• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২২ জিলহজ ১৪৪০

মঙ্গলযাত্রায় দানবের আস্ফালন উপেক্ষা

নবানন্দে নববর্ষ উদযাপন

সংবাদ :
  • সংবাদ জাতীয় ডেস্ক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

image

মঙ্গল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, বৈশাখি মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে গত রোববার উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ ১৪২৬। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত-

পাকুন্দিয়া

সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ষবরণ মঙ্গল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী পোষাকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাতে অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রাটি পৌর সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মিলিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোকলেছুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাফিজুর রহমান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামছুন্নাহার আপেল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জমির মোহাম্মদ হাসিবুস ছাত্তার, জেলা পরিষদের সদস্য হাদিউল ইসলাম হাদি, সুখিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ টিটু, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন প্রমুখ।

শ্রীবরদী

‘মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা অগ্নি স্নœানে শুচি হোক ধরা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শেরপুরের শ্রীবরদীতে সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পান্তা ভাত পরিবেশন শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শেরপুর-৩ আসনের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এ.কে.এম ফজলুল হক চান ও ইউএনও সেঁজুতি ধরের নেতেৃত্ব মঙ্গল শোভাযাত্রায় উপজেলার সকল দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় সঙ্গীত শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। এছাড়াও বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়।

পটিয়া

পটিয়া সদরের কর্তফুলি কমিউনিটি সেন্টার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সকাল ৯টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, চট্টগ্রামের বিশিষ্ট লোকসঙ্গীত শিল্পী, সুরকার ও গীতিকার সনজিত আচার্য্য। এসময় উপস্থিত ছিলেন, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সংগঠক সেলিম উদ্দিন, মাস্টার সমর বিশ^াস, সৃজনশীল সাহিত্য গোষ্ঠী মালঞ্চের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম, সংগীত শিক্ষক পুলক ভট্টাচার্য, শিল্পী দীপক শীল ও কবি ও ব্যাংকার আবদুর রহমান রুবেল। বাংলা নব বর্ষকে বরণ করতে লোক গান, কবিতা, নৃত্য, ঢোলের তালে তালে নাচে নাচে গানে গানে বরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার বিভিন্ন বয়সের শতশত নারী পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পটিয়া আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সম্মিলত বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদ, উপজেলা মনসা শিরিষ তলায় পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ছে।

দশমিনা

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচি পালন করে। এই সব কর্মসূচির মধ্যে ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা, লোকজ উৎসব, বৈশাখী মেলা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সকাল ৯টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিষদের চত্বর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভ্রা দাসের নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও বিনোদন স্পটগুলোতে নারী-পুরুষ এবং তরুণ-তরুণীদের মিলন মেলা ছিল। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিকেলে স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

বদলগাছী

নওগাঁর বদলগাছীতে বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে বদলগাছী উপজেলা প্রশাসন ও বদলগাছী শিল্পকলা আকাডেমি, বৈশাখী সাংস্কৃতি গোষ্ঠি, বদলগাছী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, বণিক সমিতি, কৃষক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আদিবাসীসহ নতুন বাংলা ১৪২৬ সালকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করেন। কর্মসূচীর মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল ৯টায় উপজেলা প্রশাসন চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রাতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরু গাড়ি, পালকী, হুকা, লাঙ্গল, জেলে, বর-বধূসহ বিভিন্ন সাজে সেজেছিল বদলগাছীর জন সাধারণ। আর এই মঙ্গল শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বদলগাছী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

মোরেলগঞ্জ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে নানা আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ষবরণ। বেলা সাড়ে ৮টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পৌর এলাকায় বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অফিসার্স ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. শাহ্-ই-আলম বাচ্চু ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক মোজাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা খানম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল হান্নান, পল্লী দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা মৃলেশ কান্তি মজুমদার ও চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী। আলোচনা শেষে উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে সর্বসাধারণের জন্য পান্তা ভাত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রামীণ মেলা ও বিভিন্ন ধরণের গ্রামীন খেলা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এদিকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিবসটি উপলক্ষে নানা আয়োজনে পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করেন। বিকেল ৪টায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড উপজেলা আ.লীগ ও পৌর আ.লীগের উদ্যোগে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পানগুছি নদীতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আ.লীগ সহসভাপতি মো. লিয়াকত আলী খান, উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. শাহ্-ই-আলম বাচ্চু, ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক মোজাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা খানম ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড্রা তৈয়েবুর রহমান সেলিম। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় বারইখালী ইউনিয়নের ভরাঘাটা এলাকার মনোহার খার দল প্রথম স্থান অধিকার করেন। ২য় হয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান আউয়াল খান মহারাজের চৌধুরী কাচারীর দল।

মধুখালী

মধুখালীতে বর্ষবরণ ও পহেলা বৈশাখ উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন, নববর্ষ উদযাপন ও বৈশাখী মেলা কমিটির আয়োজনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতি সংগঠন ও মধুখালী উপজেলা প্রশাসন ও আপামর জনতা ঢাক-ঢোল, গরুরগাড়ী, ঘোড়ায় চরে, মুক্তিযোদ্ধা, গায়েরবধূসহ বিভিন্ন সাজ-সজ্জায় সজ্জিত হয়ে এক মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। ১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা প্রাঙ্গণে মেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মির্জা মনিরুজ্জামান বাচ্চুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোস্তফা মনোয়ার। অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সরকারি আইনউদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. নাজমুল হক, ফরিদপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আকমল হোসেন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল হক বকু, মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম আবুল, সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

নন্দীগ্রাম

বগুড়ার নন্দীগ্রামে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও আনন্দ উচ্ছাসের মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে সার্বজনীন উৎসব ‘পহেলা বৈশাখ’। ভোরে সুর্যোদয়ে সঙ্গে সঙ্গে নন্দীগ্রাম পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী ও নানা শ্রেণী পেশার মানুষদের নতুন সাজে দেখা যায়। উপজেলা পরিষদ চত্বরে নবীন-প্রবীণ নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সরব উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে এ প্রাণের উল্লাস। সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আখতার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ্, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মন্ডল, নন্দীগ্রাম পৌরসভার মেয়র কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল চন্দ্র মহন্ত, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান একে আজাদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শ্রাবণী আকতার বানু, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জান্নাতুল ফেরদৌস লিপি, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার মশিদুল হক, উপজেলা নির্বাচন অফিসার আশরাফ হোসেন, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিন, আবুল কালাম আজাদ, আবদুল বারী বারেক প্রমূখ।

ঝিনাইদহ

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঝিনাইদহে হয়ে গেলো গ্রামীণ ঐতিহ্য লাঠি খেলা। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনী। ঢাকঢোল আর বাঁশির তালে আনন্দে-উলাসে মেতে ওঠেন সবাই। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সের মানুষ রঙ-বেরঙের পোশাক পরে মাঠে আসেন লাঠি খেলতে। বাদ্যের তালে চলে লাঠি খেলা। প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে নিজেরে রক্ষা করা আর অপরকে ঘায়েল করার চেষ্টায় মেতে থাকেন লাঠিয়ালরা। প্রদর্শণ করা হয় লাঠি নিয়ে নানা কলা-কৌশল।

কুমারখালি

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে কুমারখালিতে পালিত হয়েছে বাঙালির উৎসব বাংলা বর্ষ বরণ পহেলা বৈশাখ। সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বনার্ঢ্য মঙ্গল শোভা যাত্রা শহর প্রদিক্ষন করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন তরুণ অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। মঙ্গল শোভা যাত্রায় উপস্থিত ছিলেন, সাংসদ ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জ। এ সময় আরো অংশগ্রহণ করে উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, পৌর পরিষদ, স্কুল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা পরিষদ, ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠান, সামাজিক , সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় পান্তা উৎসব ও সংগিতানুষ্ঠান। সংগিত পরিবেশন করে একুশে সাংস্কৃতিক সংগঠন , শীলন সাংস্কৃতিক সংগঠন, সঙ্গীত বিদ্যালয় এবং শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীবৃন্দ।

