• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ১৭ জিলহজ ১৪৪১, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

মুক্তাগাছায়

নির্যাতনে আসামির মৃত্যু, ২ পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ)

| ঢাকা , রোববার, ১৫ মার্চ ২০২০

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় পুলিশের নির্যাতনে আলতাব হোসেন নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের মাঠ পর্যায়ের দুই কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদেরকে ক্লোজড করা হয়। গতকাল জুমার নামাজের পর আলতাবকে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। ব্যবসায়ীর পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, মুক্তাগাছা উপজেলার ঘোগা ইউনিয়নের জামগড়া এলাকার ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী আলতাব হোসেনকে মুক্তাগাছা থানার এসআই আবুল খায়ের ও এএসআই হামিদুল ইসলাম গ্রেফতার করে। এসময় তার পরিবারের কাছে ৮৫ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না পেয়ে তিনদিন থানায় আটকে রেখে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন নিহত আলতাব হোসেনের পরিবার । এর পর ১ মার্চ ডলার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। সে ৫ মার্চ জামিনে বের হয়ে এসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই বাবার লাশ নিয়ে অভিযুক্ত দুই পুলিশ অফিসারের বিচারের দাবি জানিয়ে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হন আলতাবের বারো বছর বয়সী ছেলে আরিফ হোসেন। এর প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশের এসআই আবুল খায়ের ও এএসআই হামিদুলকে ময়মনসিংহের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। পুলিশের এ ধরনের ঘটনায় জামগড়া গ্রামে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গতকাল সাংবাদিকরা ওই এলাকায় গেলে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্ত ওই দুই পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এর সাথে পুলিশের নতুন কোন ঘটনার ভয়ও কাজ করছে গ্রামবাসীর মাঝে। জামগড়া গ্রামের চান মিয়া, রুপচানসহ কয়েজন গ্রামবাসী সাংবাদিকদের বলেন, কতিপয় পুলিশের সোর্সের মাধ্যমে বিনা কারণে বিভিন্ন সময় তাদেরকে ধরে নিয়ে যায় থানায়। এর পর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদেরকে আবার ছেড়েও দেয়া হয়। ওইদিন বিনা কারণেই আলতাবকে ধরে নিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে আলতাবের বড় ভাই আজগর আলী অভিযোগ করেন। পুলিশের দুই এসআই ক্লোজের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, ওই গ্রামটি ডলার প্রতারকদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ডলার প্রতারণার সাথে জড়িত। আর আলতাবের বিরুদ্ধে নারায়নগঞ্জ, মুক্তাগাছাসহ বিভিন্ন থানায় ডলার প্রতারণা, কঙ্কাল চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ওইদিন তাকে ডলার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার করা হয়। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সদর সার্কেল আল আমিন বলেন, অভিযুক্ত দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।