• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

সিরাজদিখান উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র অরক্ষিত : চুরি হচ্ছে সম্পদ

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ)

| ঢাকা , রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০১৯

image

সিরাজদিখান থানা সংলগ্ন প্রাচীরবিহীন রশুনিয়া উপস্বস্থ্য কেন্দ্র -সংবাদ

মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখান থানা সংলগ্ন রশুনিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মূল্যবান সম্পদ চুরি যাচ্ছে। প্রভাবশালী জমিদাররা এই এলাকার মানুষের চিকিৎসায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির সীমানা প্রচীর ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী না থাকায় এখন হরদম চুরি যাচ্ছে কেন্দ্রটির মূল্যবান সম্পদ।

প্রায় ৩ একর জমি নিয়ে বাগানবাড়ি, পুকুর, ছোট-বড় ৩টি দালান-কোঠা কাঠ ৪টি টিনের ঘর নিয়ে এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র যা আজ ধ্বংসস্তুপের মধ্যে কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিলে এটি অন্যতম চিকিৎসালয় কেন্দ্র হতে পারত। চুরি ঠেকাতে নেই কার্যকরী ব্যবস্থা। ১৭শ’ শতাব্দীর গোড়াপত্তনে এককালের গরিব দুঃখী মানুষের সেবায় ছোট আকারে একজন কম্পাউন্ডার দিয়ে চিকিৎসা শুরু করে।

১৮শ’ শতক থেকে ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের আগে পর্যন্ত জমিদারদের তত্ত্বাবধানেই এইখানে চিকিৎসাসেবা চলত। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান হিন্দুস্থান হওয়ার পর ১৯৪৭ থেকে ১৯৬২ সাল জমিদারি প্রথা থাকার আগ পর্যন্ত জমিদাররা কলকাতায় বসে জমিদারি ও চিকিৎসা কেন্দ্রটি দেখাশুনা করত।

জমিদারি প্রথা বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার এর দেখাশোনা করতেন। পরবর্তীতে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র মূল উপজেলার থেকে তিন কিলোমিটার দূরে হওয়ায় এটি একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়। এই স্থানে গরিব দুঃখী রোগী ও কাছাকাছি লতব্দী, রশুনিয়া ও বালুরচর ইউনিয়নের অসংখ্য রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসে। প্রথম দিকে ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট, পিয়ন, ঝাড়ুদার সপরিবার নিয়ে এখানে থেকে চিকিৎসা সেবা দিলেও পরে ডা. সামসুল হুদা, ডা. রওশন আলী, ডা. উলফাত আরা, ডা. আয়েসার পরে কোন এমবিবিএস ডাক্তার এখানে থাকেননি। এরপর থেকে কোর্য়াটারগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

বর্তমানে প্রায় ৩ একর জমির ওপর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবস্থান হলেও চারপাশের অনেক জমি ভূমিদস্যুরা দখল করে নিয়েছে।

বর্তমানে ১টি পুকুর, বিশাল মাঠ ও ছোট বড় ২টি দালান ৩টি টিন কাঠের ঘর কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। বিশাল পুকুরটি টেন্ডার ছাড়াই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রর কর্মচারীরা ইজারা দিচ্ছে। রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। প্রতিনিয়ত চুরি হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান দরজা-জানালা, লোহার কারুকার্যখচিত প্রতœতত্ত্ব। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে নিয়মিত কোন এমবিবিএস ডাক্তার না থাকায় রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

হাসপাতাল টিতে রাতেরবেলা চোর-ডাকাতদের গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি ও সেবনকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। সিরাজদিখান রশুনিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপনের জন্য এলাকাবাসী দাবি জানান। সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বদিউজ্জামান বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির বাউন্ডারি ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী না থাকাতে আমরা রশুনিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ অন্যান্য উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র চুরির হাত থেকে রক্ষা করতে পারছি না।