সোনারগাঁ

পূঁজা অর্চণা, মঙ্গল শোভাযাত্রা, নৌকাবিলাস, গ্রামীণ মেলা ও নাচ-গানসহ আনন্দদায়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা নতুন বছর ১৪২৬ কে বরণ করেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁবাসী। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বাঙালির ঐতিহ্য ও লোক-সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা ও বর্ষবরণ উৎসব। বিগত সময়ের সকল গ্লানি মুছে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে সোনারগাঁ উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা করা হয়েছে। সকালে উপজেলা কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা সংলগ্ন ভট্টপুর বটগাছ তলায় গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেন স্থানীয় সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার, সোনারগাঁ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি মেহের নিগার সোনিয়া প্রমুখ। এছাড়াও বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাঙালির ঐতিহ্য ও লোক-সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে বর্ষবরণ উৎসবের পাশাপাশি আয়োজন করেছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার। বৈশাখী মেলা ও বর্ষবরণ উৎসবের অনুষ্ঠানে ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা ও ঝিলের জলে নৌকাবিলাসে বাউল লোকগানের পরিবেশনা। সেখানে হয় দিনব্যাপী জারিগান, পুঁথিপাঠ, লোকগান ও নৃত্যানুষ্ঠান। অপরদিকে নতুন বছরের আগমন উপলক্ষে ভট্টপুর এলাকার ঐতিহ্যবাহী বটতলায় বসেছে ৫ দিনব্যাপী ‘বউ মেলা’।

কক্সবাজার

নতুন বছরে পুরাতন গ্লানি, দুঃখ কষ্ট ভুলে নতুন আশা নিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ বরণ করলো পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার। এ উপলক্ষে সকালে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা, শহীদ দৌলত ময়দানে বৈশাখী মেলা, সাপের খেলা, মোরগ লড়াই, হিল ডাউন সার্কিট হাউসে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা”...কবির এ ছন্দ নিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের বর্ণাঢ্য কর্মসূচিতে প্রাণের আনন্দে উপচে পড়া অংশগ্রহণ ছিল সকলের। পালিত কর্মসূচি মধ্যে শুরুতেই ছিল বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে সকালে অনুষ্ঠানমালার শুভ সূচনা। বৈশাখী মেলার স্টলে এক শ’ পদের বৈশাখী গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খাদ্য দিয়ে সাজানো স্টল নজর কেড়েছে সবার। ইলিশ মাছবিহীন এ খাদ্য তৈরি করায় সকলে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস.এম সরওয়ার কামাল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাজাহান আলি, সালাহ উদ্দিন আহমেদ সিআইপি, সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ, আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের চৌধুরীসহ অনেকেই।

ফরিদপুর

নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার উৎবসে মেতেছিল পুরো ফরিদপুর জেলা। প্রতিবছরের ন্যায় বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিয়েছে সোনালী ব্যাংক অফিসার’স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন। বর্ষবরণ উপলক্ষে সকালে সোনালী ব্যাংক এর সামনে থেকে বর্নাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্যাংকে এসে শেষ হয়। পরে সোনালী ব্যাংক এর হল রুমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সোনালী ব্যাংক এর ডিজিএম নীরেন্দ নাথ দাস, সোনালী ব্যাংক অফিসার’স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন লিন্টু, সাধারণ সম্পাদক শরীফ মঞ্জুরুল হক, মনোজ কুমার সাহা, মার প্রসাদ দাস, মো. ইশতাকুর রহমান, নাজমুল হাসান। এছাড়াও শহরের আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নানা অনুষ্ঠানের মধ্যেদিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহা. জয়নুল আবেদীন। আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় বর্ষ বরণ অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ও শিক্ষক ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।

