• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ১৭ শাবান ১৪৪০

ফলোআপ : গোপালগঞ্জ

অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার

বাবা-মাকে খুঁজে পাওয়া গেছে : ধর্ষকের পক্ষে ইউপি মেম্বারের হুমকিতে পালান তারা

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ

| ঢাকা , রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০১৯

গোপালগঞ্জে ধর্ষণের আলমত ধ্বংসের উদ্দেশ্যে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের পর আলামত নষ্ট করতে শিশু অপহরণ শিরোনামে সংবাদে খবর প্রকাশের পর গোপালগঞ্জের পুলিশ ও প্রশাসনে তোলপাড়া সৃষ্টি হয়।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় গ্রামে অভিযান চালিয়ে ওই শিশুর এক স্বজনের বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। ওই বাড়িতে শিশুর মা ও বাবা আত্মগোপন করেছিল। পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ গোপালগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে। শিশুটিকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হাতিকাটা গ্রামের শেখ মণি জ্ঞানেন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী শিশুটি। শেখ মণি জ্ঞানেন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরেশ চন্দ্র দত্ত জানান, হাতিকাটা গ্রামের মধুময় বিশ্বাসের ছেলে মনোজ কুমার বিশ্বাস ওরফে মংলা প্রতিবেশী ওই ছাত্রীকে প্রইভেট পড়াতো। গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ওই ছাত্রীকে একাধিকবার সে ধর্ষণ করে। বিষয়টি ওই ছাত্রী ৯ এপ্রিল ফাঁস করে দিলে তাকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ধর্ষণের আলামত ধ্বংস করতে দুর্গাপুর ইউপির ২ নং ওয়ার্ড মেম্বর হাসান শেখের ভাই শাজাহান শেখ হাসপাতাল থেকে কৌশলে ছাত্রীটিকে অপহরণ করে। পাশাপাশি মেম্বরের চাপে ওই ছাত্রীর মা-বাবা আত্মগোপন করেন পরে প্রশাসনের অনুরোধে তিনি বাদী হয়ে গত ১০ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থানায় মনোজ ও শাহজাহানের নাম উল্লেখপূর্বক এবং ৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি ধর্ষণ ও অপহরণ মামলা দায়ের করেন বলে জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, দুর্গাপুর ইউপির ২ নং ওয়ার্ড মেম্বর হাসান শেখ ধর্ষক মনোজের পরিবারের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে। তারপর তার ভাইকে দিয়ে ওই ছাত্রীকে হাসপাতাল থেকে অপহরণ করিয়েছে। পাশাপাশি ইউপি মেম্বর ধর্ষক মনোজকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। ইউপি মেম্বর ও তার ভাই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এলাকার সব ধরনের অপকর্মের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

অভিযুক্ত ইউপি মেম্বর হাসান শেখ এ ঘটনায় জড়িত নয় দাবি করে বলেন, আমার ভাই শাহজাহান এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। এ কারণে গ্রামের লোকজন আমার নামও বলছে। প্রকৃতপক্ষে আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোপালগঞ্জ সদর থানার এস.আই বকুল বলেন, সাতপাড় গ্রামে ওই শিশুর দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে তাকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। এ ঘটনায় জড়িত ৫ আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আসিত মল্লিক বলেন, ৯ এপ্রিল বিকেলে শিশুটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়। ওয়ার্ডে আসার পর নার্সরা বেড ও ফাইল রেডি করতে রুমে যান। এর ফাকে শিশুটি কাউকে কিছু না বলে চলে যায়। পরের দিন ডাক্তার ওয়ার্ডে রাউন্ডে গিয়ে বেডে রোগী না পেয়ে রোগী পাওয়া গেল না লিখে ফাইল ক্লোজ করে দেন। এটি সুকৌশলে হাসপাতাল থেকে অপহরণ কিনা- আমার জানা নেই। রোগী ভর্তি হলেই তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে।