• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবন ১৪২৫, ১৪ জিলকদ ১৪৪০

মুজিবনগর দিবস ঘিরে মেহেরপুরে ব্যাপক প্রস্তুতি

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, মেহেরপুর

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

image

মেহেরপুর : প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের শপথস্থলে নির্মিত স্মৃতিসৌধ -সংবাদ

রাত পোহালেই মুজিবনগর দিবস। দিবসটি উদযাপনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে মেহেরপুর। ওইদিন মুজিবনগরের বিশাল আমবাগানের শেখ হাসিনা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে জনসভা। জনসভাকে ঘিরে চলছে সকল প্রস্তুতি।

জেলা প্রশাসক আতাউল গনি বলেন গত সপ্তাহে মুজিবনগর দিবস উদযাপন স্টিয়ারিং কমিটির সভা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে এই ঐতিহাসিক ১৭ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালনের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

১৭ এপ্রিল যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি চলছে। আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমু এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হোসেন ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। মুক্তিয্দ্ধু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে।

উল্লেখ্য যে, তখনকার বৈদ্যনাথতলা পরবর্তীতে মুজিবনগর নামে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১ সালে ১৭ এপ্রিল এখানে শপথ গ্রহণ করে। সেই শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছিল বেলা ১১ ঘটিকার দিকে। সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্র প্রধান করা হয় এবং একদল আনসার প্লাটুন কমান্ডার ইয়াদ আলীর নেতৃত্বে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

যদিও প্রথমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তখনকার চুয়াডাঙ্গা মহাকুমা বর্তমানের প্রতিবেশী জেলা হবে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী কিন্তু ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনা কর্তৃক নির্বিচারে চুয়াডাঙ্গার ওপর বোমাবাজী করার পর ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

বৈদ্যনাথতলার আম্র্রকাননের ছায়ায় শপথ নেয়ার পর প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী ঘোষণা করে এখান থেকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রিপোর্টার এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদরা। সেখানে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নামে একটি বেতার কেন্দ্র স্থাপন করে এসব বিষয় সম্প্রচার করা হয়।

যদিও পাকিস্তানী সেনারা মেহেরপুরকে দখল করেছিল কিন্তু যেতে পারেনি বৈদ্যনাথতলায় যা তদানীন্তন মেহেরপুর মহাকুমার বাগোয়ান ইউনিয়নের দূরবর্তী একটি গ্রাম। পরবর্তীতে বৈদ্যনাথতলার নাম রাখা হয় মুজিবনগর এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সবটুকু সময় এই জায়গাটি ছিল নির্বিঘœ। ব্রিটিশ রাজত্বের সময় এই জায়গার সঙ্গে ভারতের কলকাতার সঙ্গে ছিল সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। মুজিবনগর সরকার সে সময় প্রতিষ্ঠা করে ছয়টি জোনাল কাউন্সিল যা জনগণের সমস্যার দেখভাল করে এবং স্বাধীনতার প্রেরণা জোগায় এবং জাতির ভাবমূর্তি তুলে ধরে বিভিন্নভাবে।