• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ২৪ জিলহজ ১৪৪০

লাভে বাড়ছে পান আবাদ

সংবাদ :
  • কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

image

নওগাঁ উপজেলা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার উত্তরে জাগেশ্বর গ্রাম। এ গ্রামে প্রায় দেড়শ পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় এক শ’ পরিবারই পানের চাষ করে। অর্ধশত বছর ধরে এ গ্রামে পান চাষ হয়ে আসছে। পান চাষই এ গ্রামের পরিবারগুলোর উপার্জনের প্রধান উপায়।

গত শনিবার এ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামটির চারপাশে যে দিকে চোখ যায়, কেবলই পানের বরজ। কৃষকেরা পানের বরজে পরিচর্যা করছেন, বরজ থেকে পান সংগ্রহ করে বাড়ির উঠানে এনে স্তুপ করে রাখছেন। সেখানে পরিবারের সদস্যরা মিলে পান বাছাই করে আলাদা করে রাখছেন। গ্রামের পানচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামটিতে বর্তমানে ১২০টি পানের বরজ রয়েছে। গ্রামের প্রায় ৮৫টি পরিবার পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। উপজেলা কৃষি অফিসের উপজেলায় গেল বছর প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের জাগেশ্বর, জালম, জোকাকান্দর, আতিথা, বজরুক আতিথা, হরিরামপুর ও বর্ষাইল ইউনিয়নের কেশবপুর, চক আতিথা, বর্ষাইল, লক্ষ্মীপুর সহ ১৫-১৬টি গ্রামে পানের চাষ হয়ে থাকে। তবে কতটি পানের বরজ রয়েছে সেই হিসাব উপজেলা কৃষি অফিসের কাছে নেই। জাগেশ্বর গ্রামের পানচাষিরা জানান, বরজে পানের ফলন অনুযায়ী সপ্তাহে এক থেকে দুইবার করে তারা বরজ থেকে পান তোলেন। স্থানীয় কীর্ত্তিপুর, বর্ষাইল, বদলগাছী উপজেলা সদর ও নওগাঁ সদর হাট-বাজারের ক্রেতারা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা বরজে এসে পান কিনে নিয়ে যান। স্থানীয় বাজারে বড় আকারের এক বিড়া (৮০টি) পান বিক্রি হয় ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। মধ্যম আকারের এক বিড়া পান ৬০ থেকে ৮০ টাকায় আর ছোট পানের বিড়া ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। জাগেশ্বর গ্রামের পানচাষি চন্দন কুমার বলেন, ‘আমার দাদু স্বর্গীয় (মৃত) সুবোধ কুমার ৫০-৬০ বছর আগে সর্বপ্রথম এই এলাকায় পান চাষ শুরু করেন। এখন আমি পান চাষ করছি। বর্তমানে এক বিঘা জমির ওপর আমার তিনটি পানের বরজ রয়েছে। এ বছর তিনটি বরজে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। পান বিক্রি হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকার। এবার পানের দামও ভালো রয়েছে। পান চাষের টাকায় আমার ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া ও সংসারের যাবতীয় খরচ চলে।’ কীর্ত্তিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের ছয়-সাতটি গ্রামের প্রায় তিনশটি পরিবার পান চাষ করে থাকে। পানের বরজ রয়েছে চার শতাধিক। এ বছর বরজগুলোতে পানের ফলন হয়েছে ভালো। বাজারে পানের দাম ভালো থাকায় কৃষকেরাও বেশ খুশি। নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মফিদুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, উপজেলায় দিন দিন পান চাষ বাড়ছে। অন্যান্য ফসল আবাদের তুলনায় পান চাষ বেশ লাভজনক। তাই কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করে থাকি।