• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ মহররম ১৪৪২, ১১ আশ্বিন ১৪২৭

৩২ বছর শেকলবন্দী হবিবুন হাসপাতালে

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, বড়লেখা (মৌলভীবাজার)

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২০

image

৩২ বছর ধরে ভাইয়ের চাপড়া ঘরে পায়ে শেকল বন্দি থাকা হাবিবুননেছা (৫৮) এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মানসিক ভারসাম্যহীন হবিবুন নেছা। দুই ছেলে ও এক মেয়ে নাবালক অবস্থায় মানসিক বিকৃতি দেখা দেয়। আর তখন থেকেই তার লাঞ্চনা-গঞ্চনার জীবনে শুরু তার বন্দী জীবনের। সংবাদকর্মীর কাছ থেকে ঘটনা শুনে বড়লেখা পুলিশ তাকে উদ্ধার কওে বড়লেখা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এলাকারবাসীর কাছ থেকে হাবিবুন্নেছার বন্দী জীবনের তথ্যসূত্র ধরে সরেজমিন গত মঙ্গলবার (৩রা মার্চ) বিকেলে এ প্রতিনিধি ও যুগান্তর প্রতিনিধি বড়লেখা সদরের জফরপুর গ্রামে ইসলাম উদ্দিনের বাড়িতে যাই। দেখা যায় হাবিবুন্নেছার ৩২ বছর ধরে শেকল বন্দী অমানবিক জীবন। সেখানে তার শতবর্ষী বৃদ্ধ মা রয়ছুন্নেছা, ভাই ইসলাম উদ্দিন ও ভাতৃবধূর সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, বিয়ের পর ৩ সন্তানের মা হওয়ার পর তার মানসিক বিকার দেখা দেয়। এর পর তিনি পরিবারে ও প্রতিবেশীসহ গ্রামের বিভিন্ন জনের বাড়িতে নানা উৎপাত শুরু করেন। স্বামী মুহিবুর রহমান স্ত্রীর প্রতি ধর্মীয়, মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব না নিয়ে তাকে একমাত্র ভাইয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। দু‘ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে পৃথক সংসার শুরু করেন। এর পর থেকে চাপড়ায় শেকলবন্দী মানবেতর জীবন যাপন করলেও ভরণপোষন, সুচিকিৎসা কিংবা মাঝে মধ্যে খোঁজ খবর নেয়ারও প্রয়োজনও বোধ করনি ঔরসজাত তিন সন্তান। সরেজমিন দেখে ও তার বয়বৃদ্ধ মা, একমাত্র ভাই তার ভ্রাতৃবধুর হতাশা যুক্ত কথায় প্রকাশ তার সন্তানরা যেন ওই নারীর মৃত্যুর খবরেরই অপেক্ষায় রয়েছেন। পায়ে লোহার তালাবদ্ধ শেকল আর পাকার খুটিতে রশিতে বাধা জীবনই যেন হয়ে উঠে হবিবুনের নিয়তি। ভাইয়ের পাকা বসতঘরের উত্তর দিকের একটি চোপড়া ঘরে ময়লা-আবর্জনার মধ্যে পায়ে লোহার শেকল ও রশি দিয়ে তাকে বেঁধে রেখেছেন। কঙ্কালসার হবিবুন নেছা শুধু ফেল ফেল করে তাকিয়েই থাকেন। কথা বলতে গিয়ে দুর্বল শরীরের কারণে কোন কিছুই স্পষ্ট করতে পারেন না। এভাবেই প্রায় ৩২ বছর ধরে হবিবুন নেছার বড়ভাই ইসলাম উদ্দিন বোনের দেখাশুনা করছেন। ইসলাম উদ্দিন জানান, বিয়ের ৫-৬ বছরের মধ্যেই ছোট বোনের মাথায় সমস্যা দেখা দেয়। অনেক চিকিৎসক দেখিয়ে ওষুধ পাতি করেছেন কিন্তু সারেনি। স্বামী ও ছেলে-মেয়েরা খোঁজ-খবর নেয় না। ভাগ্না নাজিম উদ্দিন ও আলা উদ্দিন বিয়ে সাদি করেছে। উত্তর চৌমুহনায় তাদের ফার্নিচারের ব্যবসা রয়েছে। নিজে বাড়ির জমি ক্রয় করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে অনেক অনুনয় বিনয় করা স্বত্তেও তারা মায়ের কোন খোজই রাখে না। নোংরা চোপড়াঘরে ময়লা আবর্জনার মধ্যে একজন মানুষকে বেধে রাখা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, খুলে দিলে বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে গিয়ে ক্ষতি সাধন করায় এভাবে রেখেছেন। চরম অমানবিক অবস্থায় এক নারী ৩২ বছর ধরে শেকল বন্দী রয়েছেন সংবাদকর্মীর কাছ থেকে জানতে পেয়ে বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক ওই দিনই (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় হতভাগী ওই নারীকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। গতকাল বুধবার সকাল দশটায় বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। উপলেজালা হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পারিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রতœদীপ বিশ্বাস সরেজমিন আলাপকালে এ প্রতিনিধিকে জানান, তার শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে তার মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন। হাসপাতালে কোন মানসিক চিকিৎসক ও চিকিৎসার ব্যবস্থানা থাকায় শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে অন্যত্র উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে। এর আগ পর্যন্ত সেখানেই তার চিকিৎসা চলবে।