• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ মহররম ১৪৪২, ১২ আশ্বিন ১৪২৭

শ্রীমঙ্গল শহরে ফুটপাত উচ্ছেদের ৩ দিন পর ফের ব্যবসায়ীদের দখলে

সংবাদ :
  • অসীম পাল শ্যামল, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)

| ঢাকা , শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) : শহরে ফুটপাত দখল করে ব্যবসায়ীদের দোকান -সংবাদ

পর্যটন শহর শ্রীমঙ্গলের ফুটপাত অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের দুইদিন যেতে না যেতেই ফের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বসেছেন দোকানিরা। আর রাস্তার পাশ ফাঁকা থাকলে সারি সারি দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে মোটরবাইক, যানবাহন। আর এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে পথচারীদের চলাচল। একে তো নেই পথচারী চলাচলের রাস্তা, যাও আছে তা কোথাও মূলত রাস্তার পাশে থাকা ড্রেন, কোথাও একটু বড় পরিসরের জায়গা। জনগণের চলাফেরার রাস্তায় বাধা সৃষ্টিকারীদের কারণে ফুটপাত দিয়ে হাটতে না পেরে যানবাহনের পাশ দিয়ে মূল সড়ক ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা। এ অবস্থায় তিনদিন আগের পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযানকে লোকদেখানো ও আইওয়াশ আখ্যা দিচ্ছেন পথচারীরা।

কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সুষ্ঠু, সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা না থাকায় ঝটিকা অভিযান করে সাময়িক সময়ের জন্য ফাঁকা করে দেয়ার সংস্কৃতি থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারেনি এ প্রশাসন। প্রসঙ্গত, গত ১১ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গল থানাকে সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে দুটি সড়কে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে অভিযান করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

গত বৃহস্পতিবার শহর ঘুরে দেখা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি পৌরসভা কর্তৃক উচ্ছেদকৃত স্টেশন সড়ক থেকে হবিগঞ্জ সড়কের ফায়ার সার্ভিস অফিস সংলগ্ন ব্রিজ পর্যন্ত সড়কে আগের মতোই ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা ও বৈধ দোকানিরা তাদের মালামাল নিয়ে ফুটপাতগুলো দখল করে রেখেছেন, নিজের দোকানের সামনে সরকারি জায়গায় দেয়া অবৈধ দোকান বসিয়ে দিয়ে ভাড়া তুলে নিচ্ছেন অনেকে। শহরের মৌলভীবাজার সড়ক, কলেজ সড়ক, ভানুগাছ সড়কের ফুটপাতগুলো আগের মতোই রয়েছে অবৈধ দখলবাজদের দখলে। এসব অবৈধ দোকান থেকে পৌরসভার রশিদ বিহীন নীরব চাঁদাবাজিও অব্যাহত রয়েছে ঠিক আগের মতোই। উল্লেখ্য, স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাতকালে অবৈধ দখলবাজদের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করার পক্ষে নিজের আকাঙ্খা ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু, সংশ্লিষ্টরা এখনও রয়েছেন গভীর নিদ্রায়।

শহরের ব্যবসায়ী সারোয়ার জাহান জুয়েল বলেন, মেয়াদ উত্তীর্ণ পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলর আসীন থাকায় পৌরবাসীর জনভোগান্তিগুলো দিন দিন অসহনীয় পর্যায়ে চলে আসছে। মামলাধীন থাকায় অনির্দিষ্ট ও অসীম মেয়াদে থাকা এ জনপ্রতিনিধিদের কোন দায় নেই পৌরবাসীর কাছে। পৌরসভা লোক দেখানো অভিযান করেছে বিধায়ই উচ্ছেদ অভিযান করার পরেরদিনই আবার ফুটপাতগুলো দখল হয়ে যায়। আমরা চাই পৌরসভা শ্রীমঙ্গল শহরের সৌন্দর্য রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে টেকসই পদক্ষেপ পৌরসভা যেন নেয়।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম ইসলাম বলেন, আমরা উচ্ছেদ অভিযান করার পরও যদি কেউ আবার বসে থাকে বা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কেউ বসায় বা অবৈধ পাকির্ং থাকে তাহলে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ অনুসরণ করে তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করব এবং আমাদের মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে কাউকে কোন ছাড় দেয়া হবে না।