• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১২ বৈশাখ ১৪২৫, ১৮ শাবান ১৪৪০

‘অনির্বাণ’ অনুপ্রেরণার বাতিঘর

সংবাদ :
  • যশোর অফিস

| ঢাকা , রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০১৯

image

খুলনার অজ পাড়াগাঁ মাহমুদকাটি। জেলা শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার এবং উপজেলা শহর পাইকগাছা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের এ গ্রামটিতে গড়ে উঠেছে একটি লাইব্রেরি। লাইব্রেরিটি শুধু বই পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একটি এলাকা বদলে দিতে যা যা প্রয়োজন সব কিছুই লাইব্রেরির মাধ্যমে করা হচ্ছে। প্রতিটি এলাকায় যদি এ ধরনের লাইব্রেরি গড়ে তোলা সম্ভব হয় তাহলে শুধু একটি এলাকা নয় গোটা দেশ বদলে যাবে।

স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্ন জাগে তাহলে কি মাহমুদকাটি এলাকাটি বদলে গেছে? হ্যাঁ বদলেই তো গেছে। ১৯৯০ সালের ১০ ডিসেম্বর এই লাইব্রেরিটি স্থাপনের আগে মাহমুদকাটিসহ আশপাশের গ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন মাত্র একজন। এখন প্রতি পাড়ায় আছে। মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেও পড়ে অনকে। এই এলাকা থেকে এমবিবিএস পাস করেছে ৬ জন। ব্যাংক কর্মকর্তা রেলওয়ে কর্মকর্তা, সাংবাদিক, অধ্যাপক অনেকেই এই এলাকার বাসিন্দা। তারা সবাই ক্যারিয়ার গড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন অনির্বাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে। লাইব্রেরির যাত্রা শুরুতে তারা সবাই ছিলেন নিচের শ্রেণীর ছাত্র। লাইব্রেরির ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তারা। এক কথায় অনির্বাণ লাইব্রেরি বদলে যাবার এক বাতিঘর। পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা জয়দেব কুমার ভদ্র লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা। তার বাড়ি সোনাতনকাটী গ্রামে। তিনি বলেন, লাইব্রেরির মাধ্যমে বই পড়া ছাড়াও এলাকা বদলে দিতে যা যা দরকার তার সবটাই করা হয় লাইব্রেরির মাধ্যমে। আর সেই কাজগুলো হলো, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, তথ্য প্রযুক্তি কেন্দ্র, ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক, ব্লাড ফর লাইফ, বয়ষ্ক শিক্ষা কেন্দ্র ও ল্যাংগুয়েজ ক্লাব প্রভৃতি। এই লাইব্রেরির কল্যাণে এলাকার চিত্র এভাবে বদলে গেছে যে, বর্তমানে এখানে আর বাল্যবিবাহ হয় না। এ লাইব্রেরিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন। প্রতি সপ্তাহে এলাকার ছেলেমেয়েদের নিয়ে লাইেেব্ররি প্রাঙ্গণে বসে পাঠচক্র। এলাকার স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাপ্তাহিক বৈঠক হয়। উচ্চশিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন দেখানো হয় তরুণদের। লাইব্রেরির খরচ জোগানো হয় এলাকার মানুষের অনুদানের টাকায়। ২০১৩ সালে লাইব্রেরির জন্য কেনা হয় ১১ শতক জমি। স্থানীয় লোকজনের মধ্যে যারা নানা জায়গায় ভাল চাকরি করেন, তারা অনুদান দিয়েছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এক লাখ টাকার অনুদানও পাওয়া গেছে। তিন বছর মেয়াদী একটি কমিটি দ্বারা লাইব্রেরিটি পরিচালিত হয়। যার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হলেন যথাক্রমে সমীরণ দে ও প্রভাত দেবনাথ। সাধারণ সম্পাদক জানান, লাইব্রেরির জন্য একটি দুইতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ওই ভবনে থাকবে লাইব্রেরি, মিলনায়তন, ডিজিটাল কক্ষসহ আধুনিক প্রযুক্তির সমাহার। নতুন ভবনে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি কেন্দ্র চালু এবং এলাকার শিক্ষার্থীদের আইটি প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নিয়েছে লাইব্রেরি কমিটি। তাছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভবনটি নির্মাণে ৬৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় ভবন নির্মাণের কাজ করা হয়েছে। লাইব্রেরির লক্ষ্য উদ্দেশ্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী যে কেউ এক হাজার টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করে সদস্য হতে পারেন।