• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ৬ ফল্গুন ১৪২৬, ২৪ জমাদিউল সানি ১৪৪১

হবিগঞ্জে চাঁদের হাসি ক্লিনিকে মা ও নবজাতক মৃত্যুর অভিযোগ : মামলা

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

| ঢাকা , শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

হবিগঞ্জ শহরের চাঁদের হাসি ক্লিনিকের ডাক্তার নার্সসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মা ও নবজাতক হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমল-১ আদালতে সদর উপজেলার যাত্রাবাড়ীর প্রয়াত নুর হোসেনের পুত্র মোমিন মিয়া বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলো চাঁদের হাসি ক্লিনিকের ডাক্তার হালিমা নাজনীন মিলি (৪৫), ডাক্তার আশিক আহমেদ (৪০), ল্যাব ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন (৪৮) ও নার্স মমতাজ আক্তার রিনা (৪৫)সহ আরও দুইজন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রতিবেশী প্রয়াত সৈয়দ আলীর পুত্র মোহন মিয়ার সঙ্গে এক বছর আগে বাদীর বোন নিহত নাজু আক্তারের (২০) বিয়ে হয়। বিয়ের পর তার স্বামী ও ভাসুর তার ওপর নির্যাতন শুরু করে। ইতোমধ্যে নাজু আক্তার গর্ভবতী হলে গত ৩১ জানুয়ারি সকালে ছাদের হাসি ক্লিনিকে নাজুকে ভর্তি করা হয়। ডাক্তার বলে সিজার করাতে হবে। বাচ্চার অবস্থা ভাল নয়।

যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কথামতো আমরা সিজার করাতে রাজি হই। ওইদিন রাতে নাজুকে উল্লেখিতরা সিজারের নামে অপচিকিৎসা চালায়। এক পর্যায়ে তার নবজাতককে পরিকল্পিত হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা চালায়। শুধু তাই নয়, নাজুর জরায়ু কেটে ফেলে তারা। অতিরিক্তি রক্তকরণের ফলে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।

ওইদিন রাত ১টার দিকে নাজুকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন সকালে নাজু মারা যায়। সিলেটের ডাক্তার বলেন, জরায়ু কেটে ফেলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে নাজুর মৃত্যু হয়েছে। বাদীর বিষয়টি সন্দেহ হলে সিলেট কতোয়ালি থানাকে অবহিত করেন।

এসআই মো. দেলোয়ার হোসেন, কনস্টেবল তান্নী বেগমসহ একদল পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্ত শেষে ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে লাশটি বাদীর কাছে হস্তান্তর করে। বাড়িতে এনে লাশ দাফন করা হয়। পরে জানতে পারেন তারা আসামি জামাল ও নাজুর স্বামী মোহন মিয়া পূর্বপরিকল্পিতভাবে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ছাদের হাসির ডাক্তারকে দিয়ে তার বোনকে ও নবজাতককে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছে। অবশেষে নিরোপায় হয়ে এ মামলা দায়ের করা হয়। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ প্রদান করেন।

চাঁদের হাসির ক্লিনিকের পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন জানান, তাদের হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত।

এ রকম কোন ঘটনা ঘটেনি। যারা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি বলেন। তারা যে রোগীটি নিয়ে এসেছিলেন ওই রোগীকে অন্যত্র চিকিৎসা করিয়ে তার অবস্থা একেবারেই আশঙ্কাজনক ছিল। তাদের অনেক অনুরোধের কারণে আমরা লিখিত নিয়ে চিকিৎসা করি। এমনকি বিনামূল্যে আমাদের হাসপাতালের এক স্টাফ ওই রোগী রক্তদান করেন। আমাদের এখানে কোন প্রকার ভুল চিকিৎসা করা হয়নি। আমরা শতভাগ সঠিক চিকিৎসা দিয়েছি।