• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৮ি জিলহজ ১৪৪১, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

সৈয়দপুরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১০ টন ভিজিএফ চাল আত্মসাতের অভিযোগ

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

| ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০

সৈয়দপুরে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে সহস্র্রাধিক দুস্থ পরিবারের ভিজিএফ চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ওই চেয়ারম্যানের নাম এনামুল হক চৌধুরী। তিনি উপজেলার ২নং কাশিরাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। আত্মসাতকৃত চালের পরিমাণ কমপক্ষে ১০ মেট্রিক টন। যার বর্তমান বাজার মূল্য কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ওই ইউনিয়নের নয় হাজার ৯৯৮ জন দুস্থ মানুষের জন্য প্রায় ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। যথানিয়মে চালও উত্তোলন করা হয় খাদ্য গুদাম থেকে। সুবিধাভোগীদের মাঝে প্রচার করা হয় তিনদিন ধরে চাল বিতরণ করা হবে। সেই হিসাবে ২৭ জুলাই থেকে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। গত বুধবার ছিল বিতরণের শেষ দিন। মানুষ চালের আশায় সকাল থেকে ভিড় জমায় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে। সকাল থেকে দুপুর হলেও কাক্সিক্ষত চাল দিচ্ছিল না চেয়ারম্যান। শেষে দুপুর ১২টায় তাদের বলা হয় চাল নেই শেষ হয়ে গেছে। তখন শুন্য হাতে সুবিধাভোগীরা বাড়ি ফিরে যায়। এ সময় কথা হয় ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের অধিবাসী ৭০ বছরের বৃদ্ধ আলাবকস, কাছুয়ানি, শেফালি, বাছিয়া বেগম, রাশেদা, নাজমা, ৬নং ওয়ার্ডের হাসনা, আমাজন, ফেন্সির সঙ্গে। তারা অভিযোগ করে বলেন, চাল দেয়ার কথা বলে আমাদের স্লিপ দিয়েছে। সকাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আছি। দুপুর পেরিয়ে গেল। চাল দিল না চেয়ারম্যান। এখন খালি হাতে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। অনেকে অভিযোগ করে বলেন, চালের জন্য হট্টগোল শুরু হলে অনেককে ১০ কেজি চালের বিপরীতে ১০০ টাকা করে দেয়া হয়েছে। অনেকের স্লিপ কেড়ে নিয়ে পুড়ে ফেলা হয়েছে। তবে চাল বিতরণ কাজের ট্যাগ অফিসার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মশিউর রহমানের যোগসাজশে এ চাল আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার ঘটনাস্থল সরেজমিনে গেলে ট্যাগ অফিসারের দেখা মিলেনি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে বার বার ফোন করেও মোবাইল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে ওই ইউনিয়নের সচিব রশিদুল ইসলাম বলেন, ৪০০ দুস্থ মানুষ ভিজিএফ’র চাল পায়নি। তাদের পরে দেয়া হবে। এদিকে ওই ইউনিয়নের কোন চাল খাদ্য গুদামে পাওনা নেই বলে জানান ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা ফজলুল হক। অভিযোগ বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান এনামুল চৌধুরীর মুঠোফোনে বার বার ফোন করা হলে তিনি সংযোগ কেটেছেন। পরে বেলা ২টা ১৬ মিনিটে এসএমএস দেয়া হলেও কোন মন্তব্য করেনি।

এ বিষয়ে জানতে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাসিম আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে বলেন অভিযোগ পেয়ে আমি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল হাসনাত ও সমবায় কর্মকর্তা মশিউর রহমানকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম। তারা বলেছে ৩৫০ দুস্থ মানুষ চাল পায়নি। তাদের প্রতিবেদন দিতে বলেছি। চেয়ারম্যান অপরাধী হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন বলেন, ওই চেয়ারম্যান কমপক্ষে ১২০০ গরিব মানুষের ভিজিএফ’র চাল আত্মসাত করেছে। এর আগেও করোনা শুরুর সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বিশেষ অনুদানের চালও ওই চেয়ারম্যান আত্মসাত করেছিল। সে সময় ২৩ জন গরিব মানুষকে বঞ্চিত করা হয়।