালগুলো থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৭১ জন, রাজশাহীতে ২ জন, খুলনায় ৬ জন, বরিশালে ২৯ জন, সিলেটে ২ জন, ময়মনসিংহে ৩১ জন এবং রংপুর বিভাগের হাসপাতালগুলো থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২৫ জন। ঢাকা মহানগরীর মধ্যে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল থেকে ২৯৮ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ২১৩ জন, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থেকে ৮ জন, ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল থেকে ৩৮ জন, রিজেন্ট হাসপাতাল থেকে ১৫ জন, সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল থেকে ২২ জন, রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতাল থেকে ২৬ জন, মিরপুরের লালকুটি হাসপাতাল থেকে ৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন ।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন নেয়া হয়েছে ৬৫ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন এক হাজার ৬৩৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৬০ জন। এ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন এক হাজার ৮২ জন।

রাজধানীসহ সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে নয় হাজার ৬৩৮টি। তন্মধ্যে ঢাকায় তিন হাজার ৯৪৪টি এবং রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে আছে পাঁচ হাজার ৬৯৪টি।

হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে নয় হাজার ৮৭৪ জনকে। একই সময়ে কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ১৪৯ জন। সব মিলিয়ে ছাড়া পেয়েছেন এক লাখ ৯২ হাজার ৫৯২ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬৭ হাজার ৭৩৯ জন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে। তবে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস ক্রমে গোটা বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ। মৃতের সংখ্যা দুই লাখ ৪৪ হাজারেরও বেশি। তবে সোয়া ১১ লাখ রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নিয়েছে আরও নানা পদক্ষেপ। যদিও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় খুলেছে পোশাক কারখানা। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা।