• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

শুঁটকি মৌসুমে বেড়েছে জলদস্যু ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরছেন জেলে

বাঁশখালীর উৎপাদিত শুঁটকি রফতানি হচ্ছে দেশ-বিদেশে

সংবাদ :
  • সৈকত আচার্য্য, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

| ঢাকা , শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯

image

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : রোদে শুকানো হচ্ছে শুঁটকি -সংবাদ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উৎপাদিত শুটকি রফতানি হচ্ছে দেশ-বিদেশে। বর্তমান শীত মৌসুমে এই উপজেলার উপকূলীয় জেলে পল্লীগুলোতে ধুম লেগেছে শুটকি শুকানোর কাজে। এখানকার উৎপাদিত শুটকি সুস্বাদু ও মজাদার হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেমন কদর বেড়েছে তেমনি রফতানি করা হচ্ছে দেশের বাইরেও। এই উপজেলার কয়েক সহস্র্রাধিক জেলেদের একমাত্র জীবন জীবিকার একমাত্র কর্মস্থল বঙ্গোপসাগর। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে মৎস্য আহরণ করতে যাওয়া জেলেরা প্রতিনিয়ত জলদস্যুদের তান্ডবের শিকার হয়ে আসছে। তারপরেও জীবনের তাগিদে থেমে নেই জেলেদের মৎস্য আহরণ।

জানা যায়, শীত মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে বঙ্গোপসাগরে তান্ডবকারী জলদস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত জেলে ও মাছবোঝাই ফিশিং বোট আটক করে বিকাশের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা অব্যাহত রাখায় বাঁশখালীর বোট মালিক সমিতির পক্ষ থেকে র‌্যাবসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে অনেক আবেদন নিবেদন করা হয়েছে। তারই ফলশ্রুতিতে ইতোমধ্যে বঙ্গোপসাগরে তান্ডবকারী কিছু জলদস্যু আটক এবং র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়। এরপর থেকে বাঁশখালীর জেলে ও বোট মালিকদের ওপর আরও বেশি চড়াও হয়ে উঠে জলদস্যুদের দল।

জলদস্যুরা প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে জানান, বঙ্গোপসাগরে মৎস্য আহরণকারী মায়ের দোয়া ফিশিং এর মালিক ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন কয়েকদিন থেকে জলদস্যুরা আমাকে বার বার হত্যার হুমকি দিচ্ছে যা আমি বোট মালিক সমিতির নেতাদের মাধ্যমে প্রশাসনকে জানিয়েছি। এদিকে জলদস্যুদের শত হুমকি ধমকির মাঝেও জীবনের তাগিদে সাগরে যেতে বাধ্য হচ্ছে জেলেরা। বর্তমানে একদিকে মাছ আহরণ এবং অপরদিকে শুটকি শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছে বাঁশখালীর জেলেরা।

অন্যান্য এলাকার জেলেরা ইউরিয়া সার, লবণ ও বিষাক্ত পাউডার মিশিয়ে কাঁচা মাছ শুকিয়ে শুটকি বানিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ওইসব শুটকি খেতেও তেমন স্বাদ নেই। কিন্তু বাঁশখালীর সমুদ্র উপকূলের জেলেরা কোন কিছু মিশ্রণ ছাড়াই রোদের তাপে মাছ শুকিয়ে শুটকি তৈরি করে থাকেন। তাই বাঁশখালীর শুটকি অতীব সুস্বাদু এবং মজাদার বলে জনশ্রুতি রয়েছে। বাঁশখালীর জেলে পল্লীগুলোতে হাজার হাজার মণ শুটকি ক্রয় করতে চট্টগ্রাম শহরের চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ ও চকবাজারের গুদাম মালিকরা দলে দলে হাজির হয়ে জেলেদের অগ্রিম টাকা দিয়ে যান। বাঁশখালীর শুটকির মধ্যে লইট্যা, ছুরি, রূপচান্দা, ফাইস্যা, মাইট্যা, কোরাল, রইস্যা, পোঁহা ও চিংড়ি শুটকি অন্যতম। এসব শুটকি এখন রফতানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, কাতার, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ওমান, কুয়েত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে। বাঁশখালীর শুটকি এসব দেশগুলোতে রফতানি করে কোটি কোটি টাকা আয় করছে খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই ও চকবাজারের বড় বড় গুদাম মালিকরা। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতেও যোগ হচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

সাগর থেকে জেলেদের আহরণকৃত মাছ আধুনিক পদ্ধতিতে শুকানোর কোন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর সাগর উপকূলে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ নষ্ট হয়ে যায়।

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা ও শুটকি শুকানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে শেখেরখীল ফিশিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি মো. এয়ার আলী বলেন, জলদস্যুরা প্রতিনিয়ত মৎস্য আহরণ করতে যাওয়া ফিশিং বোটগুলোতে তা-ব চালিয়ে জেলেদের অপহরণ, খুন ও গুম করে থাকে। তাছাড়া অপহরণকৃত জেলেদের মুক্তির জন্য বিপুল পরিমাণ মুক্তিপণও আদায় করে থাকে। তারপরেও নানা প্রতিকূলতার মাঝে এই এলাকার জেলেরা মৎস্য আহরণ করে যাচ্ছে জীবনের তাগিদে। জলদস্যুতা রোধে প্রশাসন কঠোর হলে জেলেরা নির্বিঘেœ মৎস্য আহরণ করতে পারবে। এজন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি।