• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭, ১৪ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

করোনা নেই

ভারত থেকে ২৩ বাংলাদেশি ফিরছে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ১৫ মার্চ ২০২০

ভারতে কোয়ারেন্টাইনে থাকা চীন থেকে ফেরত ২৩ বাংলাদেশির কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়নি। শনিবার তাদের বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং তাদের কেউই করোনায় আক্রান্ত নন বলে নিশ্চিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় শনিবার বিকেলে ইনডিগো এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাদের ঢাকায় আনা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন।

বার্তা সংস্থা ইউএনবির বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম উল্লেখ করেছে, ভারতের নয়াদিল্লিতে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর স্বাস্থ্য ছাড়পত্র নিয়ে শনিবার দেশে ফিরবেন ২৩ বাংলাদেশি। গত বৃহস্পতিবার তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। ?এরা কেউই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি। ২৩ জন সদস্যের ওই দলে থাকা এক শিক্ষার্থী ফোনে ইউএনবিকে বলেন, ‘আমরা শুক্রবার স্বাস্থ্য ছাড়পত্র পাব, শনিবার ঢাকায় ফিরতে পারব বলে আশা করছি।’ ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনকে তিনি জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে করোনাভাইরাসের কেন্দ্রস্থল চীনের উহান থেকে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি চীন থেকে নিজেদের ৩১২ জন নাগরিককে ফিরিয়ে আনে বাংলাদেশ সরকার। বাকি বাংলাদেশিদের ফেরত আসার ক্ষেত্রে নিবন্ধন করা হয়। ৮টি পরিবার ও ৫ শিশুসহ ৭৬ ভারতীয় নাগরিক এবং অন্যান্য দেশের ৩৬ জন নাগরিককে ফিরিয়ে আনার পর প্রথমে বিমানবন্দরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাদের প্রাথমিক সকল সুবিধা সরবরাহ করা হয়। বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ২৩ জন বাংলাদেশের, ৬ জন চীনের, মায়ানমার ও মালদ্বীপের ২ জন করে এবং মাদাগাস্কার, দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের একজন করে নাগরিক ছিলেন। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি উহান থেকে প্রথম দলকে ফিরিয়ে আনার ৪৮ ঘণ্টা আগে নয়াদিল্লির ছাওলাতে কোয়ারেন্টাইন ক্যাম্প প্রস্তুত করেছিল আইটিবিপি। বাংলাদেশি নাগরিকদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে দেশটির ঢাকাস্থ হাইকমিশন।

অপর এক শিক্ষার্থী ইউএনবিকে বলেন, ‘ভারতীয় বিমানবাহিনী এবং ভারত সরকার যে অভূতপূর্ব কাজ করেছে সে জন্য আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। দলের পক্ষ থেকে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় সবার জন্যই বেদনাদায়ক এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বেইজিংয়ের ভারতীয় দূতাবাস স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্য করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থী চীনের প্রশংসা করে বলেন, আমাদের সুরক্ষিত রাখতে এবং আমাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিশ্চিত করতে তাদের প্রচেষ্টা নিস্বার্থ ছিল। নিজেদের নাগরিকদের মতো বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গেও তারা দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করেছে। আমরা সব সময় আপনাদের এই সহায়তা মনে রাখব।’

এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং স্থানীয় আরও ৩টি বিমান সংস্থা নয়াদিল্লির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে তাদের সব ফ্লাইট স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের শনিবার সুষ্ঠুভাবে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশে ফেরত আসার জন্য অপেক্ষায় থাকা এক শিক্ষার্থী।