চাটখিল

চাটখিল উপজেলায় বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ খেলাধুলার আয়োজন করা হয়েছে। সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চাটখিল পৌর শহরে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবনের সামনে কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, নোয়াখালী-১ (চাটখিল- সোনাইমুড়ি) আসনের এমপি এইচ এম ইব্রাহিম। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. দিদারুল আলম, চাটখিল থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম, চাটখিল প্রেসক্লাব সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক মো.হাবিবুর রহমান, সাংবাদিক গুলজার হোসেন সৈকত, আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন জাহাঙ্গীর, মিজানুর রহমান বাবর ও সাবেক ভিপি নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।

কেরানীগঞ্জ

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কেরানীগঞ্জে পালিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ। নববর্ষ উপলক্ষে সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চত্বরে পান্তা খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করে উপজেলা পরিষদ। এ সময় কেরানীগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির নিয়মিত শিল্পীদের সঙ্গে নাচ-গান পরিবেশন করেন স্থানীয় বরেণ্য শিল্পীরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি শাহে এলিদ মাইনুল আমিন এর সভাপতিত্বে ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ বৈশাখী আয়োজনে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার(ভূমি) রঞ্জন ঘটক, উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও শুভাঢ্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। মঙ্গল সোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম হোসেন সোহেল। এরপর বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নাচ ও গান পরিবেশন করে নতুন বছরকে বরন করে নেয়।

কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন উৎসবমুখর আয়োজনের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে। সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী ও পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদের নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজনৈতকি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে জেলা প্রশাসনের একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা পুরাতন স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয়ে সারা শহর প্রদক্ষিণ করে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে উদ্বোধন করা হয় গ্রামীণ মেলা। মেলায় দই-চিড়া উৎসাবেরও আয়োজন করা হয়। এছাড়া বরাবরের মতো এবারো পুরাতন স্টেডিয়াম থেকে পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ, ক্রীড়া সংগঠক সাইদুল হক শেখর, আবৃত্তি শিল্পী ম.ম জুয়েল প্রমুখের নেতৃত্বে সবচেয়ে বর্ণাঢ্য ও বিশাল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করে ‘আমাদের কিশোরগঞ্জ’ সংগঠন। বিভিন্ন প্রাণীর মুখোশ ও ক্রাউন পরে, বিশালাকৃতির পুতুল, ঘোড়া আর পায়রার মাসকাঁ নিয়ে শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সের নারী-পুরুষ নেচে-গেয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। পরে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যার বিচার দাবিতে শহরে মানববন্ধনও করে। সংগঠনটি পুরাতন স্টেডিয়ামে সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করে। এতে রকমারি স্টলসহ মিনি রেলট্রেন ও নাগরদোলা স্থাপন করা হয়। বাউল গান, লোক সঙ্গীত ও নৃত্যসহ প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

নান্দাইল

নান্দাইল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে এক মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রায় নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কামরুল ইসলাম মিঞা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা আক্তার, নান্দাইল আসনের সাংসদ আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিনের মা সাবেক সাংসদ মিসেস জাহানারা খানম, সহধর্মীনী জেবেকা নাঈয়ার তৃণা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন সহ বিভিন্ন দফতর প্রধান কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উক্ত মঙ্গল শোভাযাত্রায় স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী সহ বিভিন্ন পেশাজীবীর মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মঙ্গল শোভাযাত্রাটি নান্দাইল উপজেলা সদরের বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নান্দাইল চন্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসে শেষ হয়। উক্ত মাঠে নববর্ষ উদযাপন লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রায় অর্ধশতাধিক বৈশাখী স্টল রয়েছে। এতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও সহ রাজনৈতিক ব্যাক্তিরা স্টল বরাদ্দে অংশ নেন। বাংলা নববর্ষ উৎসবকে ঘিরে পান্তা ইলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভর্তা দিয়ে পান্তা সহ নানারকম মূখরোচক মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিবেশন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী

ঈশ্বরদীতে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের আয়োজন অনাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোক শুভবোধ আহ্বান নিয়ে সাজানো হয় দিনব্যাপী আয়োজন। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঈশ্বরদীতে বর্নিল-বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ থেকে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ও বর্ষবরন উদযাপন পর্ষদের উদ্যোগে বিশাল বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিপ শেষে ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

