• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবন ১৪২৫, ১৯ জিলকদ ১৪৪০

কীর্তনখোলা ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প

উদ্বোধনেই থেমে আছে

সংবাদ :
  • মানবেন্দ্র বটব্যাল, বরিশাল

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

উদ্বোধনেই থেমে আছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেয়া ২০৯ কোটি টাকার কীর্তনখোলা ভা ঙন প্রতিরোধ প্রকল্প। এদিকে বর্ষা মৌসুম চলে এসেছে। নদীর পানির উচ্চতা ক্রমশ বাড়ছে। আদৌ বর্ষা মৌসুমের আগে কাজের কোন অগ্রগতি হবে কিনাÑ তা নিয়ে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী তথা বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ ফারুক শামীম নদীতে জিও ব্যাগ ফেলে প্রকল্পের উদ্বোধন করার পর আর কিছুই হয়নি। আর একটি জিও ব্যাগও ফেলা হয়নি। উদ্বোধনের দিন মন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্পন্ন কাজ শেষ করার নির্দেশ দিলেও তার বাস্তবায়ন এখনও শুরু হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজটি বাস্তবায়নের জন্য নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ডকে ঠিকাদার নিযুক্ত করে। খুলনা শিপইয়ার্ড কাজটির জন্য বহুজাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স গ্রুপকে উপ-ঠিকাদার নিযুক্ত করে। কনফিডেন্স গ্রুপ প্রকল্প এলাকাটিকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করে তাদের অধীনে চুক্তির মাধ্যমে আবার তিনজন ঠিকাদার নিযুক্ত করে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো- ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার এফআর ট্রেডার্স, ফারিদি এন্টারপ্রাইজ, জেডিয়াক কনস্ট্রাকশন। এফআর ট্রেডার্স আবার চাঁদপুরের শাজাহান জমাদ্দার নামক এক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়েছে। ফারিদি এন্টারপ্রাইজ আবার উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়ার এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছে। একটি ঠিকাদারি কাজ যদি এত হাতে ঘোরে তাহলে ভবিষ্যতে কাজের মান যে কী হবে তা এখনই ধরে নেয়া সম্ভব।

কীর্তনখোলার ভাঙনে বিলীন হয়ে যাবার পথে চরবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে একমাত্র এফআর ট্রেডার্সের কাজের এলাকায় কিছু ইট, বালি, জিও ব্যাগ ও একটি পুরান বার্জ আনা হয়েছে। তবে বার্জটিকে মেরামত না করে ব্যবহার করা যাবে না। তারা আবার ওই এলাকা থেকে শ্রমিক সংগ্রহের জন্য লোক নিয়োগ করেছে। অপরদিকে ফারিদি এন্টারপ্রাইজ আবার যাকে কাজের জন্য নিয়োগ দিয়েছে তিনি মুঠোফোনে জানিয়েছেন তিনি তার কর্ম এলাকাই চেনে না। এমনকি এ ধরনের কাজ করার তার কোন পূর্ব অভিজ্ঞতাও নেই।

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যদি বর্ষার আগে কাজ শেষ করতে না পারে তাহলে এবারও নদী ভাঙনে পড়বে চরবাড়িয়া এলাকা। আর ঠিকাদাররা আংশিক কাজ করলে তাও নদীর পানির স্রোতে সরে যাবে বা বিলীন হয়ে যাবে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক রমজান আলী প্রামাণিক নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজটি শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, নিয়োগকৃত ঠিকাদারদের নিয়মিত কাজটি শুরু করার জন্য তাগাদা দেয়া হচ্ছে।