• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ রবিউস সানি ১৪৪১

চাঁদপুরের মেঘনার বালুচরে পর্যটকদের ভিড়

সুবিধা বাড়ালে হয়ে উঠবে আকর্ষণীয় স্থান

সংবাদ :
  • শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম, চাঁদপুর

| ঢাকা , সোমবার, ০৮ এপ্রিল ২০১৯

চাঁদপুরে মেঘনা নদীর বালুচর পর্যটনের এক দুর্বার আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বালুচরে যে বা যিনিই আসছেন, সে বা তিনিই বিস্ময়ে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। সামান্য কিছু সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হলে এবং খাবার হোটেলসহ থাকার ব্যবস্থা করা গেলে এটি হতে পারে কক্সবাজারের বিকল্প, এটাই মনে করছেন অভিজ্ঞজনেরা।

মেঘনার বালুচরে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিছানো হয়েছে কিছু বেঞ্চ, তার ওপর রঙিন ছাতা। সামনে মেঘনার বিশাল জলরাশি। এখানে চাঁদপুরের পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলের কাছে জেগে ওঠা চরের কথা বলা হচ্ছে। প্রতিদিনই এখানে এখন ভ্রমণপ্রিয় মানুষের ভিড় বাড়ছে। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন বহু লোক আসছেন প্রকৃতির এই অবারিত সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কিন্তু তারা এসে টয়লেট, খাবার পানি, আশ্রয়স্থল ও খাবারসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন।

চাঁদপুর জেলা সদরের প্রায় দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে পদ্মা ও মেঘনার মাঝে গত বছর জেগে উঠেছে চরটি। এর চারদিক পদ্মা ও মেঘনার দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি। চরটি কারও কাছে মোহনার চর, কারো কাছে চাঁদপুরের সৈকত, আবার কারও কাছে ‘মিনি’ কক্সবাজার নামে পরিচিত হয়ে ওঠেছে। এখানে সকালে বা বিকেলে এসে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখে ফিরছেন কেউ। আবার কেউ আসছেন এক-দুই ঘণ্টার জন্য।

চাঁদপুর পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর ফরিদা ইলিয়াস বলেন, স্থানীয়ভাবে এ বছর চরটিতে আটটি ছাতা ও বেঞ্চ বসানো হয়েছে। এছাড়া একটি শৌচাগার, একটি দোকান ও মসজিদ করা হয়েছে। জনপ্রতি আসা-যাওয়ার জন্য মাত্র ৫০ টাকায় ট্রলার বা নৌকার ব্যবস্থা রয়েছে। একজন পর্যটক বলেন, চাঁদপুরে এটি নতুন আবিষ্কার। এখানে পাশেই শহর। স্থানীয়ভাবে সব ব্যবস্থা থাকায় সহজেই এখানে আসা যায়। তাছাড়া আসা-যাওয়ার ট্রলার ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ একেবারেই কম। বারবার আসা যায়।

চরটিতে গিয়ে দেখা যায়, ইঞ্জিনচালিত নৌকা, ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে নানা বয়সী লোকজন আসছে চরে। সেখানে নেমে কেউ নদীর পানিতে ছোটাছুটি করছে, কেউ বালুচরে আড্ডা আর খেলাধুলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। চরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন মো. শাহাবুদ্দিন নামের এক শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে বেশ কয়েকবার এসেছি। এবার পরিবার নিয়ে এসেছি। চাকরি করে দূরে যাওয়ার তেমন সুযোগ হয় না। সরকারি বন্ধ পেলে এখানে ছুটে আসি।’ আইনজীবী বদরুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যারা নদী ভ্রমণ বা ঘুরতে পছন্দ করি, তাদের আর অনেক টাকা-পয়সা ও সময় ব্যয় করে কক্সবাজারে যাওয়া দরকার নেই। অল্প কিছু টাকা খরচ করে সেই আনন্দ এখানেই উপভোগ করা যাচ্ছে।‘ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন জেলা শহরের বাবুরহাট এলাকার ব্যবসায়ী আবু তাহের। তিনি বলেন, ‘আমাদের চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনার মাঝখানে এত সুন্দর মনোরম পরিবেশে যে চর জেগেছে আগে জানতাম না। এখন তো এসে দেখি, এটি যেন দ্বিতীয় কক্সবাজার। এখানে সাগরের নোনা পানি আর বড় বড় ঢেউয়ের শব্দ নেই। তবে বাকি সবই যেন কক্সবাজারের মতো। পর্যটকদের জন্য সরকারি বা বেসরকারিভাবে পরিবহন, থাকা, খাওয়া, নিরাপত্তাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা করলে আরও লোকজন এখানে ছুটে আসতেন।’

চরটি সম্পর্কে জানতে চাইলে চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের এই চর চাঁদপুরবাসীর জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। তবে বর্ষার সময় এটি ডুবে যায়। এটি নিয়ে আমরা স্থানীয়ভাবে কিছু পরিকল্পনা নিয়েছি।