আগৈলঝাড়া

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কাবাডি ও প্রীতি ফুটবল খেলার মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নতুন বর্ষকে বরণ করা হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে সকালে বিভিন্ন রঙ-বেরঙয়ের ফেস্টুন, ব্যানারসহ ঢাক-ঢোল নিয়ে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সরকারি শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত ডিগ্রী কলেজের তমাল তলায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বাঙালি সংস্কৃতির বিভিন্ন ঐতিহ্য উপস্থাপন করা হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস, উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোতুজা খাঁন, নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রইচ সেরনিয়াবাত, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুনীল কুমার বাড়ৈ, সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন সেরনিয়াবাত, ভাইস চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন সরদার, মলিনা রানী রায়, মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী হাওলাদার, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল হক তালুকদার, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা সুশান্ত বালা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দিপীকা রানী সেন, ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি, ইলিয়াস তালুকদার, বিপুল দাস, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি সাইদুল সরদার, সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ ম-ল, উপজেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজল দাশগুপ্ত, উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জাকির পাইক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, স্কুল কলেজর শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে উপজেলা সদরের শ্রীমতি মাতৃমঙ্গল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সরকারি গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আগৈলঝাড়া ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমির শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

সিংগাইর

সিংগাইরে বর্ষবরণে ধলেশ্বরীতে ছিল লোকে লোকারণ্য। ধলেশ্বরী নদীর উপর নির্মিত ভাষা শহীদ রফিক সেতু ও পার্শ্ববর্তী এলাকা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকজনের ভিড়ও বাড়তে থাকে। বিকেলে লোকজনের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন বয়সের মানুষ পরিবহন ও পায়ে হেঁটে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। এছাড়া দিনটিকে স্বাগত জানাতে উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বাংলার চিরাচরিত সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে।

বেগমগঞ্জ

পহেলা বৈশাখ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে বাংলা নতুন বছর উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রা, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। সকালে চৌমুহনী মদন মোহন হাই স্কুল প্রাঙ্গন থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। এ সময় বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক বাদশা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তফা জাবেদ কায়সার, বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনসার্জ(ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্লা, আওয়ামী লীগ নেতা বিনয় কিশোর রায়, তপন চন্দ্র মজুমদার সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্দ্যেগে বিভিন্ন অনুষ্ঠান মালার মধ্যদিয়ে উপজেলার সর্বত্র বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়।

চৌহালী

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে সুবিধা বঞ্চিত অসহায় মানুষের সম্মানে আয়োজন করা হয়েছিল পৃথিবীর বৃহৎ সন্দেশ। দেশের প্রথম টেরিস্টেরিয়াল টিভি চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের ২০ বছর পদার্পন ও বাংলা নববর্ষ বরণে তৈরী করা হয়েছিল ৫০ কেজি ওজনের সন্দেশ। দুপুরে এনায়েতপুর ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয় চত্তরে সমাজের সুবিধা বঞ্চিতদের নিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই সন্দেশ কাঁটা হয়। বৃহৎ সন্দেশের সঙ্গে ইতিহাসের সাক্ষী হতে ঢাকা, বগুড়া, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত সহ বিদেশ হতেও উৎসাহী মানুষ অংশ নেয়। আপ্পায়ন করা হয় দেড় হাজার মানুষকে। এবার বাংলা নববর্ষ উদযাপন এবং দেশের প্রথম টেরিস্টেরিয়াল টেলিভিশন একুশে টিভির ২০ বছরে পদার্পন উপলক্ষে পৃথিবীর বৃহৎ সন্দেশের আয়োজন করা হয়েছিল। ৪ ফুট লম্বা, ৩ ফুট প্রস্থ ও সাড়ে ৩ ইঞ্চি উচ্চতার সন্দেশটি দেখতে ১ দিন আগে থেকেই উৎসুক জনতা ভিড় করে। চ্যানেলটির সেবা সংগঠন একুশে ফোরামের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শুরুতে ৫০ কেজি ওজনের কাক্সিক্ষত এই ছানার সন্দেশটি কাঁটা হয়।

