• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫, ৫ সফর ১৪৪০

মহতী উদ্যোগ

মুক্তিযোদ্ধাদের নামে ১৪০ জনপদ

সংবাদ :
  • সংবাদদাতা, দুপচঁচিয়া (বগুড়া)

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

image

ভাষার মাস জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে ৫২ এর ভাষা সৈনিক ও ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। বগুড়ার দুপচাচিয়ার জনপদের মানুষের নিকট এই শ্রদ্ধাবোধ যেন আরও একমাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে উপজেলার ১৪০টি সড়কের নামকরণ। দুপচাঁচিয়ার বর্তমান ইউএনও শাদে পারভেজের উদ্যোগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সমাজসেবীদের আর্থিক সহযোগিতায় প্রতিটি এলাকার সড়ক স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ হয়েছে এবং স্থাপন করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলক, যা দেখে মনে হচ্ছে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা যেমন স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছিল এখনও তারা রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে জাতিকে দিক নির্দেশনা দিচ্ছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম জানতে পারছে তাদের নিজ এলাকার স্বাধীনতার সূর্য্য সৈনিকদের। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে খোদ মুক্তিযোদ্ধাসহ উপজেলার দেশপ্রেমী মানুষ।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৪০ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম হাল নাগাদ করা হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ১৪০ রাস্তার নামকরণ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করে নামফলক স্থাপন করা হয়েছে। সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ জানান, আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল তা বাস্তবায়িত হয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়ক নামকরণ করা উচিত। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধাদের যাতে চিনতে পারে এবং এর ফলে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হবে। পূর্ব আলোহালী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা বেলাল হোসেন জানান মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাই এবার নিজের নামে নিজ এলাকার রাস্তার নামকরণ দেখে বুকটা ভরে গেছে, কৃতজ্ঞ জাতির ভালোবাসায়।

ইউএনও শাহেদ পারভেজ এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সূর্য্য সন্তান। তাদের ত্যাগে আমরা একটি স্বাধীন সাবভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি। আমরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছি। তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন তাদের চিনতে পারে এবং এই চেতনা থেকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাথে আলোচনা করে প্রতিটি রাস্তায় মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলক বসানোর চিন্তা করা হয়। জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার সমাজসেবীদের নিকট থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। কোন রাস্তার নাম কি হবে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করা হয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসাবে এটা আমার সরকারি ও নৈতিক দায়িত্ব।

সদরের শহরতলার একটি রাস্তা মুক্তিযোদ্ধা অধির চন্দ্র চক্রবর্তী (দুলাল) এর নামে করা হয়েছে। তার নাতনি দুপচাঁচিয়া মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী তন্নী চক্রবর্তী জানান, দাদার নামের রাস্তায় নাম ফলকের পার্শ্বে দিয়ে যখন হেঁটে যাই খুব গর্ব অনুভব করি। সহপাঠীরা বলে তুই সৌভাগ্যবান। বেড়াগ্রামÑ কামারু রাস্তাটির নাম ফলক ছোট নিলহালী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত মোজাহার আলীর নামে করা হয়েছে। তার ছেলে আকবর আলী জানান বাবার নামে রাস্তার নাম করণ করা হয়েছে খুব খুশি হয়েছি, এটা মাকে জানিয়েছি মা আফসোস করে বললেন, তোর বাবা বেঁচে থাকলে খুব আনন্দিত হতো। উপজেলা আ’লীগের সেক্রেটারি আলহাজ ফজলুল হক জানান বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এখন ক্ষমতায়। এই উদ্যোগ সরকারের ভাবমূর্তিকে আরও উন্নত করছে ইউএনও’র এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। উপজেলার শহীদ এম.মুনছুর আলী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এম জেড ফেরদৌসী বেগম জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান আরও বৃদ্ধি করেছে। স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা যখন রাস্তা দিয়ে যাবে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ফলক দেখে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ প্রেমে নিজেকে নিয়োজিত করবে।