• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ১৭ শাবান ১৪৪০

নুসরাতের ভিডিও

ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে মামলা

পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

সংবাদ :
  • আদালত বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

image

যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ধারণ ও তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ায় সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। এক আইনজীবীর মামলার আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল ঢাকার সাইবার আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ আস্ সামছ জগলুল হোসেন পিবিআইকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পিবিআইয়ের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে অভিযোগ তদন্ত করে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার শামীম আহম্মেদ জানান।

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা তুলে না নেয়ায় ৬ এপ্রিল কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় নুসরাতের গায়ে। এ ঘটনায় করা মামলার আসামিদের ধরতে গড়িমসির অভিযোগ ওঠার পর ১০ এপ্রিল মোয়াজ্জেম হোসেনকে সোনাগাজী থানার দায়িত্ব সরিয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে বদলি করা হয়। ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নুসরাত। পরদিন ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, থানায় ওসির সামনে অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরতে গিয়ে অঝোরে কাঁদছিল নুসরাত।

নুসরাত তার মুখ দুই হাতে ঢেকে রেখেছিল। ওই সময় ওসি মোয়াজ্জেম ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে, এখনো তোমাকে কাঁদতে হবে।’ ওই ভিডিওধারণের জন্য ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সকালে মামলার আবেদন করেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক। তার আরজিতে বলা হয়, গত ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে অধ্যক্ষ তার কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠলে দু’জনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।

যেহেতু ওসি মোয়াজ্জেম নিয়মবহির্ভূতভাবে অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করেন এবং অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষা প্রয়োগ করেন, সেহেতু তা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ অনুযায়ী দন্ডনীয় অপরাধ বলেন আইনজীবী সায়েদুল। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও নিয়ে প্রতিবাদ জানান আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা। তাদের মতে, ভিকটিমের এ ধরনের ভিডিওধারণ অপরাধের মধ্যে পড়ে। অভিযোগকারীর বক্তব্য কেউ আইন না মেনে ভিডিও করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে বলেও পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন। ভিডিওটি ধারণ ও তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।