• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৩ সফর ১৪৪২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

ইটভাটায় বিবর্ণ বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরে ফসলি জমিতে ভাটা হুমকিতে ফসল-জনস্বাস্থ্য

সংবাদ :
  • মাসুদুর রহমান খান, লক্ষ্মীপুর

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ জানুয়ারী ২০১৯

image

লক্ষ্মীপুর : ফসলি জমির পাশে গড়ে ওঠা ইটভাটা -সংবাদ

লক্ষ্মীপুর জেলায় গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি অবৈধভাবে ইটভাটা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে কৃষি জমির মাটি কেটে তৈরি করা হচ্ছে এসব ইট। অবৈধভাবে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ফলে দিন দিন পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হচ্ছে। বসতবাড়ি ও ইউনিয়ন পরিষদের কাছাকাছি ইটভাটা নির্মাণের স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ছে। বেশিরভাগ ইটভাটায় কাজ করছে কয়েকশ শিশু শ্রমিক। সাধারণ শ্রমিকের চার থেকে পাঁচ ভাগ কম মজুরি দেয়া হচ্ছে তাদের। ফলে দিন দিন বাড়ছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা। জানা যায়, এসব ইটভাটার বেশিরভাগেরই নেই পরিবেশ ছাড়পত্র। নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা থেকে ৩ কিলোমিটার, সরকার স্বীকৃত সংরক্ষিত, জনবসতিপূর্ন ও আবাসিক এলাকা, স্কুল কলেজ, কৃষি জমি, বনাঞ্চল এবং ৫০টির অধিক ফলের গাছ থাকলে সেখানে ইটভাটা স্থাপন করা যায় না। কিন্তু এসব নিয়ম কানুন না মেনেই ইটভাটার মালিকরা কৃষি জমিতে প্রতি বছর নতুন নতুন ইটভাটা তৈরি করছে। লক্ষ্মীপুর সদর, চন্দগঞ্জ থানাসহ রামগঞ্জ, রায়পুর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে শতাধিক ইটভাটা। পরিবেশ রক্ষায় সনাতনী পদ্ধতির পরিবর্তে জিগজ্যাগ পদ্ধতিতে ভাটা নির্মাণের জন্য নির্দেশনা থাকলেও ইটভাটা কর্তৃপক্ষ নানান অজুহাতে তা করছে না। ইট পোড়ান চলছে ২০ ফুটের চিমনি দিয়ে।। ভাটাগুলোর পাশে রয়েছে ধানক্ষেত। আর ১০০ থেকে ১৫০ গজের মধ্যে রয়েছে জনবসতি। টিনের ড্রাম চিমনি দিয়ে কাঠ পোড়ানোর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে লোকালয়ে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী, আবাসিক এলাকা ও কৃষি জমির এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই ঘনবসতি এলাকাগুলোতে পরিবেশ দূষণ করে গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা। প্রশাসনের চোখের সামনেই নিয়ম উপেক্ষা করে শিশু শিক্ষার্থীদের খাটাচ্ছেন শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য শ্রমিকের চেয়ে শিশু শ্রমিকের মজুরি কম হওয়ায় প্রতিটি ইটভাটায় তাদের দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আদালতে ভুয়া নথি দিয়ে ও আইন অমান্য করে লক্ষ্মীপুর জেলায় গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি ইটভাটা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করছে।

নোয়াখালী পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল মালেক বলেন, হওয়া ইটভাটা বলে রিটের রায় নিজেদের পক্ষে নিতে পরিবেশ অধিদফতর নকল স্বাক্ষরের নথি আদালতে জমা দিয়েছে ইট ভাটার মালিকরা। এমন কিছু নথি তাদের হাতে পৌঁছেছে। গত কয়েকদিন ধরে সদর উপজেলার দিঘলী, মান্দারী, জকসিন, বাংগাখাঁ, ভবানীগঞ্জ, তেওয়ারীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানের ইটভাটা পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন তিনি। ২০ ফুটের চিমনি দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ইটভাটার মালিকরা। কিন্তু আদালতে হওয়ায় ইটভাটা বলে ভুয়া নথি দিয়ে একটি রিট করা হয়। এ বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত শেষ করে আদালতে একটি প্রতিবেদন দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবৈধভাবে গড়ে উঠা এসব ইটভাটা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, ইট ভাটায় শিশু শ্রমিক ও অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। অবৈধ কোনো ইটভাটা চলতে দেয়া হবে না।