• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫, ৫ সফর ১৪৪০

ভালাবাসা ও বসন্তের আগে ফুটবে না ফুল

সংবাদ :
  • লিয়াকত আলী বাদল, (রংপুর)

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

image

গোলাপে মোড়ক পরিয়ে কলি করে রাখছেন ফুলচাষি -সংবাদ

আর মাত্র কয়েকদিন দরজায় কড়া নাড়ছে বসন্ত ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। প্রতি বছরই এই দুই দিবস ফুল ব্যবসায়ীদের জন্য ঈদ উৎসবের মতো। কারণ এ সময় প্রচুর ফুল বিক্রয় হয়। বিশেষ করে ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনদের লাল গোলাপ উপহার দেবার রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ফলে বিশেষ করে গোলাপ ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি পায় ব্যাপকভাবে। ফুল চাষিরা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোলাপ ফুল বিক্রি করে বাড়তি টাকা রোজগাড় করেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো গোলাপ ফুল গাছে কলি ফোটার পর পরেই গাছ থেকে গোলাপ ফুল না কেটে নিলে গোলাপের পাতা ঝরে পড়ে। কিন্তু ফুল চাষিরা বসন্ত আর ভালবাসা দিবসের আগে কোনভাবেই গোলাপ ফুল গাছ থেকে কেটে রাখতে চান না শুকিয়ে যাবার ভয়ে। ফলে এবার ফুলচাষিরা নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। যাতে আগাম ফুল ঝরে না না পরে সে জন্য ফুলের কলি বের হবার সঙ্গে সঙ্গে কলিতে ক্যাপ পড়িয়ে দিচ্ছেন ফুল চাষিরা। অন্তত বসন্ত উৎসব আর ভালোবাসা দিবসের আগ পর্যন্ত।

সরজমিন রংপুর নগরীর পান্ডার দীঘি এলাকায় গিয়ে দেখা গেল বিশাল গোলাপ ফুলের বাগান। ফুল চাষি আবদুল কাদের গোলাপের কলিতে ক্যাপ পরিয়ে দিচ্ছেন, যাতে ফুল না ফুটে। তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুরের পর থেকে ফুল কাটা হবে। কিছু ফুল কাটা হবে বসন্তের দিন সকালে। আগাম ফুল কেটে রাখলে শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে এর চাহিদা যেমন থাকেনা তেমনি দাম পাওয়া যায় না। যার কারণে যাতে কলি না ফোটে এবং পাতা না ঝরে না পড়ে সে জন্য তারা কলিতে ক্যাপ পড়িয়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন আগে আমরা রাবার দিয়ে কলি বেঁধে রাখতাম। এতে করে ফুলের পাতা নষ্ট হয়ে যেত। সে কারনে বিশেষ পদ্ধতি মাধ্যমে নিজেই ক্যাপ তৈরি করেছেন কলির মধ্যে লাগিয়ে দেন। ফলে বিক্রি করার আগে ক্যাপ পড়ানো থাকে এতে ফুলের পাতা যেমন ঝরে পড়ে না তেমনি ফুল নষ্ট হয় না। এ পদ্ধতির মাধ্যমে গত দুই বছর ধরে তিনি ফুলের কলিতে ক্যাপ পরিয়ে রাখাছেন বলে জানান। ফুল চাষি কাদের জানান ২০ শতক জমিতে ফুল চাষ করা শুরু করেন। এখন তার জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১শ’ শতকে। তিনি আরও জানান নগরীর চিড়িয়াখানা সড়কের পাশে তার নিজস্ব দোকান রয়েছে। বসন্ত ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে প্রতিটি গোলাপ ২০-২৫ টাকা হিসেবে বিক্রি হয়। এবার যে পরিমাণ গোলাপ ফুল হয়েছে তাতে করে শুধু গোলাপ ফুল বিক্রি করে ২ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করলেন। তিনি জানান রংপুর নগরীতে এখন অনেক ফুলের দোকান তারা তার জমি থেকেই গোলাপ ফুল কিনে নিয়ে যান পাইকারি দরে। হতদরিদ্র কাদের মিয়া ফুল বিক্রি করে এখন জিরো থেকে হিরোতে পরিণত হয়েছেন। তার কলির মধ্যে ক্যাপ লাগিয়ে ফুল রক্ষা করার পদ্ধতি এখন অনেকে ব্যবহার করছেন বলে জানালেন তিনি।