• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

সড়ক আইন সংশোধন দাবিতে কিশোরগঞ্জে বাস চলাচল বন্ধ

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, কিশোরগঞ্জ

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ নভেম্বর ২০১৯

গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ সংশোধনের দাবিতে কিশোরগঞ্জে সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন চালকরা। ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। বাস বন্ধ থাকায় চাপ পড়েছে ট্রেনগুলোতে। অনেকে ঝুঁকি নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় করে রাজধানীসহ আশপাশের জেলায় যাচ্ছেন।

তবে মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, তারা বসা বন্ধের বিষয়ে কিছুই জানেন না। মূলত চালকরাই আইনটি সংশোধনের দাবিতে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জেলা শহরের আন্তঃজেলা গাইটাল বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, চাকা বন্ধ করে সারি সারি বাস দাঁড়িয়ে আছে। আর এখানে সেখানে বাস শ্রমিকরা জটলা করে দাঁড়িয়ে আছেন।

তাদের সঙ্গে কথা বললে জানান, আমরা গরিব মানুষ। ৫ লাখ টাকা জরিমানা করলে কোথা থেকে দেব। ৫ বছরের জেল হলে পরিবার ভিক্ষা করে খাবে। আইনের সংশোধন না করলে তারা বাস চালাবেন না বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক লেনিন রায়হান শাহীনকে প্রশ্ন করলে তিনি বাস বন্ধের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেন। জেলা মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কায়সার আহমেদ কাইয়ুমকে প্রশ্ন করলে বলেন, বাস বন্ধের সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়নের কোন সম্পর্ক নেই। এটা মূলত করেছেন চালকরা। তারা আইনের সংশোধন চান। তিনি বলেন, আইনে সংশোধন আনার একটি প্রক্রীয়া চলছে। ফলে চালকদেরকে বলা হয়েছিল রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করার জন্য। কিন্তু শ্রমিকদের দাবি, নতুন আইনে জরিমানা দিতে না পারলে যেন জামিনের ব্যবস্থা থাকে। শাস্তির মাত্রাও যেন কমানো হয়।

কাইয়ুম জানান, কিশোরগঞ্জে চালকসহ কার্ডধারী ২২শ’ পরিবহন শ্রমিক আছেন। আর কন্ডাক্টর আছেন এক হাজার। মালিকরা তাদেরকে কোন নিয়োগপত্র দেন না, দৈনিক চুক্তিতে কাজ করতে হয়। শ্রমিকদের কত রকমের আপদবিপদ থাকে, অসুখবিসুখ হয়। নিয়োগপত্র থাকলে তাদের বেতনের নিশ্চয়তা থাকতো। ফলে এসব দাবি নিয়েই চালকরা বাস বন্ধ করে দিয়েছেন। সারা দেশের অনেক জায়গায়তেই এরকম বাস বন্ধ আছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরীকে প্রশ্ন করলে তিনি এ ব্যাপারে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে শ্রমিক নেতাদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে তাদের কাছে প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।