শাহজাদপুর

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে শাহজাদপুরে বাংলা নববর্ষকে বরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকারি কলেজ মাঠে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল ৭টায় সরকারি কলেজ মাঠে নির্মিত বিশাল প্যান্ডেলে পান্তাভাত খাওয়ার মধ্যে দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৯টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে স্থানীয় এমপি হাসিবুর রহমান স্বপনের নেতৃত্বে এক বিশাল বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয় এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িসহ নবর্বষের ব্যানার, ফেস্টুন ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে রঙিন সাঁজে সজ্জিত হয়ে নৃত্যের তালে তালে অংশ নেয়। বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কলেজ শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খাঁন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সাংসদ হাসিবুর রহমান স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান।

কুমিল্লা

বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লায় পালিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন কুমিল্লা সদর আসনের এমপি হাজী আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার। এতে অংশ নেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম (বার) পিপিএম, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রতন কুমার সাহা, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জামাল নাছের, কুমিল্লা অজিতগুহ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হাসান ইমাম মজুমদার প্রমুখ। শোভাযাত্রায় নানা রকমের মুখোশ, ঢোল, বাঁশি, হরেক রকমের বাদ্যযন্ত্র, রঙ-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন ও প্লেকার্ড নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজনসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এদিকে জেলার লাকসাম উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে বর্ষবরণ উপলক্ষে সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপারের বাসভবনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নববর্ষ উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়।

শিবালয়

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাটের যমুনা নদীর তীরে এক বৈর্ণাঢ্য বৈশাখী ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘শতদল’ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠণ বিকালে এ ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করে। উক্ত ঘুড়ি উৎসবে কৈইরা, চিলা, পতেঙ্গা, ডোল, ফুল, বিমান, নোকা, প্রজাপতি, কুমির, সাপাসহ বিভিন্ন ধরনের বাহারী রংয়ের ঘুড়ির প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ঘুড়ি উৎসবে ছিল পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন প্রকার ঘুড়ির স্টল। জেলার বিভিন্ন এলাকার মোট ২১৬টি ঘুড়ি নিয়ে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ঘুড়িয়ালরা। ঘুড়ি প্রতিযোগিতা শেষে সন্ধায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরুস্কার বিতরন করা হয়। বৈচিত্রময় এবং দর্শনীয় সেরা ৮৬টি ঘুড়ির ঘুড়িয়ালাদেরকে দেয়া হয় আকর্ষণীয় পুরুস্কার। এদের মধ্যে যৌথভাবে ৬ জনকে দেয়া হয় প্রথম পুরুস্কার। উক্ত ঘুড়ি প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠানে ‘শতদল’ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠণের সভাপতি হাবিবুর রহমান শামীমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্জ আবদুর রহিম খান, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লালন ফকির, সাবেক মাধ্যমিক জেলা শিক্ষা অফিসার ছামসুল আলম, সাবেক প্রধান শিক্ষক আবদুস ছাত্তার, সাবেক সহকারী কৃষি অফিসার নিজাম উদ্দিন, ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সেলিম মিয়া, সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন ও শতদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সৈকত মাহমুদ খান।

গাজীপুর

আবহমান বাঙালি ঐতিহ্য তুলে ধরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গাজীপুরে বাংলা নববর্ষ বরণ করা হয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাজবাড়ি মাঠে বর্ষবরণ সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য মঙ্গলশোভা যাত্রা বের হয়। এতে আংশ নেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর ও পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। গাজীপুর কøাব লিমিটেডের উদ্যোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক। সকালে বর্ষবরণ আনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মো. শহীদউল্যা এবং বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক মো. আয়েশ উদ্দিন, ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলিম উদ্দিন বুদ্দিন, ভাষা শহিদ কলেজের অধ্যক্ষ মুকুল কুমার মল্লিক, আবদুল হাদী শামীম, কাজী মাহবুবুল হক গোলাপ। ভানুয়া সরকারি শিশু পরিবার এর উদ্যোগে বর্ষবরণ উপলক্ষে আলোচনা সভা, কেন্দ্রের মেয়ে শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজ সেবা অধিদপ্তরের পরিচালক(যুগ্ম সচিব) আবদুল্লাহ আল মামুন।জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম আনোয়ারুল করিমের সভাপতিত্বে আনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভাষা শহিদ কলেজের অধ্যক্ষ মুকুল কুমার মল্লিক, কেন্দ্রের উপ-তত্ত্বাবধায়ক ইমনা চৌধুরী, মো.আবু রায়হান, তৌহিদুজ্জামান।

