• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১২ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৮ জমাউস সানি ১৪৪০

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন

নৃশংসতা চালাতে রাখাইনে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে সেনাবাহিনীর ডিভিশন

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

image

মায়ানমারের রাখাইনে নতুন করে নৃশংসতা চালাতে ২০১৭ সালে সেখানে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর ডিভিশনগুলোকে আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, রাখাইনে নতুন করে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা গ্রামগুলোর ওপর শেল বা গোলা নিক্ষেপ করছে। বেসামরিক লোকজনকে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা সুবিধা নেয়া থেকে বিরত রেখেছে তারা।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রাখাইনে চলমান সামরিক অভিযান ও সহিংসতার বিষয়ে নতুন তথ্যপ্রমাণ নিয়ে ‘মিয়ানমার : ফ্রেশ এভিডেন্স অফ ভায়োলেশনস অ্যামিড অন গোয়িং মিলিটারি অপারেশন ইন রাখাইন স্টেট’ শিরোনামে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর জানুয়ারির শুরুতে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের ওপর হামলা করে সশস্ত্র আরাকান আর্মি নামের একটি গ্রুপ। তার পর থেকে অভিযানের নামে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে দমনপীড়ন শুরু হয়। এর ফলে গত ডিসেম্বর থেকে সেখানে মায়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে ৫২০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলল অ্যামনেস্টি। অ্যামনেস্টি বলেছে, ২০১৭ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে সেনাবাহিনীর যে ডিভিশনগুলো নৃশংসতায় জড়িত ছিল তাদেরকে সম্প্রতি রাখাইনে ফের মোতায়েন করা হয়েছে।

সংগঠনটির ক্রাইসিস রেসপন্স বিষয়ক পরিচালক তিরানা হাসান বলেছেন, এটি আবার স্মরণ করিয়ে দেয়া যে, মায়ানমারের সেনাবাহিনী কোন রকম মানবাধিকারের তোয়াক্কা করে না। যে কোন পরিস্থিতিতে বসতি আছে এমন গ্রামের ওপর গোলা নিক্ষেপ ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ রাখা সমর্থনের অযোগ্য। তিরানা হাসান বলেন, আন্তর্জাতিক নিন্দা সত্ত্বেও মায়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংসতা, প্রমাণ সাপেক্ষে বলে যে, তারা আরও ভয়াবহভাবে অধিকতর সিরিয়াসভাবে নির্যাতন করে যাচ্ছে।

রিপোর্টে বলা হয়, রাখাইনে বেসামরিক মানুষদের আটক করার ক্ষেত্রে অস্পষ্ট ও নিষ্পেষণমূলক আইন ব্যবহার করছে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। আর এসব ঘটছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের রিপোর্ট হওয়ার পরও। ওই রিপোর্টে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে মায়ানমারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত ও বিচারের আহ্বান জানানো হয়। মায়ানমারের ওইসব কর্মকর্তা রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, কাচিন ও উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যে জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নির্যাতন চালিয়েছেন।

আরাকান আর্মির হামলা সম্পর্কে অ্যামনেস্টি লিখেছে, ২০১৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছিল মায়ানমারের স্বাধীনতা দিবস। এদিন রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে চারটি পুলিশ পোস্টের ওপর সুসংগঠিত হামলা চালায় জাতিগত রখাইন সশস্ত্র গ্রুপ আরাকান আর্মি। ওই হামলায় ১৩ জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। আরাকান আর্মি মায়ানমারের উত্তরাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই জোরালো করেছে। তারা চিন ও রাখাইন রাজ্যে দৃষ্টি সরিয়ে এনেছে সম্প্রতি। এসব সংঘাতের মূল বিন্দু তাদের নিরাপত্তা রক্ষী।