• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ২৪ জিলহজ ১৪৪০

সাভারে দিন দিন বাড়ছে বাণিজ্যিক গোলাপ বাগান

সংবাদ :
  • লোটন আচার্য্য, সাভার (ঢাকা)

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

image

সাভার (ঢাকা) : রক্তিম আভায় উজ্জ্বল গোলাপ বাগান -সংবাদ

ঋতুর রাণী বসন্তে সাভারজুড়ে লালের সমাহার। যে সে লাল নয়-ফুলের রাণী গোলাপের লালে লাল। সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে বাণিজ্যিক আবাদ হচ্ছে গোলাপের। এসব ফুল চাহিদা মেটাচ্ছে সাভারসহ রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে। বিরুলিয়া ইউনিয়নে গোলাপ চাষে সাড়া ফেলায় দর্শনাথী, ফুলের ক্রেতা, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের রয়েছে সরগরম। গোলাপ ফুলের গ্রাম বা রাজধানী নামেই বিগত বছরগুলোতে পরিচিতি মিলেছে এই অঞ্চল। সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর, আক্রাইন, সাদুল্ল্যাপুর, মৈস্তাপাড়া, বাগ্নীবাড়ি, সামাইর, কালিয়াকৈর, ভবানীপুর, রাজারবাগ, নয়াপাড়া, খাগান, কমলাপুরসহ সাভার উপজেলাধীন বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে গোলাপ ফুলের। রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিনিয়ত গোলাপসহ বেশ কিছু ফুলের চাহিদা মিটাচ্ছে এই অঞ্চলের চাষিরা। গোলাপ চাষিরা জানায়, সাভারে প্রায় তিন শ’ হেক্টর জমিতে শুধুমাত্র গোলাপের চাষ করা হয়। বেশ কয়েক বছর আগে গোলাপ চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় এতে স্থায়ীদের আগ্রহের সৃষ্টি হয়। এতে ঝুঁকেন ওই এলাকার স্থানীয় ও গ্রামের বেকার যুবকেরা। তবে গতবছরে গোলাপ বাগানে ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে চাষিদের হতে হয়েছে ক্ষতির সম্মুখীন। তবে এ বছরের আশানুরূপ ফলনে চাষিদের মুখে রয়েছে সুখের হাঁসি। গোলাপ চাষি আবু সাঈদ জানান, সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে মিরিন্ডা জাতের গোলাপ চাষের উপযোগী। উর্বর ও নিষ্কাশিত জমিতে গোলাপ চাষের জন্য অধিকতর লাভজনক বলে জানান তিনি। এবার বৃষ্টি পরিমাণ ঠিক থাকায় গোলাপ চাষের আবাদ ভালো হয়েছে। তবে এ সময় তিনি আরও জানান, সরকার সহজ শর্তে অন্যান্য চাষিদের ঋণ সুবিধা ও কীটনাশক জাতীয় সারের ব্যবস্থা থাকলেও গোলাপ চাষিদের এসব সুযোগ-সুবিধা নেই। তাই গোলাপ চাষিদের উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি সরকারের কাছে, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও বিভিন্ন সারের মূল্য হ্রাসের দাবি জানান। অপরদিকে ওই এলাকার বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক ও তরুণ গোলাপ চাষি আবুল খায়ের জানান, ভালোবাসা দিবস, পহেলা ফল্গুন ও একুশে ফেব্রুয়ারি জন্য ফুলের চাহিদা রয়েছে বেশি। বর্তমানে চাষিরা সারাদিন ফুল কাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। এ মৌসুমে চাষিরা গতবছরের তুলনায় অনেকটা ভালো দাম পাচ্ছে। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে ১০ দিনে গোলাপের চাহিদা বেশি থাকায় ও মূল্য ভালো পাওয়ায় চাষিদের মধ্যে রয়েছে যোগানের তুমুল আগ্রহ। তবে ফুলের দাম যাই হোক সন্ধ্যা হলেই বিরুলিয়া এলাকায় মৈস্তাপাড়া ও উত্তর-দক্ষিণ শ্যামপুররে জমে ওঠে গোলাপের হাট। কেনা-বেচায় সরগরমের রাতে কয়েক ঘণ্টায় রাজধানীসহ আশপাশের অঞ্চলের পাইকার ও খুচরা ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে পড়ে। শাহাবাগ এলাকার ফুল ব্যবসায়ী কবির জানান, ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন এবং একুশে ফেব্রুয়ারি মিলে ফুলের চাহিদা রয়েছে অনেক। চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে যোগান দিচ্ছে এই অঞ্চলের চাষিরা। এ সময় ফুলের দাম জানতে চাইলে তিনি জানান, ৩শ’ ফুলের দাম ১২শ’ থেকে ১৫শ’ টাকায় তারা ক্রয় করছেন। রাজধানীর বাজারে খুচরা বিক্রেতারা ২৫- ৪০ টাকা মূল্যে পিস বিক্রয়ে সম্ভব রয়েছে বলে জানান তিনি। অপরদিকে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে খুচরা ফুল বিক্রেতা ফরিদ জানান, বিয়ে বা অন্য কোনও অনুষ্ঠান ছাড়া সারাবছর ক্রেতার সাড়া নেই, অনেক ফুল বিক্রি না করতে পেরে নষ্ট হয়ে যায় তাই ফেলে দিতে হয়। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে ফুলের চাহিদা রয়েছে ও ক্রেতার সাড়া পাওয়া সম্ভবনা রয়েছে বলে জানান তিনি । সাভার উপজেলার কৃষি অফিসার মোহম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, নভেম্বর মাস থেকে এপ্রিল মাস পযর্ন্ত গোলাপের উত্তম ফলন পাওয়া যায়। এবার সাভার উপজেলায় গোলাপের আবাদ ভালো হয়েছে এবং কৃষকরা লাভেবান হবে বলে জানান তিনি ।