• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৫ রবিউল সানি ১৪৪০

‘ভাল্ব’র উচ্চমূল্যে পিয়াজ বীজের আবাদ কমেছে ৫শ’ হেক্টর

সংবাদ :
  • কে এম রুবেল, ফরিদপুর

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ২০১৮

image

ফরিদপুর : পিয়াজ বীজ ক্ষেতে কৃষি কর্তার সঙ্গে চাষি বক্তার খান -সংবাদ

ফরিদপুর জেলার উৎপাদিত পিয়াজ বীজ প্রায় সারা দেশের চাহিদা পূরণ করে থাকে। ফরিদপুর জেলার মাটি ও আবহাওয়া পিয়াজ বীজ উৎপাদনের জন্য উপযোগী হওয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পায় এই অঞ্চলে পিয়াজ বীজের আবাদ। কিন্তু চলতি বছর বীজ আবাদের শুরুতেই চাষিরা বিপাকে পড়ে পিয়াজের ভাল্ব ক্রয় করতে গিয়ে। বিএডিসি ভাল্ববের উচ্চ মূল্য নিধারণ করায় অনেক কৃষক চলতি বছর পেয়াজ বীজ আবাদ করতে পারেনি। ফলে ফরিদপুর জেলায় গত বছরের চেয়ে প্রায় ৫’শ হেক্টোর জমিতে পিয়াজ বীজের আবাদ কম হয়েছে। ফলে চলতি বছর বীজের উৎপাদনও কম হবে।

পিয়াজ বীজ চাষী আকবর খান জানায়, পিয়াজ বীজ একটি লাভ জনক ফসল। আর সে কারণেই আমরা দীর্ঘদিন ধরে বীজের আবাদ করে থাকি। গত বছর ১০বিঘা জমিতে বীজের আবাদ করে ভাল লাভবান হয়েছিলাম। কিন্তু চলতি বছর বীজের আবাদ করতে পারিনি কারণ বিএডিসি চলতি বছর পিয়াজের ভাল্ববের দাম অনেক বেশি নিয়েছে। সে কারনেই বীজের আবাদ করতে পারিনি। আরেক চাষী আকবর খান আক্ষেপ করে বলেন, বিএডিসি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বিএডিসি চাষীদের কোন সেবায় দেয় না। চাষীদের কাছ থেকে ১৪’শ টাকা দরে ভাল্ব ক্রয় করে ঐ চাষীদের কাছেই ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছে এবং ওজনেও কম দিয়েছে। পিয়াজ বীজের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে কৃষকেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বীজক্ষেত পরিচর্যা ও আগাছা বাছাইর কাজে। সারা মাঠ জুড়ে পিয়াজ বীজের সাদা ফুলে ছেয়ে গেছে আর মৌমাছি মধু সংগ্রহে ব্যস্ত আছে। কৃষকের আশা এবছরও পিয়াজের বীজের বাম্পার ফলন হবে। তবে তারা বলছেন, যদি সরকারি হস্তক্ষেপে ন্যায্য মূল্য মিলে তবেই কৃষকের মুখে সস্তির হাসি ফুটবে। ফরিদপুর জেলার উৎপাদিত বীজের সুখ্যাতি রয়েছে সারা দেশে। চলতি বছর ফরিদপুর জেলার ৯টি উপজেলাতেই কম-বেশি পিয়াজ বীজের আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে সদর উপজেলার অম্বিাকাপুর ইউনিয়নে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ব্যাপক চাষ হয়েছে। এছাড়া ভাঙ্গা, সদরপুর, নগরকান্দা, সালথা, চরভদ্রাশন, আলফাডাঙ্গাসহ সব উপজেলাতেই পিয়াজ বীজের আবাদ হয়ছে। কৃষক বক্তার খান জানায়, পিয়াজ বীজ একটি লাভ জনক ফসল। তবে এতে ঝুঁকিও আছে। চলতি বছর আমি ১৫একর জমিতে বীজ আবাদ করেছি। আবহাওয়া ঠিক থাকলে অনেক লাভবান হতে পারব। আর পিয়াজ বীজ চাষে সোনালী ব্যাংক ৪%সুদে ঋণ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করছে। সোনালী ব্যাংক সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করছে।

এদিকে পিয়াজ বীজ মাঠ পরিদর্শন করেছেন সোনালী ব্যাংক ফরিদপুর অঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার মো. জহিরুল ইসলাম। তিনি পিয়াজ বীজের মাঠ দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং আগামীতে সোনালী ব্যাংক থেকে পর্যাপ্ত পরিমানে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস প্রদান করেন। একই সাথে ঋণের সময় বৃদ্ধি করার কথাও বলেন। এসময় তার সাথে ছিলেন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. শামচুল হক, কৃষক বক্তার খান, আকবর খানসহ এলাকার পিয়াজ বীজ চাষীরা উপস্থিত ছিলেন। ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার জানান, পিয়াজের বীজের খ্যাতি দেশব্যাপী। চাষীরা এই বীজকে কালো সোনা হিসাবে তুলেনা করেন। কারন এই বীজের চাষ করে অনেক বেকার যুবক তাদের বেকারত্ব দূর করে এখন স্বাবলম্বি হয়েছে। ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, পিয়াজ বীজকে কাল সোনা বলা হয়। কারণ এটা উচ্চ মূল্যের ফসল। অন্যান্য ফসলের তুলনায় কৃসকেরা পিয়াজ বীজ উৎপাদন করে বেশি লাভবান হয়, যার জন্য এটিকে কাল সোনা বলা হয়। তবে উৎপাদনের ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকিও আছে। ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পিয়াজ বীজ চাষীদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। এদিকে ফরিদপুর বিএডিসির বীজ ভবনের উপ-পরিচালক (ক: গ্রো:) মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, কৃষকদের অভিযোগ ঠিক না। কৃষকদের নিকট থেকে ১৪’শ টাকা মণ পিয়াজ বীজের ভাল্ব ক্রয় করার পর বাছাই করা, শুকানো এবং প্রায় ৮মাস হিমাগারে রেখে বীজ সংরক্ষণ করা হয়। এতসব করতে যে খরচ হয়েছে তাতে বিএডিসি কম মূল্যেই কৃষকদের বীজের ভাল্ব দিয়েছে। বিএডিসি কৃষকদের স্বার্থেই কাজ করে।