• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মহররম ১৪৪১

যুগের পরিবর্তনে আরামদায়ক কুড়েঘর বিলুপ্তির পথে

সংবাদ :
  • মো. শাহ্ আলম, হবিগঞ্জ

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

হবিগঞ্জ : মাটির তৈরি ঐতিহ্যবাহী কুড়ঘর -সংবাদ

হবিগঞ্জ থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার চির ঐতিহ্যের নিদর্শন মাটির তৈরি কুড়েঘর। যা এক সময় ছিল গ্রামের মানুষের কাছে গরিবের এসি বাড়ি নামে পরিচিত। কিন্তু কালের আর্বতে আজ হারিয়ে যাচ্ছে এসব মাটির বাড়ি। আগে প্রতিটি গ্রামে নজরে পড়ত মাটির ঘর। ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাঁচার পাশাপাশি প্রচুর গরম ও শীতে বসবাস উপযোগী মাটির তৈরি এসব ঘর এখন আর তেমন একটা নজরে পড়ে না। আধুনিকতার ছোঁয়ায় আর সময়ের পরিবর্তনে গ্রাম বাংলা থেকে ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি বাড়ি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। অতি প্রাচীনকাল থেকেই মাটির বাড়ির প্রচলন ছিল। গ্রামের মানুষের কাছে এ বাড়ি ঐতিহ্যের প্রতীক। গ্রামের বিত্তবানরা এক সময় অনেক অর্থ ব্যয় করে মাটির দ্বিতল মজবুতবাড়ি তৈরি করতেন যা এখনও কিছু কিছু গ্রামে চোখে পড়ে। এঁটেল বা আঠাল মাটি কাঁদায় পরিণত করে ২-৩ ফুট চওড়া করে দেয়াল বা ব্যাট তৈরি করা হয়। ১০-১৫ ফুট উঁচু দেয়ালে কাঠ বা বাঁশের সিলিং তৈরি করে তার ওপর খড় বা টিনের ছাউনি দেয়া হয়। মাটির বাড়ি অনেক সময় দোতলা পর্যন্ত করা হতো। সব ঘর বড় মাপের হয় না। গৃহিণীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাটির দেয়ালে বিভিন্ন রকমের আল্পনা এঁকে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বর্ষা মৌসুমে মাটির ঘরের ক্ষতি হয় বলে বর্তমান সময়ে দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে গ্রামের মানুষরা ইট-সিমেন্টের বাড়ি নির্মাণে আগ্রহী হচ্ছেন। উপজেলার পইল, লস্করপুর, জেলার চুনারুঘাট, মাধবপুর সহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় ঘুরে দেখা গেছে, চা বাগান গুলোতেকে শুরু করে গাম গঙ্গে এখনও মাটির তৈরি কুড়েঘর রয়েছে। অনেক ইটের তৈরি দালানঘর তৈরি করছে। পইল গ্রামের বাসিন্দা তোরাব আলী ও চুনারুঘাট উপজেলার লস্কলপুর চা বাগানের কার্তিক শেমা জানান, মাটির তৈরি বাড়ি পেয়েছেন পৈত্রিকভাবে। তাদের পূর্ব-পুরুষরাও এই মাটির তৈরি বাড়িতেই জীবন কাটিয়ে গেছেন। তাই এখনও তারা এই বাড়িগুলো ভাঙেনি। তবে মাটির বাড়ি বসবাসের জন্য আরামদায়ক হলেও যুগের পরিবর্তনে আধুনিকতার সময় অধিকাংশ মানুষ মাটির বাড়ি ভেঙ্গে অধিক নিরাপত্তা ও স্বল্প জায়গায় দীর্ঘস্থায়ীভাবে অনেক লোকের নিবাস কল্পে গ্রামের মানুষরা ইটের বাড়ি-ঘর তৈরি করছেন বলে অনেকের ধারণা।