• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ১৭ শাবান ১৪৪০

১০ বছর যেতে না যেতেই ৩ কমিউনিটি ক্লিনিক পরিত্যক্ত!

সংবাদ :
  • রুহুল আমীন, শ্রীপুর (গাজীপুর)

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

image

শ্রীপুর (গাজীপুর) : পরিত্যক্ত লতিফপুর কমিউনিটি ক্লিনিক -সংবাদ

শ্রীপুরের পৌর শহরের ৩নং ওর্য়াডের লোহাগাছ কমিউনিটি ক্লিনিক, রাজাবাড়ি ইউনিয়নের কাফিলাতলী কমিউনিটি ক্লিনিক এবং গোসিংগা

ইউনিয়নের লতিফপুর কমিউনিটি ক্লিনিকটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে হাজারও অসুবিধা নিয়েই চলছে সেবা কার্যক্রম। এতে মানুষ ক্লিনিকে সেবা নিতে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

মানহীন ভবন (কমিউনিটি ক্লিনিক) নির্মাণের কারণে দশ বছর যেতে না যেতেই স্বাস্থ্য সেবায় ব্যবহারের ভবন ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়েছে।

সেবাগ্রহণকারীরা জানান, লোহাগাছ কমিউনিটি ক্লিনিকটি প্রায় সাত আট বছর ধরেই ব্যবহার অনুপযোগী ছিল। দেড় দুই বছর আগে ভবনটি ভেঙ্গেই পড়েছে। পরে ক্লিনিকের যাবতীয় আসবাবপত্র পার্শ্ববর্তী একটি জীর্ণ মাটির ঘরে সরিয়ে নেয়া হয়। দুই বছরের বেশি সময় ধরেই জীর্ণ মাটির ঘরেই চলছে স্বাস্থ্য কার্যক্রম। সে মাটির ঘরটি কবরস্থানের পাশে হওয়ায় দুপুরের পর সেখানে কোন মানুষের চলাচল থাকে না। তাই সেখানকার স্বাস্থ্য কর্মীরা ভয় নিয়েই চালান তাদের সেবা কার্যক্রম। এদিকে কাফিলাতলী কমিউনিটি ক্লিনিকটির ভবনে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়ায় সেটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পরে সেটি স্থানান্তর করে একটি মনিহারি দোকানে চালু করা হয়। সেখানেই কয়েক বছর যেনতেন স্বাস্থ্য সেবা চলে। বছরখানেক আগে ওই ক্লিনিকটি পাশের একটি টিনের তৈরি জরাজীর্ণ ভবনে স্থানান্তর করা হয়। লতিফপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল ভবনটি ভেঙ্গে গেছে বেশ অনেকদিন হলো। এখন ভবনের ভেতর ঘাস জন্মেছে। ভবনের চারপাশে এখন বনজঙ্গলে ভরে গেছে। এখন জমিদাতার এক আত্মীয়ের বাড়িতে স্থানান্তর করা হয়েছে ক্লিনিকের কার্যক্রম। এখন সেখানেই যেনতেন স্বাস্থ্য সেবা চালানো হচ্ছে।

গোসিংগা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পদাধিকার বলে এ ক্লিনিকটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমি। এ ওর্য়াডের সদস্য নির্বাচিত হলেই এ পদ মিলে। তবে বিভিন্ন অপূর্ণতা থাকায় আমি এ দায়িত্ব নিতে চাইনি। পরে চেয়ারম্যান মহোদয়ের বিশেষ অনুরোধে দায়িত্ব নিয়েছি। এখনতো ভবনই নাই। জমিদাতার এক আত্মীয় বিদেশ থাকায় তার বাড়িটি ব্যবহার করা হচ্ছে। কোন রকমেই চলছে স্বাস্থ্য সেবা। এ বিষয়ে উপজেলার বিভিন্ন মিটিংয়ে কথা বলেছি। সবাই আশস্থ করেছে শীঘ্রই ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে। এ ক্লিনিকটিকে দশ শয্যার একটি হাসপাতাল করা হবে বলেও আমাদের বলা হয়েছে।

গ্রামবাসীরা জানান কাফিলাতলী কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল ভবনের দুই পাশের পিলার ও দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ভবনটিতে ২০১৩ সালে ফাটল দেখা যায়। দেখতে নতুন মনে হলেও ভবনটির চারপাশে বন্য গাছ-গাছালি ও লতাগুল্মে ভরে গেছে। পরে ২০১৪ সালে মূল ভবন থেকে কমিউনিটি ক্লিনিক পার্শ্ববর্তী মোফাজ্জলের মনিহারির দোকানে স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে পাশের মনির হোসেনের বাড়ির একটি টিনের ঘরে কমিউনিটি ক্লিনিকটি স্থানান্তর করা হয়েছে। পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সাহিদ সরকার জানান লোহাগাছ কমিউনিটি ক্লিনিকটির মূল ভবন পিলার, দেয়াল ও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির আসবাবপত্রসহ ক্লিনিকটি পাশের একটি মাটির জরাজীর্ণ ঘরে সরিয়ে নেয়া হয়। মাটির ঘরটির অবস্থাও খুব নাজুক। চার পাশে টিনের চালগুলোর কোন কোন অংশ পুরোনো হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ছে প্রায়। সেবা নিতে আসা লোকজন মাটির ঘরের বাইরে রোদে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্য সেবা নেন। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মইনুল হক খান বলেন, ভবন না থাকায় গ্রামের রোগীদের কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা যাচ্ছে না। পরিত্যক্ত ভবনগুলো ভেঙ্গে নতুন করে ভবন তৈরি করার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। বরাদ্দও হয়ে গেছে বলে জেনেছি। ভবনগুলো তৈরি হয়ে গেলে প্রান্তিক মানুষ আরও বেশি স্বাস্থ্যসেবা পাবে এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে। আশা করছি আগামী দু’বছরের মধ্যেই সকল সমস্যা মিটে যাবে।