• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১১ ফল্গুন ১৪২৬, ২৯ জমাদিউল সানি ১৪৪১

সূচনাতেই সাফল্য

| ঢাকা , শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৯

image

ফরহাদ আলম, একজন নবীন পরিচালক। তার নির্মিত নাটকের সংখ্যা মাত্র তিনটি। তবে এ অল্প কাজেই তিনি তার সৃজনশীলতার প্রমাণ মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। আজ রাত ৯টা ৫মিনিটে এনটিভিতে প্রচার হবে তার রচনা এবং পরিচালনায় পহেলা বৈশাখের নাটক ‘উহা একটি প্রেম ছিল’। তরুণ এই নির্মাতাকে নিয়ে লিখেছেন নিথর মাহবুব

পাবনার আটদিয়া থানার তরুণ ফরহাদ আলমের শুরুটা লেখালেখি দিয়ে। তাই নিজের লেখা গল্পে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন তিনি। ফরহাদ যখন হাই স্কুলে পড়া লেখা করতেন তখন বন্ধুদের নিয়ে ‘হারিকেন’ নামে লিটল ম্যাগাজিন বের করতেন। পরে যুক্ত হন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে। একসময় যুক্ত হন মানবাধিকার নাট্য পরিষদের সঙ্গে। টানা ৯ বছর সেখানে পথনাটক লিখেছেন এবং নির্দেশনা দিয়েছেন। সমসাময়িক ঘটে যাওয়া আলোচিত ঘটনা নিয়ে নাটক লিখতেন ফরহাদ। নিজের ভাবনাগুলোকে অনেক মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে টিভি পর্দার কাজ করতে আগ্রহী হয়ে উঠলেন। ফরহাদ আলম বলেন, ‘ আগ্রহ থাকলেইত হবে না, নিয়ম কানুন কিছু শিখতে হবে। তাই অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য গুণী নির্মাতা মাসুদ সেজান ভাইয়ের সঙ্গে এসিস্টেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ শুরু করলাম। মাসুদ সেজান ভাইয়ের সঙ্গে প্রায় তিন বছর কাজ করার পর অরণ্য আনোয়ার ভাইয়ের সঙ্গে কাজ শুরু করি। এসিস্ট করতে করতে উপলব্ধি হলো এই ধরনের নাটক আমি নিজেও লিখতে পারব। সাহস করে টিভির জন্য নাটক লেখা শুরু করলাম। প্রথম লেখা নাটক ‘প্রিন্টিং মিস্টেক’ অরণ্য আনোয়ার ভাই ঈদের নাটক হিসেবে পরিচালনা করলেন। এরপর থেকে ডিরেক্টররা আমার কাছ থেকে নাটক নিতে শুরু করেন। এখান থেকেই নিজের মধ্যে একটা কনফিডেন্স তৈরি হলো।’

অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেই থেমে থাকেননি ফরহাদ। নিজের জানার পরিধিকে বিস্তৃত করতে একাডেমিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন। ভর্তি হয়ে গেলেন ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ‘টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি’তে।

ফরহাদ বলেন ‘সবাই লিখতে পারে, পরিচালনা করতে পারে কিন্তু সবারটা মানুষ গ্রহণ করে না। আমি চাই গ্রহণযোগ্য কাজ করতে। নিজের মধ্যে কোন ফাঁক রাখতে চাই না। ছোটবেলা থেকেই আমি একটু অন্যরকম। সবাই যখন ফুটবল খেলত আমি মাঠের কোনায় বসে ভাবতাম। আমি বুঝতে পারতাম না আমার অবচেতন মন কিছু বলছে। আমি খাতায় বইয়ে মিলিয়ে মিলিয়ে অনেক কিছু লিখে রাখতাম। যখন একটু বড় হলাম তখন আমার স্কুলের ম্যাডাম, টিচার বা আশপাশের মানুষগুলোর কাছে আমার সৃজনশীলতার জন্য অনুপ্রেরণা পেতে থাকলাম। হৃত্বিক ঘটকের একটা কথা- ‘আমার অনেক কিছু বলার আছে’। আমারও অনেক কিছু বলার আছে।

বলার মাধ্যম হিসেবে পর্দাকে বেছে নেয়ার প্রসঙ্গে ফরহাদ বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে পর্দাটা এমন একটা মাধ্যম যার সঙ্গে অনেক মানুষের সংযোগ আছে। যদি পর্দার চেয়ে বড় কোন মাধ্যম থাকত আমি ওই মাধ্যমকেই অবলম্বন করতাম। আমি এমন একটি পরিবার থেকে এসেছি আর আশেপাশে এত মানুষের জীবনযাপন দেখেছি যা আমাকে লেখার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। যখন বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় আমার এসব লেখা প্রকাশ হতে লাগল তখন একটা ইনার ফিলিংস কাজ করল। নিজের ভাবনাগুলে কে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার তাড়না অনুভব করলাম।

প্রচন্ড আত্মবিশ্বাষী এই তরুণের মধ্যে মিডিয়ার বর্তমান সংকট নিয়ে মোটেও ভয় নেই। তিনি তার পরিশ্রম এবং মেধার গুণে সব সংকট মোকাবেলা করে নিজের জায়গা তৈরি করতে চান। যার প্রমাণ মিলেছে তার প্রথম নাটকেই।

মেধাবী এই তরুণ বলেন, ‘আমার প্রথম নাটক ‘কলসি’ যখন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিলাম তথাকথিত স্টার বা ফেইসভ্যালু না নিয়ে নিজের মেধা আর ভালো অভিনয়কে গুরুত্ব দিলাম। নাটকের গল্প, লোকেশন, নির্মাণশৈলী, শিল্পীদের অভিনয় এসবের বিবেচনায় মাছরাঙা নাটকটি প্রচার করে এবং সুচনাতেই সাফল্য পেলাম। দর্শকদের মধ্যেও নাটকটি বেশ সারা ফেলে। বেড়ে গেলো নির্মাণের আগ্রহ।

ব্যক্তিগতভাবে আমি প্রতিযোগিতা নিয়ে ভাবি না বা কাউকে অনুকরণের চেষ্টা করি না। প্রতিনিয়ত নিজেকে ভাঙ্গতে চাই। কাজটাকে সুন্দরভাবে করার চেষ্টা করি এবং মনে করি কাজের মধ্যে যদি ক্রিয়েটিভিটি থাকে সেটা আলোর মুখ দেখবে।’