• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২০, ৪ মাঘ ১৪২৬, ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

বাম্পার ফলনের হাসি কাড়ছে শ্রমিক সংকট, ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা

সংবাদ :
  • শামসুর রহমান, কেশবপুর (যশোর)

| ঢাকা , রোববার, ২১ এপ্রিল ২০১৯

image

কেশবপুর (যশোর) : শ্রমিক সংকটে ক্ষেতে পড়ে থাকা পাকা ধান -সংবাদ

কেশবপুরে চলতি বোরো মওসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও শ্রমিক সঙ্কট ও ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষক। সময়মতো সার, বীজ, কীটনাশক কৃষকের হাতের নাগালে থাকায় এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ হেক্টর প্রতি উফশী ৬ মেট্রিকটন ও হাইব্রিড সাড়ে ৭ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করেছে। মাঠের সব ধান এক সঙ্গে পাকার কারণে শ্রমিক সঙ্কটের পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে সম্প্রতি ৪-৫টি ঘূর্ণিঝড়সহ বৃষ্টিপাত হওয়ায় মাঠের ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষক। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছর প্রায় ২৬০ কোটি টাকার এক লাখ মেট্রিকটন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে উৎপাদিত ধানে সরকার নির্ধারিত মূল্য থেকে কৃষক ৮৫ কোটি টাকা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি ইরি বোরো মওসুমে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন বিলে ১৬ হাজার ৫‘শ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উপজেলার প্রধান ৩ নদী হরিহর, বুড়িভদ্রা ও আপারভদ্রা পুনর্খনন কাজ চলমান থাকায় পূর্ব এলাকার অধিকাংশ ঘেরে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। যে কারণে অর্জিত হয় ১৫ হাজার ২১০ হেক্টর জমি। যা গত বারের চেয়ে ১ হাজার ২৯০ হেক্টর কম। বিভিন্ন মাঠে উফশী জাতের ব্রি-ধান- ২৮, ৫০, ৫৮, ৬৩, ৭৪, ৮১ সহ ৫ হাজার ৭শ’ ৭৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের ধান রোপণ করা হয়। সার, বীজ কীটনাশক ছিল কৃষকের হাতের নাগালে।

ডিজেল ও বিদ্যুতের সরবরাহ ছিল কৃষকের চাহিদা মতো। সব মিলিয়ে এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি মন ধানের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৪০ টাকা দরে ২৫৯ কোটি ৯৭ লাখ ৭২ হাজার টাকার এক লাখ মেট্টিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ধান বাজারে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে বর্তমান বাজারে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ থেকে ৭শ’ টাকা দরে। সেই হিসেবে উৎপাদিত ধানে ৮৫ কোটি ১১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবে।

বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, আর এক সপ্তাহ পর উপজেলার সর্বত্রই শুরু হবে ধান কাটা ও মাড়াই মওসুম। গতবারের চেয়ে এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড়-বৃষ্টি মওসুম এবার আগেভাগেই শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই বয়ে চলেছে এর প্রভাব। ধারাবাহিকভাবে বয়ে যাওয়া ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে বৃষ্টিপাতে ধান গাছ পড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন খরচ গত বারের চেয়ে বেশি হয়েছে। এরপরও কৃষি শ্রমিকরা ধান কর্তনে মোটা অঙ্কের দাম হাকাচ্ছে। অন্যদিকে, নিচু এলাকার ক্ষেত হচ্ছে পানিতে নিমজ্জিত। প্রাকৃতিকভাবে এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে শ্রমিক সঙ্কটের পাশাপাশি মানুষের সীমাহীন ক্ষতি হতে পারে। এ বছর ধানের দরপতনের কারণে কষ্টের ধানে শেষ পর্যন্ত উৎপাদন খরচ উঠবে কিনা তা নিয়েও কৃষক সংশয়ে রয়েছেন।

কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মহাদেব চন্দ্র সানা জানান, এ উপজেলার কোথাও কোথাও বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। আর ৮/১০ দিনের মধ্যে মাঠে ধান কাটার হিড়িক পড়ে যাবে। ইতোমধ্যে নতুন নতুন উফশী জাতের ধানের নমুনা কর্তন ও মাঠ দিবসের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। রোগের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকদের বেশি মাত্রায় পটাশ সার ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছিল বলেই এবার বাম্পার ফলন হয়েছে।