রানীনগর

নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে নওগাঁর রানীনগরে উদযাপিত হয়েছে বাঙালির সর্বজনীন ঐতিহ্যবাহী উৎসব পহেলা বৈশাখ। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল ৮টায় রাণীনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে বিশাল এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। অপরদিকে রানীনগর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে সকাল ১১টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোবাযাত্রাটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রানীনগর প্রেসক্লাবের সভা কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নওগাঁ-৬ (রানীনগর-আত্রাই) আসনের সাংসদ মো. ইসরাফিল আলম’র সহধর্মিনী সুলতানা পারভিন বিউটি। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মামুন, রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) তারিকুল ইসলাম, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান পিন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক কেএম আবু তালেব জলসা, রাণীনগর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওহেদুল ইসলাম মিলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদুজ্জামান সাগর, শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

বদরগঞ্জ

রংপুরের বদরগঞ্জে বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। সকালে স্থানীয় ডাকবাংলো চত্বর থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশ নেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠণের সদস্য এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষক-শিক্ষার্থী। এর আগে ডাকবাংলো চত্বরে তিনব্যাপি বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন, রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সাংসদ আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বী সুইট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাশেদুল হক, পৌর মেয়র উত্তম কুমার সাহা, বদরগঞ্জ থানার ওসি আনিছুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা জাহানুরসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও স্থানীয় ধানহাটি চত্বরে তিনব্যাপি লোকসঙ্গীতের আয়োজন করা হয়েছে। বৈশাখী উদযাপন কমিটির ব্যানারে ওই মেলা ও সঙ্গীতের আয়োজন করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

বান্দরবান

মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বান্দরবানে বাংলা নববর্ষকে বরণ উৎসব পালিত হয়েছে। পাহাড়ি-বাঙালির সম্বলিত অংশগ্রহণে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলন মেলায় পহেলা বৈশাখ পালিত হয়। সকাল ৮টায় রাজার মাঠ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করে জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন, পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার, পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হোসেনসহ সামরিক-বেসামরিক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও শোভাযাত্রায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা নিজস্ব ঐতিহ্যের পোশাকে নেচে-গেয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। তাদের বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুর-মূর্ছনা ও সংস্কৃতিক ভাবধারা প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজস্ব ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।

মেহেরপুর

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে পালিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ। এ উপলক্ষে সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্ত্বর থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন এমপি। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ ড. সামসুজ্জোহা পার্কে গিয়ে শেষ হয়। জেলা প্রশাসক আতাউল গনি, পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম রসুল, পৌর মেয়র মাহাফুজুর রহমান রিটন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলামসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেন। এছাড়াও পান্তা ও লোকজসাংস্কৃতিক উৎসবসহ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে শেষ হয়।

বাগেরহাট

ব্যপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যে দিয়ে বাংলা নতুন বর্ষকে বরণ করে বাগেরহাটবাসী। নববর্ষ উপলক্ষে সকালে বাগেরহাট স্টেডিয়াম থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের শালতলাস্থ জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এসে শেষ হয়। এর আগে স্টেডিয়ামে শোভাযাত্রা পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস, পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম প্রমুখ। জেলা প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন ও শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ব্র্যাক এনজিওসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন শোভাযাত্রায়। শহরের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা নানান সাজে সেজে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রা শেষে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে বাগেরহাট জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম চত্তরে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ।