• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৪, ৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

হাওরের ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণে তোড়জোড়

সংবাদ :
  • মোস্তফা কামাল, কিশোরগঞ্জ

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

image

কিশোরগঞ্জ : বাজিতপুরের দীঘিরপাড়ে ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণ কাজে ব্যস্ত শ্রমিক -সংবাদ

গত বছর কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যায় বোরো ফসল বিনষ্ট হবার পর এবার ফসল রক্ষায় নতুন করে বিভিন্ন হাওরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ৯টি বাঁধের কাজ চলছে। হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার হাত থেকে বোরো ফসল রক্ষার জন্য হাওরের বিভিন্ন উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ করা হয়। আর এ কাজগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ক কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে করানো হয়। কিশোরগঞ্জে এসব কাজ তদারকির জন্য সরকার জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি জেলা ‘কাবিটা মনিটরিং কমিটি’ গঠন করেছে। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী। মনিটরিং কমিটির সদস্যরা কাজের অগ্রগতি দেখার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করছেন।

এবারের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ইটনা উপজেলার ইটনা ইউনিয়ন, বাদলা ইউনিয়ন ও মৃগা ইউনিয়নে একটি করে, বাজিতপুর উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়ন ও হুমাইপুর ইউনিয়নে একটি করে, অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে তিনটি ও দেওঘর ইউনিয়নে একটি করে মোট ৯টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। আর এসব এলাকার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় কাজের জন্য সরকার মোট ৭ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। তবে এবার সরকার পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করায় কাজের পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকল্পগুলো শেষ করার জন্য সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। হাওরের জমিগুলো কোথাও খানিকটা উঁচু, কোথাও খানিকটা নিচু। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এসব জমির উচ্চতা ২ মিটার থেকে ২ দশমিক ৭৫ মিটার পর্যন্ত। আর বাঁধগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ মিটার উঁচু করে।

মঙ্গলবার বাজিতপুরের দীঘিরপাড়, হুমাইপুর ও নিকলীর ছাতিরচর ইউনিয়নের বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে শ্রমিকরা কাজ করে যাচ্ছেন। কোথাও কোদাল হাতে, আবার কোথাও এসকেভেটর দিয়ে মাটি ফেলে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। কোন কোন প্রকল্প ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করা যাবে। আর কোন কোন প্রকল্প শেষ করতে হয়ত আরও কয়েকদিন বাড়তি সময় লাগতে পারে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে তাতে ফসলের জন্য কোন হুমকি হবে না। কারণ গত বছর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আগাম বন্যার পানি এসেছিল। ফলে মার্চ মাসেরও কিছুদিন কাজ করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলবার প্রথমে বাজিতপুরের দীঘিরপাড় এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে শ্রমিকরা ৯০০ মিটার দীর্ঘ একটি বাঁধের কাজ করছেন। এই কাজের পিআইসির সভাপতি হলেন দীঘিরপাড় ইউপি মেম্বার আব্দুল হান্নান। বাঁধের বড় অংশে পাশের জমি থেকে শক্ত মাটি ফেলা হচ্ছে। পূর্ব প্রান্তে মাটির জোগানের অভাবে ড্রেজিং করে বালু ফেলে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে বাঁধটি টেকসই করার জন্য পলিথিন এবং দুই পাশে বাঁশ পুঁতে চাটাই দিয়ে প্যালাসাইডিং করা হচ্ছে। দীঘিরপাড় পিআইসির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন দিঘীরপাড় ইউপি মেম্বার আব্দুল হান্নান মিয়া। কাজটি তদারকি করছেন বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলার দায়িত্বে নিয়োজিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রকিবুল আলম রাজিব।

তিনি জানান, কোন কোন বাঁধ নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। আবার কোন কোন পুরনো বাঁধে মাটি ফেলে উঁচু করা হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণসহ দীঘিরপাড় বাঁধটির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৮ লাখ টাকা। এটি ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করা যাবে বলে তিনি আশাবাদী। বাঁধটির কারণে এবার ৯ হাজার ৫৫৭ হেক্টর বোরো জমি রক্ষা পাবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি জানান, বালুমাটির ওপর একটি শক্ত মাটির প্রলেপ দেয়া হবে। কোন কোন বাঁধে রোলার চালিয়ে মাটি বসানো হবে। এরপর প্রতিটি বাঁধেই ঘাস লাগানোরও সিদ্ধান্ত দেয়া আছে পিআইসির সদস্যদের। দীঘিরপাড় প্রকল্পের প্রায় ৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে হুমাইপুর প্রকল্পে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে এসকেভেটর দিয়ে মাটি কেটে বাঁধের সংস্কার করা হচ্ছে। ১৪শ’ মিটার দীর্ঘ বাঁধটির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১২ লাখ টাকা।

এর পিআইসির সভাপতি হলেন শংকর চন্দ্র দাস। এছাড়াও হুমাইপুর ও নিকলীর ছাতিরচর ইউনিয়ন মিলে ৭ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বড় প্রকল্প রয়েছে। সেখানেও শ্রমিক ছাড়াও এসকেভেটর লাগিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াহ্ হিয়া খান কাজটির উদ্বোধন করেন। উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাজিব জানিয়েছেন, এটি ১৯৭৭ সালে নির্মিত ৩১ কিলোমিটার হুমাইপুর বেড়িবাঁধের অংশ। এখানে বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক কোটি ১৮ লাখ টাকা। এই বাঁধটির জন্য আগাম বন্যার হাত থেকে ১০ হাজার হেক্টর বোরো জমি রক্ষা পাবে। এখানে ৫৫ হাজার টন ধান উৎপন্ন হবে, ৭০০ টাকা মণ দরে যার মূল্য দাঁড়ায় ৯৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তবে এই বাঁধের বরাদ্দের টাকা বিলম্বে আসায় কাজ শুরু করতে হয়েছে বিলম্বে। ফলে এই প্রকল্পটি শেষ করতে হলে ২৮ ফেব্রুয়ারির পরেও কিছুদিন বাড়তি সময় নিতে হতে পারে বলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী রকিবুল আলম রাজিব জানিয়েছেন।