• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ রবিউস সানি ১৪৪১

৩ কিমি. বেড়িবাঁধ অরক্ষিত ঝুঁকিতে ৩০ হাজার মানুষ

সংবাদ :
  • জসিম সিদ্দিকী, কক্সবাজার

| ঢাকা , সোমবার, ০৮ এপ্রিল ২০১৯

image

কক্সবাজার : ৮ কিমি. বাঁধের মেরামত না করা ৩ কিমির একাংশ -সংবাদ

পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের সাগর বেষ্টিত বেড়িবাঁধ এখনও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না হওয়ায় ৩০ হাজার মানুষ রয়েছে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়তে পারে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। এছাড়া ঝুঁকিতে রয়েছে লবণ ও চিংড়ী উৎপাদন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ গত ২ বছর আগে ইউনিয়নের ৮ কিলোমিটারের এ বেড়িবাঁধ সংস্কারকাজ শুরু করেছিল উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাড়ে ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করলেও বাকি আড়াই কিলোমিটার রয়ে গেছে এখনও অরক্ষিত। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির এমন ভূমিকায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে শত কোটি টাকার সরকারি এ উন্নয়ন প্রকল্প।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহেদুল ইসলাম, মোজাহিদুল ইসলাম, আলী আকবর ও জয়নাল আবদীন বলেন, বেড়িবাঁধটির সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করতে তাগিদ দিয়ে আসছিল সবাই। কিন্তু ঠিকাদারের ধীরগতিতে সংস্কার কাজটি এখনও পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে না। তাই কার্যাদেশ শেষ হয়ে গেলেও সংস্কার কাজ থেকে গেছে অসম্পূর্ণ। কিছুদিন আগে বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজে নিয়োজিত যন্ত্রাদি ও এস্কেলেটর সরিয়ে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে আগামী বর্ষার মগনামার লোকজন আবারও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে কাঁকপাড়া ও শরৎঘোনা পয়েন্টের সংস্কার কাজটি শেষ করার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এদিকে একই দাবি নিয়ে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম। ৬ এপ্রিল বিকেলে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলামসহ পেকুয়ায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান ওয়াসিম বলেন, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু ও আইলার আঘাতে এমনিতে মগনামার মানুষ অসহায় জীবন যাপন করছে। ক্ষতবিক্ষত রয়েছে গ্রামীণ অবকাঠামো ও হাজারও মানুষের ঘর বাড়ি। দুর্যোগের পর সরকার মগনামা ইউনিয়নে অন্তত ৮ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছে। এখন ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে বর্ষায় পানি ঢুকলে এসব উন্নয়ন কাজ ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে এলাকাবাসীর।

তিনি আরও বলেন, মগনামা ইউনিয়নে ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। পুরো ইউনিয়নে আট কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। একমাস পরই বর্ষা শুরু হবে। এই অরক্ষিত বেড়িবাঁধ নিয়ে মগনামাবাসীর মাঝে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঠিকাদারের অর্থ সংকটের অজুহাতে বেড়িবাঁধটি সম্পূর্ণ সংস্কার না করায় পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন উজানটিয়ায়ও এর প্রভাব পড়বে। তাই তিনি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের আসন্ন প্লাবন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় সাংসদ ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।