• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ৪ জিলকদ ১৪৩৯

ফিরতে চান জাভেদ

সংবাদ :
  • বিনোদন প্রতিবেদক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

image

দর্শকের চোখে তিনি এখনো নায়ক। তিনি জাভেদ। তবে একজন নৃত্য পরিচালক হিসেবেও তিনি সফল। দেশীয় চলচ্চিত্রের এক সময়ের আলোচিত এই নায়ক এখন বলা যায় অনেকটাই অবসর সময় পার করছেন। জাভেদ অন্য নায়কদের চেয়ে অনেকটাই আলাদা ছিলেন। কারন জাভেদ নায়ক হিসেবে অভিনয়ের পাশাপাশি অনেক চলচ্চিত্রে নৃত্য পরিচালক হিসেবে কাজ করে আলাদা একটি ভূমিকা রেখেছেন। তাই এদেশের নায়কদের কাতারে তার নাম যেমন সম্মান আর শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয় ঠিক তেমনি এদেশের চলচ্চিত্রের নৃত্য নির্দেশনার ক্ষেত্রে জাভেদ’র অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। অভিনয় দিয়ে তিনি এদেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শককে মুগ্ধ করেছেন। যদিও এখন তিনি অভিনয় করছেন না কিন্তু জাভেদ বলেন, ‘ভালো গল্প এবং চরিত্র পেলে অবশ্যই অভিনয় করবো, কেন নয়!’ জাভেদের ইচ্ছে আছে আবার চলচ্চিত্রের নৃত্য নির্দেশক হিসেবে কাজ করার। কিন্তু তেমন কাজ ব্যাটে বলে মিলছেনা বিধায় জাভেদ’র কাজ করা হয়ে উঠছেনা। একজন নায়ক যখন নাচে বিশেষভাবে পারদর্শী থাকেন তখন অভিনয়ের পাশাপাশি গানগুলোতে তার পারফর্ম্যান্স হয়ে উঠে অনন্য অসাধারণ। জাভেদ অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোতে এমন ক্ষেত্রে তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন বিধায় তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। এখনো স্টেজ শো’তে পারফর্ম করেন কিংবদন্তী এই নায়ক, নৃত্য পরিচালক। জাভেদ বলেন,‘ ভালো স্টেজ শোর প্রস্তাব এলে আমি পারফর্ম্যান্স করার চেষ্টা করি।’ অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি, কাজ করেছেন নৃত্য পরিচালক হিসেবেও। প্রযোজক হিসেবে একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন তিনি। নাম ‘বাহরাম বাদশা’। জাভেদের আসল নাম ইলিয়াস জাভেদ। জš§ ১৯৪৪ সালে। জাভেদের বাবা রাজা মোহাম্মদ আফজাল ছিলেন ধর্মপরায়ণ। তিনি চাইতেন ছেলে ব্যবসায়ী হবে, নয়তো চাকরি করবে। কিন্তু জাভেদের ওইসব দিকে আদৌ মন ছিল না। কীভাবে অভিনেতা হওয়া যাবে এ নিয়েই তিনি ভাবতেন। সিনেমা দেখা, গান শোনাতেই মগ্ন ছিলেন জাভেদ। জাভেদের প্রথম অভিনীত চলচ্চিত্র ছিলো উর্দু ‘নয়ী জিন্দেগি’। কিন্তু এটি মুক্তি পায়নি। উর্দু চলচ্চিত্র ‘পায়েল’ (১৯৬৬) অভিনয়ের পর থেকেই জাভেদের নাম ধাম ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে।

নাচে-গানে মাতোয়ারা হয়ে জাভেদ অসাধারণ অভিনয় দেখিয়ে ছিলেন। ছবিতে জাভেদের সঙ্গে শাবানা ছিলেন। প্রথমদিকে জাভেদ নৃত্য পরিচালক হিসেবে নিজের সুনমা ছড়ান। ১৯৭৪ সালের পর থেকে জাভেদ ঢাকার ফিল্মে আবার ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। একে একে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন-মালকা বানু, অনেক দিন আগে, শাহাজাদা, রাজকুমারী চন্দ্রবান, সুলতানা ডাকু, আজো ভুলিনি, কাজল রেখা, সাহেব বিবি গোলাম, নিশান, বিজয়িনী সোনাভান, রূপের রানী, চোরের রাজা, তাজ ও তলোয়ার, নরমগরম, তিন বাহাদুর, জালিম, চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা, রাজিয়া সুলতানা, সতী কমলা, বাহারাম বাদশা, আলাদিন আলী বাবা, সিন্দাবাদ প্রভৃতি ছবিতে। অভিনয়ের পাশাপাশি এসব ছবিতে নৃত্য পরিচালক হিসেবেও তিনি কাজ করেছিলেন। জাভেদ এ পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।